মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১০ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বাদ আসর তার শান্তিনগরের বাসভবন সংলগ্ন মসজিদে দুই দফা জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিলাহি...রাজিউন) তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের ছেলে অপূর্ব জাহাঙ্গীর জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাইলো ফাইব্রোসিসে (রক্তের ক্যানসার) ভুগছিলেন। সোমবার থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সে অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

সকালে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের মরদেহ নিয়ে আসা হয় জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে। সেখানে জানাজায় অংশ নেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের বড় ভাই শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল ইসলাম বুলবুল, নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নীপা, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ প্রমুখ।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, তার চিন্তার কোন শেষ ছিলো না। সব সময় নানা পরিকল্পনার মধ্যে থাকতো সে। মৃত্যুর আগেও আগামী বছর, তার পরের বছর কি কি কাজ করবে, সেটির পরিকল্পনা করে রেখেছিলো সে।

আনিসুজ্জামান বলেন, নানামুখী কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। তার কাজের জন্যই তাকে আমরা চিরদিন মনে রাখবো।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, টক শো-তে কোন দল বা ব্যক্তিকে আক্রমণ করতেন না। সুন্দরভাবে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতেন তিনি।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, তরুণ বয়সে দৈনিক বাংলায় তিনি যেসব প্রতিবেদন করেছেন, যে শক্তি নিয়ে কাজ করেছেন; তা আজকের তরুণদের মধ্যে দেখা যায় না।

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ১৯৫১ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গণমাধ্যমের পাশাপাশি তিনি রাজনীতি ও অন্যান্য সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে নিয়মিত দৈনিক পত্রিকাগুলোতে কলাম লিখতেন। দল নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি ও সমস্যা সমাধানে তার মৌলিক চিন্তা অনেক চিন্তা অনেক পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। চট্টগ্রাফ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের পড়ার সময় তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে ও যুক্ত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর এবং সাংবাদিকতায় পুনঃরায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে ‘দৈনিক পাকিস্তান’ (পরবর্তীতে দৈনিক বাংলা)-এ যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় আসেন। ১৯৮০ সালে সক্রিয় সাংবাদিকতা ছেড়ে প্রেস ইন্টটিটিউট অব বাংলাদেশ- পিআইবিতে সাংবাদিক প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯৫ সালে তিনি গড়ে তোলেন বেসরকারি মিডিয়া সংস্থা সেন্টার অফ ডেভেলপমেন্ট কম্যুনিকেশন। আমৃত্যু তিনি এর নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৬৮ সাল থেকে বেতার এবং ১৯৭৬ সাল থেকে টেলিভিশন মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হন।  চলতি বিষয়ধর্মী টক শোয়ের সফল সঞ্চালক হিসেবে বিশেষ পরিচিত লাভ করেন। মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর দেশের প্রথম সরাসরি টেলিভিশন টকশো ‘অভিমত’-এর সঞ্চালক ছিলেন। অনুষ্ঠানটি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছিলো।

ঢাকার দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ ও গণমাধ্যম বিষয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক ছলেন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষয়ে ২৫টির বেশি বই লিখেছেন তিনি। ছিলেন সাংস্কৃতিক সংগঠকও। নাচের সংগঠন নৃত্যাঞ্চল ড্যান্স কোম্পানির সমন্বয়ক, আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট (আইটিআই) বাংলাদেশ কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের ছোট ভাই।