আইএস'র দৃষ্টি আকর্ষণে ঢাকায় পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেফতার ২

প্রকৌশলী থেকে জঙ্গি ওরা

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৯   

সমকাল প্রতিবেদক

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে সম্প্রতি পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত নব্য জেএমবির সামরিক শাখার দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। গুলিস্তান ও সাইন্সল্যাব মোড়ে পুলিশের ওপর হামলায় ব্যবহূত বোমা (আইইডি) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আস্তানায় বসে বানিয়েছিল তারা। পুলিশকে টার্গেট করেই এই বোমা বানানো হয়।

সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম।

গত রোববার মোহাম্মদপুর থেকে হামলাকারী মেহিদী হাসান তামিম ও আব্দুল্লাহ আজমিরকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমাণ্ড নেওয়া হয়েছে তাদের।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, 'সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর বোমা হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে তামিম ও আব্দুল্লাহ। হামলার পরিকল্পনাকারীও তারা। এসব হামলা পাঁচজন জড়িত রয়েছে। তাদের মধ্যে তামিম ও আব্দুল্লাহসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আরেক জঙ্গির নাম জামাল উদ্দিন রফিক। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তক্কার মোড়ে জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। রফিক পল্টনে পুলিশ বপে বোমা পেতে রাখার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিল। তার জবানবন্দিতে বোমা হামলায় জড়িত তামিম ও আব্দুল্লাহসহ জড়িত জঙ্গিদের নাম উঠে আসে। অপর দুইজনকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।'

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তামিম ও আব্দুল্লাহ খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই নিষিদ্ধ সংগঠন নব্য জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয় তারা। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভোলার একটি দুর্গম চরে হামলা ও বোমা বানানো বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয়। এর পরই চলতি বছরের শুরুতে জঙ্গি জামাল উদ্দিন রফিকের নেতৃত্বে একটি সামরিক শাখা প্রতিষ্ঠা করে। রফিকের ফতুল্লার তক্কার মোড়ের বাসায় বোমা তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়। তারা বোমা তৈরি করে ওই কারখানায়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে কারখানা থেকে বোমা তৈরি করে গত ২৯ এপ্রিল গুলিস্তানে এবং ৩১ আগস্ট সায়েন্সল্যাব মোড়ে পুলিশের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে জঙ্গিরা। তামিম ও আব্দুল্লাহ এই হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ ছাড়া মালিবাগে পুলিশের ওপর বোমা হামলা, পল্টন ও খামারবাড়িতে পুলিশ বক্সের পাশে পেতে রাখা বোমা তৈরিতে রফিককে সহায়তা করেছিল তামিম ও আব্দুল্লাহ। গত মাসে ফতুল্লার তক্কার মোড়ে রফিকের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছিল সিটিটিসি। ওই আস্তানায় রফিক, তামিম ও আব্দুল্লাহসহ জঙ্গিরা বসে নানা শলাপরামর্শও করত। হামলার পরিকল্পনাও হতো সেখানে বসে। রফিক খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

মনিরুল ইসলাম বলেন, 'পুলিশের ওপর হামলার পর আইএস নামে যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেটি চার জঙ্গি মিলে করে। তাদের মধ্যে একজন আব্দুল্লাহ। সে একটি করপোরেট কোম্পানিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। কর্মস্থলে সে ওয়াকিটকি ব্যবহার করে। সেই ওয়াকিটকি নিয়েই ভিডিওতে ছিল আব্দুল্লাহ। তারা আইএসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছিল। আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালিয়েছিল তারা।

সোমবার তামিম ও আব্দুল্লাহকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত দু'জনকে পাঁচ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছেন।

সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট সায়েন্সল্যাব মোড়ে পুলিশের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে জঙ্গিরা। এতে একজন এএসআই ও একজন কনস্টেবল আহত হয়। এর আগে ২৬ মে মালিবাগে বোমা হামলায় এক নারী এসআইসহ তিনজন আহত হয়। ২৯ এপ্রিল গুলিস্তানে বোমা হামলায় আহত হয়দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজন। ২৩ জুলাই বোমা উদ্ধার করা হয় খামারবাড়ি এবং পল্টনে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশ থেকে।