দুর্ঘটনা বন্ধের স্বার্থে পথচারীকেও আটক করা হবে: ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০১৯     আপডেট: ২১ মার্চ ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া- ফাইল ছবি

পথচারীরা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হলে তাদেরও আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।  বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও সচেতনতা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রাফিক পুলিশকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, মেধাবী ছাত্র আবরারের মৃত্যু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আমরা সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারিনি। এই ব্যর্থতা আমাদের সবার। এর দায়ভার কেউ এড়াতে পারেন না। আবরারকে চাপা দেওয়া সুপ্রভাত বাসটির বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা ছিল বলে জানান তিনি। অন্য রুটে চলাচলের অনুমোদন ছিল বাসটির।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ঢাকায় আগামী মাসের এক তারিখ থেকে কাউন্টারভিত্তিক বাস সার্ভিস চালু হবে। যাত্রীরা শুধু কাউন্টার থেকেই টিকিট কেটে বাসে উঠতে পারবেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা হলেই পুলিশ আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ায়। এটার পরিবর্তন দরকার। ট্রাফিক ব্যবস্থায় কিছু পদক্ষেপ নিতেই হবে। চলন্ত বাসের দরজা বন্ধ রাখতে হবে। স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠা-নামা করা যাবে না। ট্রাফিক বিভাগের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো পরিবহন যদি এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে যেখানে-সেখানে বাস থামায় এবং যাত্রী ওঠা-নামা করায় ও দুর্ঘটনার কারণ হয়, তাহলে ওই পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ যদি পথচারী হয়, ভিডিও করে রাখেন, আটক করেন পথচারীকে। আইনগত ব্যবস্থা নিন। আটক করে মিডিয়াকে দেখান, দেশের মানুষকে দেখান- ফুট ওভারব্রিজ কিংবা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারপারের সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে। মালিক-শ্রমিকের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, পথচারীরও দায়িত্ব আছে।

ঢাকা মহানগরে ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় বাস চলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পরিবহন মালিকদের উদ্দেশে বলেন, ড্রাইভারকে চুক্তিভিত্তিক গাড়ি দেওয়া যাবে না। এটি বন্ধ করতে হবে। রঙচটা, ফিটনেসবিহীন ও মডেল আউট কোনো গাড়ি ঢাকা শহরে চলতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার প্রধান সমস্যা চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানো। চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানোর ফলে সড়কে যানজটসহ ঘটছে দুর্ঘটনা।

বাংলাদেশ পরিবহন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা হলে আমরা সবাই একতরফা ড্রাইভারকে দোষী সাব্যস্ত করি। সড়কে চলাচলে আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের শিক্ষা জীবনে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কোনো শিক্ষা দেওয়া হয় না। সে জন্য ট্রাফিক আইন সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পাঠ্যপুস্তকে ট্রাফিক আইন অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।