ঢামেকে চিকিৎসাধীন দগ্ধদের অবস্থার অবনতি

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের একজন -সমকাল

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। বুধবার মধ্যরাতে ঘটনার পরপরই আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই একজনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার আরও দু'জনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত আরও তিনজনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। অন্যদেরও আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৯ জনের মধ্যে কেউ শঙ্কামুক্ত নন। সবাইকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। ছয় জনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বাকি তিন জনকেও স্থানান্তর করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে ডা. সেন বলেন, আইসিইউর শয্যা সংকটের কারণে দগ্ধ তিনজনকে এখনও স্থানান্তর করা যায়নি। আইসিইউ থেকে যে কয়জন রোগীকে শিফট করা যাবে, তাদের শিফট করে আমরা এই তিন রোগীকে প্রাধান্য দেব।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, দগ্ধদের সবার শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। তাই তারা সবাই ঝুঁকিপূর্ণ।

বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বার্ন থাকা সোহাগকে হাসপাতালে আনার পরপরই আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার রিয়াজুল ও জাকিরকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তাদের শরীরের যথাক্রমে ৫১ শতাংশ ও ৩৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। শুক্রবার মোজাফফর, আনোয়ার ও মাহমুদুলকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তাদের শরীরের যথাক্রমে ৩০, ২৮ ও ১৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। হেলাল, সেলিম এবং সালাউদ্দিনকেও আইসিইউতে স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে। হেলালের ১৬ শতাংশ, সেলিমের ১৪ শতাংশ এবং সালাউদ্দিনের শরীরের ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের পর ঢামেক বার্ন ইউনিটে মোট ১৮ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ৯ জন চিকিৎসা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন। ভর্তি থাকা ৯ জন এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের পরপর ঢামেক হাসপাতালে আরও ৪০ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ৩০ জন রাতেই ফিরে গেছেন। অন্য ১০ জনও চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার সকালে ফিরে যান।