‘সরকার জেদ করে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে’

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

‘কিসের তাড়নায় সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ করছে? এটা শুধু সরকারের একটা জেদ। রামপাল প্রকল্প বাতিল করুন, সুন্দরবন বিরোধী সকল স্থাপনা উৎখাত করুন এবং বনের প্রাকৃতিক চরিত্র সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধ করতে সঠিক পদক্ষেপ নিন। দেশে যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান (কয়লার) বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ তৈরি করুন। সুন্দরবন রক্ষায় সরকারের পাশেই আছি। তবে সরকার নির্বিকার হলে, চাপ সৃষ্টি করতে বনকে 'বিপদাপন্ন তালিকাভুক্ত' করার আন্দোলন হবে।’

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে 'ইউনেস্কোর ২০১৭ সনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে সুন্দরবনের বর্তমান অবস্থা' শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সুলতানা কামাল বলেন, সম্প্রতি যারা সুন্দর বন ঘুরে এসেছেন-সেই পর্যটকরা বলছেন, সুন্দরবনের দৃশ্য করুণ। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, গাছ লাগাইয়া সুন্দরবন পয়দা করি নাই। সুন্দরবন রক্ষা করতে হবে। অথচ তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী ভুল করছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকেও বিষয়টি জানতে পারতেন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের কাছে বার বার আবেদন করছি। ১৩টি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাসম্বলিত রিপোর্ট দিয়েছি। কিন্তু উত্তর পাচ্ছি না। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাজ করে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও মধ্যে বক্তৃতা করেন উদ্ভিদ বিজ্ঞানী অধ্যাপক মোঃ আব্দুল আজিজ ও ভূ-তত্ববিদ অধ্যাপক বদরুল ইমাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল মতিন।

অধ্যাপক মোঃ আব্দুল আজিজ বলেন, রামপাল প্রকল্প করতে চাইলে ২৫ কি.মি. পূর্বে করেন। তা হলেও অনেক ক্ষতি কম হবে, কিন্তু সরকার এ কথায় কান না দিয়ে আগের স্থানেই এ প্রকল্প করছেন। দেশের অর্থনীতি ও জনগণকে ধ্বংস করে সরকার কাকে খুশি করতে চাইছেন, তা বোধগম্য নয়।

অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, সুন্দরবনের রামপাল প্রকল্প একটা অস্বচ্ছ প্রকল্প। এতে যে ক্ষতি হবে, তা পুষে নেওয়ার মতো নয়।

অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় ক্যাডার বাহিনী অত্যাচার করে হিন্দু সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করে রামপাল প্রকল্পের কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভা এ বছর আবারও বসবে। সভায় সুন্দরবন রক্ষায় ২০১৭ সালে দেওয়া তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকার কী করেছেন তা মূল্যায়ন করা হবে।

বিষয় : সুলতানা কামাল সুন্দরবন রামপাল