রাজধানী

মন্ত্রিসভায় প্রাণিকল্যাণ আইন অনুমোদন

কুকুর ২৪ ঘণ্টা বেঁধে রাখলে জেল-জরিমানা

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতীকী ছবি

চলাফেরার সুযোগ না দিয়ে কুকুরকে একটানা ২৪ ঘণ্টা বেঁধে বা আটকে রাখলে তা নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধ করলে অথবা অপরাধ করতে কেউ সহায়তা করলে তাকে অনধিক ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক দশ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

এমন বিধান রেখে 'প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৮'-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ আইন অনুমোদন হয়। সভা শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে- 'কুকুরকে শরীরচর্চার জন্য কোনো ধরনের চলাফেরার সুযোগ প্রদান না করিয়ে একাধারে ২৪ ঘণ্টা বা ততোধিক সময় বাঁধিয়া বা আটকাইয়া রাখা হয়- এটা নিষ্ঠুরতা বলিয়া গণ্য হবে।'

তিনি বলেন, ১৯২০ সালের পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নিরোধ আইনের ভিত্তিতে নতুন আইন করা হচ্ছে। প্রত্যেক প্রাণীর মালিক বা তত্ত্বাবধানকারীর দায়িত্ব হবে যৌক্তিক কারণ ব্যতীত প্রাণীর প্রতি কল্যাণকর ও মানবিক আচরণ করা এবং নিষ্ঠুর আচরণ করা থেকে বিরত থাকা।'

তিনি আরও বলেন, খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রাণী জবাইকালে এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উৎসর্গকালে যে কোনো ধর্মালম্বী ব্যক্তি নিজস্ব ধর্মীয় আচার অনুযায়ী কোনো কার্যক্রম করলে তা নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হবে না। এ ছাড়া যুক্তিযুক্ত প্রয়োজনে ভেটিরিয়ান সার্জনের লিখিত পরামর্শ ও পদ্ধতি অনুসরণ করে কোনো প্রাণীর অজ্ঞান ও ব্যথাহীন মৃত্যু ঘটানো হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইন লঙ্ঘন করে কেউ অপরাধ করলে বা কোনো অপরাধে সহায়তা করলে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। আগের আইনে বিভিন্ন অপরাধের জন্য তিন মাসের জেল এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হতো। আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হলে এই আইনের আওতায় অপরাধের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে। তবে তার আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের তফসিলে তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।