আশ্বাসে স্থগিত সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা- ফোকাস বাংলা

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ করা ও 'গণহারে ফেল' রোধসহ তিন দফা দাবিতে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রাজধানীর নিউমার্কেটের সামনের নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে রাখেন তারা। পরে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা।

অবরোধের কারণে ওই রাস্তা দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুর ২টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে আলোচনায় বসেন।

প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রতিনিধি দলের কয়েজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেখানে গণহারে অকৃতকার্যের বিষয়টি বিবেচনা করে একটি বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে তিনের অধিক বিষয়ে কোন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলেও সে শিক্ষার্থী শুধু তিনটি পরীক্ষা দিতে পারবে। এ তিনটি পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে তাকে পরবর্তী বছরের সুযোগ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সাত কলেজে আন্দোলনের মুখপাত্র ইসমাইল সম্রাট বলেন, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রক্টর তাদের আশ্বাস দিয়েছেন। যারা গণহারে ফেল করেছে তাদের একটি বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী বছরে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তবে সর্বোচ্চ তিনটি সাবজেক্টে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারবেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, সাত কলেজের প্রতিনিধিদল তার কাছে এসেছিল। তিনি তাদের দাবিগুলো শুনেছেন। সেগুলো উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে রাস্তা অবরোধ করে নানা স্লোগানে চারদিক মুখরিত করে রাখেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধের ফলে আজিমপুর ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে ছেড়ে আসা কয়েকশ বাস, মাইক্রোবাস, জিপ, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেল রাস্তায় আটকা পড়ে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টানা দুই ঘণ্টা একই স্থানে আটকে থাকায় অনেকেই তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।


আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৭-১৮ সেশনের সমাপনী পরীক্ষার আট মাস হয়ে গেলেও কয়েকটি বিভাগ ছাড়া অধিকাংশ বিভাগের পরীক্ষার ফলাফল এখনো দেওয়া হয়নি। যে কয়েকটি বিভাগের ফলাফল দেওয়া হয়েছে সেসব বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। অকৃতকার্য সেসব শিক্ষার্থীদের পুনরায় ভর্তি ফি দিয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে হবে। এজন্যই তারা শুধু ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।

তারা বলেন, আগে তাদের কলেজে সর্বোচ্চ তিনটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হয়ে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই নিয়ম পরিবর্তন করেছে। এতে পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হতে, শিক্ষার্থীদের গড়ে দুই পয়েন্ট গ্রেড পয়েন্ট লাগে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলন করছে, সেটা তারা জেনেছেন। তবে এতে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী সবকিছু পরিচালিত হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো- ১. ২০১৭-১৮ সেশনের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ করে দেওয়া, ২. অকৃতকার্য সকল শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হওয়া বিষয়ে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া। ৩. গণহারে অকৃতকার্য রোধ এবং খাতার যথাযথ মূল্যায়ন করা।

সেশনজট নিরসনে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ ও ক্রাশ প্রোগ্রাম চালুসহ পাঁচ দফা দাবিতে এর আগেও কয়েকবার আন্দোলন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ গত ৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন তারা।

শিক্ষার মানোন্নয়নের ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর থেকে চাপ কমানোর লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করে সরকার। কলেজগুলো হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরম্নল সরকারি কলেজ, বেগম বদরম্নন্নেসা মহিলা কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ।

বিক্ষোভে আটকে গেল ঢাবির বাস, উত্তেজনা:

রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও বিক্ষোভের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী বৈশাখী পরিবহনের একটি বাস আটকে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা ছেড়ে দিতে বললেও রাজি হয়নি আন্দোলনকারীরা। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে বলে জানা গেছে।