ব্যাংক বুথে নিরাপত্তা কর্মী খুন

শামীমের দাফনেও অংশ নেয় জড়িত কফিল

প্রকাশ: ২০ মে ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমকাল প্রতিবেদক

মো. কফিল

রাজধানীর বারিধারা এলাকায় যমুনা ব্যাংকের বুথে নিরাপত্তা কর্মী মো. শামীমকে খুন করেছিল তারই সহকর্মী মো. কফিল। গত বুধবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে তাকে। গত ২১ জানুয়ারি ভোরে শামীমকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়েছিল কফিল নিজেই। দাফনের পর সহকর্মী হারানোয় কান্নাও জুড়ে দিয়েছিল সে। নিহত শামীম (২২) ও খুনে জড়িত কফিলের বাড়ি কুড়িগ্রামের একই এলাকায়। তারা উভয়েই বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা 'এলিট ফোর্সে' চাকরি করত। শামীম যমুনা ব্যাংকের বুথে, কফিল ইউসিবি বুথে। পিবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শামীম ও কফিল ভাটারায় একই এলাকায় থাকত। ওই এলাকার এক চায়ের দোকানির বোনের সঙ্গে কফিলের বিয়ে প্রায় চূড়ান্ত হয়। তখন মেয়েপক্ষ পূর্বপরিচিত শামীমের কাছে কফিল সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বিয়ে ভেঙে দিতে কফিলের বিপক্ষে তথ্য দেয়। তাছাড়া কফিল এক সময় শামীমের সঙ্গে একই বাসায় থাকত। এক পর্যায়ে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। ওই দুটি কারণে শামীমের ওপর ক্ষিপ্ত থাকায় তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে কফিল।

লাশ উদ্ধারের পর শামীমের বাবা নজরুল ইসলাম ভাটারা থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর থানা পুলিশ শামীমের সঙ্গে পূর্বশত্রুতা থাকায় তার সহকর্মী ফারুক, শাহীন আলম, রহিম ও রাজীব নামে চারজনকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে তথ্য না পাওয়ায় হত্যারহস্য অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে গত মার্চ মাসে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে ঘটনাটি নিজেদের তফসিলভুক্ত থাকায় গত ৩ এপ্রিল মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

মামলাটির তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসপি (ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণ) শাহাদাত হোসেন বলেন, 'কফিল ব্যাংক বুথের ভেতর শামীমকে খুনের পর ভেতরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলে। কিন্তু খুনের দৃশ্যের সব ফুটেজই সার্ভারে থেকে যায়। এসব ফুটেজ বিশ্নেষণ করে কফিলকে শনাক্ত করা হয়। কিন্তু সে খুন করে শামীমের লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি গিয়ে আর নিজের চাকরিতে যোগ দেয়নি। সন্দেহ এড়াতে প্রতিবেশী কফিল শামীমকে দাফনসহ অন্যান্য কাজও করে। সহকর্মী হারিয়ে কান্না জুড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিগত তদন্তে তার সেই কান্না মায়াকান্না হিসেবে প্রমাণ হয়। ২০১৮ সালে শামীমই কফিলকে এলিট ফোর্সে চাকরি দিয়েছিল।'

পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, গত বুধবার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার পূর্ব ধনিরাম গ্রামে নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় কফিলকে। এরপর তাকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার কথা স্বীকার করে। আদালতেও ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে কফিল জানিয়েছে, শামীমকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে সে।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক পুলক সরকার জানান, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে শামীমকে দায়ী করে আসছিল কফিল। এরপর তাকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু করে। এক পর্যায়ে হাতুড়ি, মুখোশ ও সাদা জামা কেনে। ঘটনার রাতে ইউসিবি বুথে দায়িত্ব পালন শেষে কফিল নিজের প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম খুলে সাদা জামা ও মুখোশ পরে যমুনা ব্যাংকের বুথে যায়। ভোরের দিকে ঘুমন্ত শামীমকে সে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। এরপর অন্য পথে নিজের কর্মস্থলে ফিরে ডিউটি ইউনিফর্ম পরে। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, একমাত্র আসামির দেওয়া তথ্যমতে শামীম হত্যায় ব্যবহূত হাতুড়ি, জামা, ব্যাগসহ বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।