ঐতিহ্যের ছোঁয়া দেশীদশে

প্রকাশ: ১৩ মে ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

দীপন নন্দী

রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে ফ্যাশন হাউসের সম্মিলিত ব্র্যান্ড দেশীদশের শোরুমে পোশাক পছন্দ করছেন ক্রেতারা। রোববারের ছবি- মাহবুব হোসেন নবীন

কর্মব্যস্ত জীবনে সময়ের বড় অভাব। আগের মতো ঘুরেফিরে কেনাকাটা করাটা বেশ দুস্কর। তবে ঈদ এলে নতুন পোশাক না কিনলে তো চলে না। ফ্যাশন সচেতন তবে ব্যস্ত এসব মানুষের কেনাকাটা সহজ করে তুলতে ২০০৯ সালে বসুন্ধরা সিটির সাত তলায় যাত্রা শুরু করে দেশীয় দশ ফ্যাশন হাউসের সম্মিলিত ব্র্যান্ড দেশীদশ।

দেশীদশের দশটি ফ্যাশন হাউস হলো– সাদাকালো, নগরদোলা, বাংলার মেলা, কে-ক্র্যাফট, নিপুণ, বিবিআনা, অঞ্জন'স, দেশাল, রঙ এবং সৃষ্টি। চলতি বছর যার দশকপূর্তি হচ্ছে। বরাবরের মতো এবারও দেশীদশের দশটি ফ্যাশন হাউসই বর্ণিল সব ঈদের পোশাক নিয়ে হাজির হয়েছে। আর তা দেখতে ও কিনতে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের।

রোববার বিকেলের দিকে দেশীদশ ঘুরে দেখা গেল, উৎসবের পুরো রঙটাই ছুঁয়ে আছে বিশাল পরিসরের জায়গাটিতে। প্রবেশ মুখে সাদাকালোর আউটলেট। সাদা আর কালোর মিশেলে তাদের সব পোশাক। আর বাকি নয় ফ্যাশন হাউসজুড়ে সব রঙের সমারোহ, যার প্রতিটিরই রয়েছে নিজস্ব সংগ্রহ এবং  আয়োজনের ভিন্নতা। সবাই নিজেদের নতুন নতুন কালেকশন সাজিয়ে রেখেছেন ক্রেতাদের জন্য। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া নজর কাড়ে। এক ছাদের নিচে দশ ফ্যাশন হাউসের কারণে সহজেই কেনাকাটা করতে পারছেন ক্রেতারা। এক আউটলেট থেকে বেরিয়ে আরেক আউটলেটে প্রবেশ করছিলেন তারা।

কথা হচ্ছিল সাদাকালোর বিপণন কর্মকর্তা নবনীতা কর্মকারের সঙ্গে। তিনি বললেন, এবার বিক্রি প্রথম থেকেই বেশ ভালো। বিশেষ করে 'প্রথম শুক্রবার' হিসেবে বিক্রি ভালো হয়েছে। আশা করি, সামনের দিনগুলোতে বিক্রি আরও ভালো হবে।

তিনি জানান, এক হাজার ৮৫০ থেকে তিন হাজার ৫৫০ টাকার মধ্যে সালোয়ার-কামিজ, এক হাজার ৮৫০ থেকে ১৩ হাজার ৮৫০ টাকার মধ্যে শাড়ি এবং এক হাজার ১৫০ থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে ছেলেদের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে।

সাদাকালোর বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে 'যুগল'-এর তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু স্বামী-স্ত্রী নয়, বাবা-ছেলে, মা-মেয়ে; পরিবারের সবার একসঙ্গে একই নকশার কাপড় কেনার সুযোগ রয়েছে সাদাকালোয়। এর পাশাপাশি রয়েছে গহনা ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রীও।

বর্ণিল সব পোশাক নিয়ে নিপুণ সাজিয়েছে এবারের ঈদের কালেকশন। এর ব্যবস্থাপক মেজবাউর রহমান বলেন, এবার প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঈদ হবে। সেটিকে মাথায় রেখেই পোশাকের নকশা করা হয়েছে। তবে এখনও সে অর্থে বেচাকেনা জমেনি। রমজানের প্রথম দিকে বেচাবিক্রি একটু ঢিমেতালেই হয়। তবে শুক্রবারে ভালো বিক্রি হয়েছে।

তিনি জানান, দুই হাজার ৫৫০ থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে সালোয়ার-কামিজ, এক হাজার ২৯০ থেকে দুই হাজার ১৫০ টাকার মধ্যে টপস, এক হাজার থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে শাড়ি এবং এক হাজার থেকে দুই হাজার ৮৯০ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে।

এবারে দেশীদশের কালেকশনে ভিন্নতাও রয়েছে। দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি দেশীদশের দশটি ফ্যাশন হাউসই কো-ব্র্যান্ড এনেছে বাজারে। যার মাধ্যমে দেশীয় পোশাকে তুলে ধরা হয়েছে আন্তর্জাতিক স্টাইল। নিপুণের কো-ব্র্যান্ড মাকু, কে-ক্র্যাফটের কো-ব্র্যান্ড ইয়াংকে, অঞ্জনসের কো-ব্র্যান্ড আর্ট অব ব্লু, রঙ বাংলাদেশের ওয়েস্টরঙ, বাংলার মেলার বাংলাহাট, সাদাকালোর বিয়ন্ড সাদাকালো, বিবিয়ানার বালিকাবেলা, দেশালের এসেন্স অব দেশাল, নগরদোলার ব্লক টাচ এবং সৃষ্টির প্রিন্টক্র্যাফট।

এবারের সার্বিক বাজার নিয়ে দেশীদশের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, 'এবার শুরু থেকেই বেচাবিক্রি ভালো। আমরা প্রতিটি ফ্যাশন হাউসের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, গতবারের চেয়ে বিক্রি ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা।'