শ্যামলীতে আনসার সদস্য হত্যা: ৩ ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৯      

আদালত প্রতিবেদক

রাজধানীর শ্যামলীতে আনসার বাহিনীর সদস্য ফজলুল হককে গুলি করে হত্যার দায়ে তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান বুধবার এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পাপ্পু ওরফে অন্তু, তারিকুর রহমান ওরফে শিবলী ওরফে উজ্জ্বল এবং মো. শুক্কুর আলী ওরফে সোহেল। তারা সবাই পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। 

এ ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল আবদুল জলিল ফরাজীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার দায়ে আসামি শুক্কুর আলী সোহেলকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

২০০২ সালের ১৩ মার্চ সকাল পৌনে ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত রাজধানীর শ্যামলীর ২ ও ৩ নম্বর রোডে দায়িত্ব পালন করছিলেন আনসার কনস্টেবল আবদুল জলিল ফরাজী ও ফজলুল হক। দুপুর পৌনে ১টার দিকে ৩ নং রোডের মাথায় কনস্টেবল আকমান হোসেন গুলির শব্দ শুনতে পান। তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখেন, ফজলুল হক পড়ে আছেন। জলিল ফরাজী ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছেন। ছিনতাইকারীরা রিভলবার দিয়ে আকমান হোসেনকে গুলি করে। আকমান হোসেনও তার শটগান দিয়ে এক রাউন্ড গুলি করেন। ছিনতাইকারীরা জলিল ফরাজীকে গুলি করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে ফজলুল হককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হওয়ার পর তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের বছর ৩১ মার্চ মামলাটির তদন্ত করে এসআই নূরে আলম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। 

২০০৪ সালের ১০ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। পরে তিন আসামিই জামিন নিয়ে পালিয়ে যায়। মামলাটির বিচারকাজ চলাকালে আদালত চার্জশিটভুক্ত ১৫ সাক্ষীর মধ্যে আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পিপি আবু আব্দুল্লাহ ভুঞা। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনির হোসেন মারুফ।