বাসা-ক্লাবে অভিযান

যুবলীগে অ্যাকশন শুরু

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেফতার

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমকাল প্রতিবেদক

বুধবার গুলশানের বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছেন যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া (ইনসেটে)। ফকিরাপুলে তার ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালিয়েও ১৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয় - সমকাল

নানা সমালোচনার পর যুবলীগের বিতর্কিত ও চাঁদাবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার হেফাজতে একটি অবৈধ অস্ত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার কাছে লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ আরও দুটি অস্ত্র ও মাদক পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। এরপর মধ্যরাতে কমলাপুরে রেলস্টেশনের উল্টোপাশে ইস্টার্ন টাওয়ারের চতুর্থ তলায় খালেদের 'টর্চার সেলে'র সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। সেখানে রাতেই চালানো হয়েছে অভিযান।

গতকাল দুপুরের পর খালেদের গুলশান ২ নম্বরে ৫৯ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাসাটি ঘিরে রাখেন র‌্যাব সদস্যরা। একই সময় ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালান র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে বেড়ে ওঠা খালেদ এ ক্লাবের সভাপতি। সেখান থেকে গ্রেফতার ১৪২ জনের মধ্যে ৩১ জনকে এক বছর করে কারাদ দেওয়া হয়। তাদের ১৬ জনই ক্যাসিনোর কর্মী। বাকিদের ছয় মাস করে কারাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযানে ২৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, বিপুল পরিমাণ মদ, বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ করা হয়। ক্যাসিনোটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। ক্যাসিনোর আটক কর্মীদের মধ্যে দুই নারীকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। খালেদ গ্রেফতার হলেও আরেক সমালোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি। তবে গতকাল রাতে সম্রাটের নিয়ন্ত্রণাধীন গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে 'মনস্টার' সম্বোধন করে তাদের পদ থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সভায় যুবলীগের কিছু নেতার কর্মকাে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতাদের তিনি একটি ছবি দেখান। ওই ছবিতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের পাহারায় যুবলীগের একজন নেতাকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতারা যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে জুয়ার আড্ডায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনেন। এর পর থেকেই যুবলীগের এসব নেতার ব্যাপারে খোঁজ-খবর শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী অস্ত্রধারী যে যুবলীগ নেতার ছবি দেখান, তিনি খালেদ। এমন প্রেক্ষাপটে যুবলীগে শুদ্ধি অভিযান শুরু করার প্রস্তাব আসে। এর অংশ হিসেবে যুবলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে সংগঠনের ট্রাইব্যুনালে ডাকার সিদ্ধান্ত হয়। তারা হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম সমকালকে বলেন, খালেদকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে একটি অবৈধ অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের কারণে আরও দুটি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে জুয়ার আসর ও বার বসানোর কোনো লাইসেন্স নেই। সেখানে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে জুয়া ও মদের আসর বসিয়ে আসছিল একটি চক্র। বুধবারের অভিযানে দুই নারীসহ ১৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। ওই ক্লাব থেকে ২৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ সমকালকে বলেন, কেউ কোনো অপরাধ করলে যুবলীগ তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে। যুবলীগ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা মনে করেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং এতে তারা কোনো হস্তক্ষেপও করবেন না। আইনের চোখে কেউ অপরাধী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেটা অবশ্যই শুভ লক্ষণ।

খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুবলীগের ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাদের ডাকাও হয়েছে। এখন যেহেতু কারও কারও বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীই পদক্ষেপ নিয়েছে, সেহেতু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কী করা যায়, তা পরে ঠিক করা হবে।

গতকাল গুলশানে গিয়ে দেখা যায়, যুবলীগ নেতা খালেদের গুলশান ২ নম্বরে ৫৯ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাসাটি ঘিরে রেখেছে র‌্যাব। সংবাদকর্মীরা তার বাসার গেটের বাইরে অবস্থান করছিলেন। ওই বাসার চতুর্থ তলার এ-৩ নম্বর ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন খালেদ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালো গ্লাসের একটি গাড়িতে করে তাকে ওই বাসা থেকে বের করে নিয়ে যায় র‌্যাব-৩।

প্রাইম রোজ গার্ডেন নামক ছয়তলা ভবনটির চতুর্থ তলায় তিন হাজার ১০০ বর্গফুটের বিশাল ফ্ল্যাটে থাকতেন খালেদ। ভবনটির ব্যবস্থাপক আরিফ হোসেন সমকালকে বলেন, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ডিবি ও একটি সরকারি কার্যালয়ের পরিচয়ে সাদা পোশাকের কয়েকজন খালেদের বাসায় ঢোকেন। এরপর ৪টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা যান ওই বাসায়। সাড়ে ৪টার দিকে বাসায় তল্লাশির জন্য ভবনের তত্ত্বাবধায়ক ও নিরাপত্তাকর্মীদের ডেকে নেওয়া হয়। তল্লাশিকালে বাসা থেকে লাইসেন্সবিহীন একটি পিস্তল ছাড়াও পাঁচ শতাধিক ইয়াবা বড়ি, ১০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ও প্রচুর ডলার জব্দ করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে মতিঝিল থানার পাশে ইয়ংমেনস ক্লাবে জুয়ার আসর বসে। ক্লাবটি ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার জন্য ক্রীড়ামোদীদের কাছে পরিচিত। সেখানে জুয়ার আসর বসানোয় এলাকার সাধারণ মানুষ বিব্রত ছিলেন। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এই ক্লাবের কমিটিতে যুবলীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা অন্তর্ভুক্ত হন। এর পর ক্লাবে তাদের প্রভাব বাড়তেই থাকে। অভিযোগ রয়েছে, ক্লাবের ভেতর নিয়মিত মদ্যপানের আসর বসানোর পাশাপাশি হাউজি খেলা চালু করেন তারা। এরপর এখানে জুয়ার আসর অব্যাহত হারে বাড়তেই থাকে।

একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও রাজধানীকেন্দ্রিক অর্ধশতাধিক স্পটে ক্যাসিনো বসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এসব ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করছেন যুবলীগ নেতারা। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ও রাজধানীতে ক্যাসিনো চালু ছিল।

র‌্যাবের কাছে অভিযোগ ছিল, ইয়ংমেনস ক্লাবে আট মাস ধরে অবৈধ আসর বসছে। অভিযানের সময় র‌্যাবের নজরে আসে, ক্লাবের নিচতলায় যন্ত্রের মাধ্যমে জুয়া খেলা (ক্যাসিনো) চলছে। ফাঁকে ফাঁকে মদপানও করা হচ্ছে। যারা এই ক্লাবে গিয়েছিলেন, তারা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও ব্যবসায় জড়িত। আটক ব্যক্তিদের মদপানের লাইসেন্স ছিল না। তারা দোষ স্বীকার করেছেন। ওই ক্লাবে অভিযানের সূত্র ধরে আরও অভিযান চালাবে র‌্যাব। ইয়ংমেনসের দোতলা ওই ক্লাবটির নিচতলায় ছিল ক্যাসিনো। আর পাশের একটি কক্ষে ছিল ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জুয়া খেলার ব্যবস্থা।

যুবলীগ নেতা মিল্ক্কী হত্যার পর মতিঝিল এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ছত্রছায়ায় ঢাকার একাংশের নিয়ন্ত্রণ আসে তার হাতে। মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী গণপরিবহন থেকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয় খালেদকে। কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), রেল ভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ওয়াসার টেন্ডারও নিয়ন্ত্রণ করতেন এ যুবলীগ নেতা।

এদিকে, বিকেলে ইয়ংমেনস ক্লাবের অভিযান চালানোর পর রাত ৯টার দিকে বনানীর আহম্মেদ টাওয়ারে 'গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ' এবং ফকিরাপুলে 'ওয়ান্ডারার্স ক্লাব' ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব-১ ও র‌্যাব-৩। দুটি ক্যাসিনোই সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। ওয়ান্ডারার্স ক্লাব থেকে প্রচুর মাদকদ্রব্য, ২০ হাজার ৫০০ টাকার জাল নোট, ১০ লাখ ২৭ হাজার টাকা ও ক্যাসিনোর সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় ক্লাবের কয়েকজন পরিচালক পালিয়ে যান। গ্রেফতার করা হয় দুই কর্মচারীকে। ওই ক্লাবে যুক্ত আছেন মতিঝিলের কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান চালানো হয় গুলিস্তানে পীর ইয়ামেনী মার্কেট লাগোয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ক্লাবে। সেখান থেকে ৪০ জনকে আটক করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র থেকে মদ, বিয়ার, নগদ টাকা ও কষ্টিপাথরের মূর্তি জব্দ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের সাতটি বোর্ডের দুটি ছিল ভিআইপিদের।

যুবলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের হাইকমান্ড কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পর যুবলীগ নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের দোয়া অনুষ্ঠান ও যুব জাগরণ সমাবেশের প্রসঙ্গ এলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজির টাকা হালাল করার জন্যই এমন আয়োজন করা হয়েছে। এরপর তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর যুবলীগের একজন নেতা চার থেকে পাঁচজন দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরা করেন। বড় বড় অস্ত্র নিয়ে অস্ত্রধারীরা তার চারপাশে অবস্থান করে। এসব দেখলে মানুষের কী ধারণা হয়? তা ছাড়া আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায়। এখন কেন ওই নেতা এত নিরাপত্তাহীনতায় আছেন?

এমন যুবলীগের দোয়ার প্রয়োজন নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কিছুতেই এসব অপকর্ম সহ্য করা হবে না। অস্ত্রবাজি ও ক্যাডার রাজনীতি চলবে না। যে কোনো মূল্যে এই অপরাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে।

র‌্যাব-পুলিশ এত দিন কী করেছে, প্রশ্ন যুবলীগ চেয়ারম্যানের :রাজধানীতে যুবলীগ নেতাদের পরিচালনায় ক্যাসিনো থাকা নিয়ে র‌্যাব ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বলা হচ্ছে, ৬০টি ক্যাসিনো আছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এত দিন কী করছিল? তারা কি আঙুল চুষছিল? তাহলে যে ৬০ জায়গায় এই ক্যাসিনো, সেই ৬০ জায়গার থানা পুলিশ ও র‌্যাবকেও গ্রেফতার করা হোক।

গতকাল বুধবার রাজধানীর শাহআলী থানার গোলারটেক মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের অন্তর্গত মিরপুর, শাহআলী ও দারুসসালাম থানার ৭ থেকে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের যৌথ ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ওমর ফারুক চৌধুরী এসব কথা বলেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমাকে অ্যারেস্ট করবেন, করেন। আমি রাজনীতি করি। আমি একশ'বার অ্যারেস্ট হবো। আমি অন্যায় করেছি। আপনারা কী করেছিলেন? আপনি অ্যারেস্ট করবেন, আমি বসে থাকব না। আপনাকেও অ্যারেস্ট হতে হবে। কারণ, আপনিই প্রশ্রয় দিয়েছেন।' বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে যুবলীগের বিরুদ্ধে প্রচারণা চলছে কি-না এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ৫০০ জায়গা নির্ধারণ করে বলা হলো, যুবলীগ চালায়। গোয়েন্দারা এতই তৎপর হলে এত দিন কী করেছিল? পত্র-পত্রিকাও জানার পর এত দিন লেখেনি কেন? লুকিয়ে রেখেছিলেন?

যুবলীগের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে এবং তদন্ত ও ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রমাণ হলে শাস্তি দেওয়া হয় বলে জানান ওমর ফারুক চৌধুরী। ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে সংগঠনের নেতাদের গ্রেফতারে অস্বস্তির কোনো বিষয় নেই দাবি করে তিনি বলেন, অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়লে চিঠি দিয়ে থানায় জানানো হয়। অপরাধ করলে শাস্তির ব্যবস্থা হবে। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে, কেন এখন গ্রেফতার হবে? অতীতে কেন হলো না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এত দিন জানত না? তারা তাহলে এত দিন প্রশ্রয় দিয়েছে।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি, আসলামুল হক আসলাম এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।