সুগন্ধির দাম পৌনে চার লাখ টাকা

প্রকাশ: ০২ জুন ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

দীপন নন্দী

নতুন পোশাক কেনা প্রায় শেষ। এখন ভিড় জমছে আতর, টুপি আর জায়নামাজের দোকানে। পাশাপাশি সুরমা আর তসবিহও কিনছেন অনেকে। সব বয়সের ক্রেতার চাহিদা মাথায় রেখে নিজেদের সম্ভার সাজিয়েছেন দোকানিরা। বড় বড় বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানে দোকানে এখন আতর-টুপি কেনার ভিড়। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট, গুলিস্তান, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, মৌচাক মার্কেট, কাকরাইল মসজিদ মার্কেটসহ পুরো রাজধানীর সবখানেই পাওয়া যাচ্ছে ঈদের নামাজের এই প্রধান অনুষঙ্গ।

গতবারই রোজার মধ্যে সমকালে খবর প্রকাশ পেয়েছিল বিশ্বখ্যাত সুগন্ধির দোকান আল-হারামাইনে মিলছে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা দামের সুগন্ধি। সে খবরটি মাথায় রেখে আল-হারামাইনের বসুন্ধরা সিটির আউটলেটে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ম্যাজেস্টিক কালেকশন নামের ৩৬ মিলির ওই সুগন্ধিটি এবারও রয়েছে। সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে তিন লাখ ৬৫ হাজার টাকা দামের ১৪৪ মিলির ইম্প্রেস অব পারফিউমস। তবে এগুলোর ক্রেতা খুবই নির্দিষ্ট বলে জানালেন আল-হারামাইনের নির্বাহী পরিচালক সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, এর বাইরে নানা ধরনের আতর ও সুগন্ধি রয়েছে তাদের কাছে। যার মধ্যে দুই হাজার থেকে দশ হাজার টাকার আতর ও সুগন্ধি বেশি বিক্রি হচ্ছে।

আল-হারামাইনের বসুন্ধরা সিটি আউটলেটের ব্যবস্থাপক আশিফুল বাশার মঈন সমকালকে বলেন, ওই দামি দুটি সুগন্ধি মিলছে প্রতিষ্ঠানটির যমুনা ফিউচার পার্কের তিনটি আউটলেটেও। বসুন্ধরা সিটি আউটলেটে ভালো বিক্রি হওয়া আতরের মধ্যে রয়েছে ডেলিকেট, কাসমা ব্লু, তানাসুক, বামনা নোয়ার, নাজম, সলিটিউর, ডায়মন্ড, দেহনাল উদ সেফি, শেখ, হায়াতি। সম্পূর্ণ অ্যালকোহলমুক্ত এসব আতর বছরের সব সময়ই ভালো বিক্রি হয়। তবে ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে।

বসুন্ধরা সিটিতে আল-মাসক আতর দোকানে পাওয়া যাচ্ছে ১৬ হাজার টাকা তোলার আল-উদ আতর। এটি আমদানি করা হয় সৌদি আরব থেকে। এর জন্ম বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে। সিলেটের আগর  সৌদি আরবে আরও রিফাইন হওয়ার পর বাংলাদেশে আসে আল-উদ আতর নামে। এই আতরের তোলা দুই হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

এর পাশাপাশি ভালো বিক্রি হওয়া আতরের মধ্যে রয়েছে আল-থোরাইয়া, বাখুরখজ, আসিম, আতিফা, জান্নাতুল ফেরদৌস, জিজিয়ান, জান্নাতুল নাঈম, মোখাল্লাত মালকি, মাইনুস মোখাল্লাত, উদ মালিক আতিক, উদ আমিরি, খালতাত আল মুলুক, খালতাত আল-জাওয়াহের, খালতাত আল-থানি, খালতাত আল-মাহা, মাতার আল-হাব, আতর আল-কসুর, আলমাস, নাইট ড্রিম। মান ও ওজনভেদে এসব আতরের দাম সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এত গেল আতরের খবর। বিক্রি জমে উঠেছে টুপিরও। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতান আর ফুটপাত ঘুরে দেখা যায়, আকর্ষণীয় নকশা আর নানা কারুকার্যে সুসজ্জিত টুপির প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি।

বায়তুল মোকাররমের টুপি ব্যবসায়ী ফেরদৌস খান বলেন, তুর্কি ও পাকিস্তানি টুপির বেশ কদর। বাহারি ডিজাইন, আকার ও রঙের জন্য এ টুপি মানুষের নজরে বেশি পড়ছে। তবে বিক্রিতে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের টুপিও। আরেক টুপি ব্যবসায়ী মামুন মিয়া বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের টুপির পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, গুজরাট, কাশ্মীর ও কাতারের টুপির বেশ চাহিদা রয়েছে।

তারা জানান, তুরস্কের টুপি ১০০ থেকে শুরু করে ৮০০ টাকায় মিলছে। ওমানের টুপি ৬০০ টাকা, পাকিস্তানের কুমারি টুপি, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চীন ও সৌদি আরবের টুপির দাম ৮০ থেকে ৬০০ টাকা।

বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনের ফুটপাতের দোকানি আফজাল জানান, গোল টুপি ৫০ থেকে ৫০০, সোনালি সুতার কারুকাজ করা টুপি ৮০০ থেকে ১২০০, পুঁতির কারুকাজ করা টুপি ১৮০ থেকে ৩০০ টাকা, বাচ্চাদের চুমকি বসানো টুপি ৮০ থেকে ২০০ টাকা, জালের তৈরি টুপি এবং সাধারণ টুপি পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।

ঈদে অনেকেই নামাজ পড়তে সঙ্গে করে নিয়ে যান জায়নামাজ। তাই ঈদ সামনে রেখে জায়নামাজের বিক্রিও বেড়েছে। এবারের ঈদে সুতি জায়নামাজের চাহিদা বেশি বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি ভেলভেট, কার্পেটসহ বিভিন্ন কাপড়ের জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে। দেশি এসব জায়নামাজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া সৌদি আরব ও চীন থেকে আমদানি করা জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ১২০০ টাকার ভেতরে।

এসবের পাশাপাশি তসবিহও বেশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিভিন্ন দোকানি। এবারের ঈদবাজারে লাল মারজান, স্টার, আকিকসহ বিভিন্ন দামি পাথরের তসবিহর চাহিদা বেশি। পাশাপাশি রয়েছে প্লাস্টিকের দানা ও সাধারণ পাথরের তসবিহ। স্টার পাথরের তসবিহ ১২০০ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা, লাল মারজান পাথরের তসবিহ এক হাজার থেকে চার হাজার, আকিক পাথরের তসবিহ ১২০০ থেকে আট হাজার টাকা এবং প্লাস্টিকের দানার তসবিহ ২০ থেকে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ পাথরের তসবিহ পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে।