কারুপল্লীর পোশাকে দেশীয় ছোঁয়া

প্রকাশ: ২৭ মে ২০১৯     আপডেট: ২৭ মে ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সাজিদা ইসলাম পারুল

কারুপল্লীতে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ততা— সমকাল

ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটছে 'কারুপল্লী'র কারিগরদের। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পল্লী ভবনের নিচতলায় এর পাঞ্জাবি তৈরির ঘরে সেলাই মেশিন চলছে। দিন-রাত ক্লান্তিহীন মেশিনের চাকা ঘুরাচ্ছেন কারিগররা। রঙ-বেরঙের কাপড়ে হচ্ছে সুতার কাজ। সেই সঙ্গে বিভিন্ন নকশার লেইস বসানো হচ্ছে পাঞ্জাবিতে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। দম ফেলার ফুরসত নেই কারও। পাঞ্জাবির পাশাপাশি এসব কারখানায় প্যান্ট-শার্ট, থ্রি-পিস থেকে শুরু করে ছোটদের পোশাকও তৈরি হচ্ছে। দেশীয় ঐতিহ্য প্রাধান্য পাচ্ছে এসব পোশাকে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আহমেদ মাহসুদুল হাসান সমকালকে বলেন, রাজধানীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় কারুপল্লীর পণ্য তৈরি হয়। তবে ভবনটির নিজস্ব কারখানায় এখন কাজের চাপ বেশি। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় ক্রেতার চাপও বেড়েছে। দিন-রাত টানা কাজ করছেন কারুপল্লীর এই ভবনের ৬ জন কারিগর। কারখানায় পাঞ্জাবি তৈরির পাশাপাশি অন্যান্য পোশাকও তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা- এ দুটি বড় উৎসবে পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনে থাকেন ক্রেতারা। কারুপল্লীও ক্রেতাদের বিষয় মাথায়  রেখে বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে ছাড় দিয়ে থাকে। পরিবর্তন আনে ডিজাইনে। তবে ঈদে ছাড় না থাকলেও প্রতিটা পণ্যের দাম তুলনামূলক ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম রাখা হয়।

জানা যায়, রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাশাপাশি আব্দুল্লাহপুর এবং যশোর ও খুলনায় কারুপল্লীর চারটি শোরুম রয়েছে। এসব শোরুমে পণ্য সরবরাহ করার জন্য বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সমবায়ীদের দ্বারা দেশীয় তাঁতের শাড়ি, থ্রি-পিস, ফতুয়া, শার্ট, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক, ঘর সাজানো, উপহার সামগ্রীসহ বিভিন্ন কারুপণ্য তৈরি করা হয়। রাজধানীর ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পুরান ঢাকার উর্দু রোড, কামরাঙ্গীরচর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ীর পাশাপাশি জামালপুর ও যশোরের মনিরামপুরে নিজস্ব কারখানায় পোশাকসহ নানারকম পণ্য তৈরি করা হয়। প্রত্যেক কারখানায় এসব পণ্য তৈরি করেন ১৫ থেকে ২০ জন কারিগর।

এদিকে, কারওয়ান বাজারের শোরুমে ঈদ উপলক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও কাজ করছেন বিক্রয়কর্মীরা। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এখানকার বিক্রয় কার্যক্রম চলে। নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সব ক্রেতার বিষয় মাথায় রেখেই এখানকার পণ্যের পসরা সাজানো হয়েছে।

কারুপল্লী ঘুরে দেখা যায়, ঈদের পোশাকের মধ্যে আছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাক। এসব পোশাকের রঙ ও নকশায় রয়েছে ঈদের আমেজ।

কারুপল্লীর ডিজাইনার সৈয়দা নাজিয়া তাবাসসুম জানান, বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে লোক ও কারুশিল্পের অবস্থান মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। কায়িক শ্রম ও নান্দনিক কৌশলে পণ্যের সৌন্দর্য ও কারুমণ্ডিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা কাজ করি। তিনি জানান, দেশীয় ঢং আর দেশীয় রঙে কারুপল্লীর পণ্য তৈরি করা হয়। কাপড়ের মানও ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়। ফলে বছরের প্রতিটি সময়েই এখানে ক্রেতার ভিড় থাকে।

কারুপল্লীতে ঈদের জন্য বিশেভাবে তৈরি কটি পাওয়া যাচ্ছে আড়াই হাজার টাকায়। এ ছাড়াও বলাকা সিল্ক্কের শার্ট ২ হাজার ১৯০ টাকা, জামদানি শাড়ি ৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৮ হাজার টাকা, সুতি ও সিল্ক্কের তৈরি পাঞ্জাবি ১ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শিশুদের পাঞ্জাবি সেট পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়াও ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে হরেক রকমের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে সুলভ মূল্যে।

কারুপল্লীর শোরুমের হিসাবরক্ষক তাসলিমা আক্তার জানান, এখানকার পণ্যের মান অনুযায়ী দাম তুলনামূলক কম। সে জন্যই কারুপল্লীর পণ্যের ওপর সবার আস্থা বেশি।

কারুপল্লী নিজস্ব শোরুমের ঈদের পোশাক তৈরির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বাইরের অনেক নামি-দামি ফ্যাশন হাউসের কাজও করে থাকে। চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের ফ্যাশন হাউস 'আরবানা'র কর্ণধার জসিম উদ্দীন সম্প্রতি নিজস্ব ডিজাইনে কারুপল্লী থেকে ৫০টি পাঞ্জাবি তৈরি করিয়েছেন। তিনি সমকালকে বলেন, টেকসই ও মানে উন্নত বলেই কারুপল্লীর নিজস্ব কারখানা থেকে পাঞ্জাবি তৈরি করিয়েছি। তবে ডিজাইন আরবানার আঙ্গিকেই করা। দামও রাখা হয়েছে তুলনামূলক কম।