শাহজালালে স্বর্ণসহ দুই বিমানকর্মী গ্রেফতার

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ডিউটির নামে স্বর্ণ পাচারের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বিমানের কার্গো হেলপার এমদাদ হোসেন চৌধুরী ও ট্রাফিক হেলপার আবদুর রহিম।

শনিবার বিমানবন্দরে তাদের হেফাজত থেকে চার কেজি ওজনের ৩৮টি স্বর্ণবার জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য ২ কোটি টাকা। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন শিমুল সমকালকে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই দুই কর্মী স্বীকার করেছেন, বিমানবন্দরে ডিউটির নামে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে চোরাকারবারিদের বহন করা স্বর্ণবার পাচারের সঙ্গে অন্তত ২৪-২৫ জন বিমানকর্মী জড়িত। স্বর্ণ পাচারের বিনিময়ে আন্তর্জাতিক চোরাকারবারিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পান তারা।

সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর এপিবিএন পুলিশ জানায়, শনিবার ব্যাংকক থেকে ছেড়ে আসা দুপুর পৌনে ১টায় থাই এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দুপুর পৌনে ২টায় ওই ফ্লাইট থেকে চার কেজি ওজনের ৩৮টি স্বর্ণবার দেহে লুকিয়ে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেট দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন এমদাদ হোসেন চৌধুরী। এ সময় তাকে সহায়তা করেন আবদুর রহিম। হ্যাঙ্গার গেটে দু'জনের গতিবিধি সন্দেহ হওয়ায় তাদের চ্যালেঞ্জ করে এপিবিএন পুলিশ। আবদুর রহিম পালানোর চেষ্টা করলে দৌড়ে গিয়ে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, থাইল্যান্ড থেকে ঢাকায় আসা থাই এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের (টিজি ৩২১) কিছু মালপত্র প্যালেটে করে ইম্পোর্ট কার্গোতে যায়। সেখান থেকেই ওই স্বর্ণবারগুলো নিজের হেফাজতে নেন বলে স্বীকার করেন এমদাদ হোসেন। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্বর্ণ পাচারের ভাগ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও পান বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন আটক দুই কর্মী।

এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানার ওসি নুরে আজম মিয়া সমকালকে জানান, স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে বিমানের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মী জড়িত। তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে বিমানের শৌচাগারের একটি পকেট থেকে সোয়া ১২ কেজি স্বর্ণবার জব্দ করেন ঢাকা কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় জড়িত বিমানের এয়ারক্রাফট মেকানিক আফজাল হোসেন হাওলাদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।