৭৫ প্রজাতির আম ও বিলুপ্ত ফলের গন্ধে মুখর ফলমেলা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০১৯     আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ছবি: সমকাল

নতুন জাতের আম কাটি মন, বারি আম-১১ ও ব্রুনাই কিং। বারো মাসেই ফল দেয় এই তিন জাতের আম। আর ব্রুনাই কিং জাতের একটি আমের ওজন হয় তিন থেকে পাঁচ কেজি। বাণিজ্যিকভাবে এ আম চাষে সফল চাষিরা। রোববার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফলমেলায় গিয়ে দেখা যায়, বৃন্দাবনী, সুবর্ণরেখা, গৌরমতী, সূর্যপুরী, বালিশ আমসহ পঁচাত্তর জাতের আমের পসরা সাজানো হয়েছে। শহুরে মানুষের শৌখিন কেনাকাটার তালিকায় প্রথমেই এসব নতুন জাতের আম দেখা যায়। ফলের ধরন আর গুণে মুগ্ধ হয়ে আম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন চাষিরাও। নাটোর থেকে আসা এমনই এক আমচাষি শওকত হোসেন। তিনি বলেন, 'আগামীতে কাটি মন ও বারি আম-১১ চাষ করব। কারণ, কাটি মন ও বারি আম-১১ বারো মাস ফল দেয়। ফলে বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়া যাবে।'

রোববার থেকে রাজধানীতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে শুরু হয়েছে নানা জাতের নতুন ফল নিয়ে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল প্রদর্শনী-২০১৯। অনাড়ম্বর এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে আ. কা. মু. গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটরিয়াম চত্বরে জাতীয় ফল প্রদর্শনী ও জাতীয় ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষের উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। প্রদর্শনী চলবে ১৮ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। জাতীয় ফলমেলায় সাতটি সরকারি ও ৫৭টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট ৮৪টি স্টল রয়েছে।

এদিকে, নতুন প্রজাতির ফলের পাশাপাশি মেলায় সাজানো হয়েছে বিলুপ্ত অনেক ফলের পসরা। বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে 'ময়না' নামে একটি ফল দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে দর্শনার্থীদের। এ ছাড়া বিলুপ্তপ্রায় বাউফল, খুদে জাম, টিপাফল, সফেদা, ডেউয়া, দেশি গাব, বন কাঁঠালসহ নানা ধরনের দেশি ফলের দেখা মিলেছে এ প্রদর্শনীতে। পরিকল্পিত চাষাবাদে এসব ফল আবার পাওয়া যাচ্ছে দেশের গ্রামগঞ্জ ও শহরের বাজারে। প্রদর্শনীতে দেশি ফলের বাইরে বিদেশি ফল ড্রাগন, রাম্বুটান, স্ট্রবেরি, মাল্টা, লংগন, অ্যাভোকাডো, মিষ্টি তেঁতুলও দেখা গেছে।

ছবি: সমকাল

উদ্বোধনী বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী বলেন, 'ফল উৎপাদনে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি। অনেক ফল আছে, যেগুলো সারাবছর ধরে চাষ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বিদেশি ফলও চাষ হচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, দেশি ফলের পুষ্টিমান যেমন রয়েছে, তেমনি সবার কাছে সমাদৃত। এ ফলমেলা সবার সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে তিনি জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কৃষিবিদ আবদুল মান্নান বলেন, 'কৃষিতে আমরা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছি। খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক ফসলহানি ঘটে থাকে। শস্যবীমা চালু হলে যে মানুষটি নিঃস্ব হয়ে যায়, তখন সে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। কৃষক যেটাতে লাভ বেশি পাবে, সেটাই চাষ করবে।'

চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, 'ফল চাষ সম্প্রসারণের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা দেওয়া জরুরি। একটি কাঠামো করা দরকার। এ ক্ষেত্রে নার্সারি নীতিমালাকে কঠিনভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কারণ, অনেক সময় নিম্নমানের চারা কলম কিনে ভোক্তা প্রতারিত হয়ে থাকে। বিদেশি ফল চাষের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। কারণ, বিদেশ থেকে একটা সায়ন বা একটা ডাল/বীজ নিয়ে এসে এ দেশে বিভিন্নভাবে প্রমোট করা হচ্ছে। এটা দেশের জন্য কোনো বিপর্যয় আনবে কি-না, তা নিয়ে গবেষণা করাও দরকার।' এ সময় তিনি গবেষণা করে মানসম্মত জাত ও সিলেকশন জাতগুলো মাঠ পর্যায়ে প্রসারিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেন।

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) মদন গোপাল সাহা। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এম এনামুল হক এবং সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের এপিএ পুলের সদস্য মো. হামিদুর রহমান।

এর আগে 'পরিকল্পিত ফল চাষ যোগাবে পুষ্টিসম্মত খাবার' প্রতিপাদ্যে ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী-২০১৯ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে আ. কা. মু. গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটরিয়াম চত্বরে শেষ হয়।