গয়নায় ঈদ আনন্দ

প্রকাশ: ২৫ মে ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সাজিদা ইসলাম পারুল

শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় গয়নায় নজর তরুণীদের। শুক্রবার রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেট থেকে তোলা ছবি— সমকাল

নিজেকে রাঙাতে নতুন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গয়না পরা না হলে ঈদের আনন্দ যেন অসম্পূর্ণই রয়ে যায়। তাই পোশাক-জুতা কেনাকাটার পর নারীরা ছোটেন অলঙ্কারের দোকানে। শুধু নিজে পরতে নয়, ঈদ উপলক্ষে অনেকেই প্রিয়জনকে উপহার দেন গয়না। এমনকি পুরুষেরও ভিড় দেখা যায় ফুটপাতসহ বিপণিবিতানের বিভিন্ন গয়নার দোকানে।

বেশ কয়েক বছর ধরে সোনা-রুপার গয়নার পাশাপাশি পুঁঁতি, কড়ি, শেল, সুতা, কাঠ, পিতলসহ নানা ধরনের গয়নার প্রচলন ঘটেছে। এবারের ঈদে এসব উপকরণের সম্মিলিত ব্যবহারে নতুন ডিজাইনের গয়না এনেছেন ব্যবসায়ীরা। কাঠ, পোড়ামাটি, শেল ও চুমকির ব্যবহারে বিভিন্ন মোটিফের গয়না সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে। অনেক গয়নায় স্থান পেয়েছে দেশি পাখি, ফুল ও প্রকৃতির মোটিফ ও নকশা। পাশাপাশি রয়েছে সনাতনি নকশার কানের দুল, হাতের বালা, খোপার কাঁটা, আংটি, পায়ের নূপুর, পায়ের আজুলে পরার আংটি, কোমরের বিছা আর টিকলি।

ঈদকে কেন্দ্র করে গয়না কিনতে গাউছিয়ায় এসেছিলেন উত্তরার বাসিন্দা হোসনে আরা। ভিড় ঠেলে গয়নার শোরুমে ঢুকে ম্যাচিং করে কিনেছেন চুড়ি আর গয়না। পিতলের গয়নায় ছোট ছোট পাথরের কাজ। তিনি জানান, নতুন নতুন ডিজাইনের গয়না হলেও দোকানিরা যে দাম হাঁকছেন, তা অনেক বেশি। অবশ্য দরাদরিতে মিলছে অনেক কমেই। চাঁদনিচকের দোকান ঘুরে গয়না কিনছিলেন বাড্ডার

বাসিন্দা আয়েশা নাদিয়া। তিনি জানান, কাঠের গয়নায় নান্দনিকতার ছোঁয়া আছে। তাই সেটাই কিনেছেন তিনি। আরেকজন ক্রেতা নাজির আহমেদ বলেন, 'গয়নার তেমন কিছু বুঝি না। তবে এক বন্ধুকে ঈদ উপলক্ষে গয়না গিফট করছি। দাম যা বলেছে, তা দিয়েই কিনে নিয়েছি।'

ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটের রতন ভিউ অ্যান্টিক জুয়েলারির কর্মী মহিউদ্দিন বলেন, দামি ধাতুর বদলে দস্তা, পিতল ও সংকর ধাতুর গয়না সাজগোজে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। গাউছিয়া, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক ও চন্দ্রিমার বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে ৫০ বা ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ বা দুই হাজার ৫০০ টাকার মধ্যেই দুল, আংটি, চোকার, হার, লকেট এসব পাওয়া যাচ্ছে।

বসুন্ধরা শপিং মলের বিশ্বরঙের ম্যানেজার আকাশ সাহা বলেন, 'তরুণীরা সব সময়ই পোশাকের ক্ষেত্রে নতুনত্ব ও সমসাময়িক ডিজাইন চায়। গয়না বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও বেশ সচেতন তারা। তাই এখন প্রতি ঈদেই গয়নার নকশায়ও পরিবর্তন আনতে হয়।' ঈদ যেহেতু ভ্যাপসা গরমের মধ্যে হবে, তাই আরাম আর স্বস্তির কথা মাথায় রেখেই বিশ্বরঙ এবার গয়নায় পরিবর্তন এনেছে বলে জানান তিনি। বিশ্বরঙের আনা সোনালি, রোজগোল্ড, মেটাল, তামা ও পিতলের গয়না বেশ চলছে। এসব গয়নায় নানা নকশা ঘিরে নানা রঙের পাথরও ব্যবহার করা হয়েছে।

নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, বায়তুল মোকাররম, তাঁতীবাজার এবং প্রসিদ্ধ গয়নার দোকানগুলোতে মিলছে রুপার গয়না। এবার রুপার গয়না মিলছে গোল্ড প্লেট, কপার ও অ্যান্টিক-এই তিনরূপে। বৈচিত্র্য আনতে ডিজাইনররা এগুলোর নতুন ডিজাইনে প্রচুর মুক্তাও ব্যবহার করেছেন। উৎসবকেন্দ্রিক গয়নার পাশাপাশি এবার দোকানিরা কর্মস্থলে পরার উপযোগী ছোট নকশার গয়নার পসরাও সাজিয়েছেন। এসব গয়নার প্রকারভেদে খরচ পড়বে ৩০০ থেকে দশ হাজার টাকা।

চাঁদনী চকে রুপার জুয়েলারির দোকানে আসা কামরুন নাহার লায়লা বলেন, নীল শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে পরার জন্য রুপার গয়না বেছে নিয়েছেন। নীলা পাথর ও মুক্তার ব্যবহার রয়েছে এতে। গয়নার পাশাপাশি এবার রুপার নূপুরও কিনেছেন তিনি।