বাসের চাকার নিচে পা, প্রাণ গেল নারীর

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

নিজের অফিসের অদূরেই মাত্র বাস থেকে নেমে দাঁড়িয়েছিলেন কোয়ান্টাম ব্লাড ব্যাংকের কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা রুমা (৩০)। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দেয় ওই বাসটি। এর পর পেছনের চাকাটি তুলে দেওয়া হয় তার পায়ের ওপর। নির্দয় চালক নির্মমভাবে তার দেহের ওপর দিয়ে বাসটি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। রক্তাক্ত রুমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। 

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে ওই দুর্ঘটনার পর দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পুলিশ 'আল মক্কা পরিবহন' নামের বাসটি আটকাতে পারলেও এর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট বাংলামোটর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অফিসের অদূরেই পা হারিয়েছিলেন বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায়। এর আড়াই মাসের মধ্যেই এবার শান্তিনগরে বাসের চাপায় প্রাণই গেল আরেক কর্মজীবী নারীর।

মঙ্গলবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছিলেন, রুমা কেবলই শান্তিনগর মোড়ে বাস থেকে নামেন। এর পর চালক আচমকা বাসটি টান দেয়। এতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। ওই সময়ে বাসের চাকা তার ডান পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। গলায় পরিচয়পত্র থাকায় দ্রুতই তার পরিচয় পাওয়া যায়। কর্মস্থলও অদূরে হওয়ায় তার সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন।

ঘটনাস্থলে ফুটপাতের একজন বিক্রেতা বলছিলেন, এক নারীর ওপর বাসটি তুলে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল ড্রাইভার। কিন্তু তারা কয়েকজন দৌড়ে সেটি ধরেন। ততক্ষণে চালক-হেলপার ভিড়ের মধ্যে মিশে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে সেই বাস জব্দ করে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রুমার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে বিলাপ করছিলেন স্বজনেরা। সেখানে রুমার স্বামী শফিকুল ইসলাম চোখের পানি মুছতে মুছতে বলছিলেন, তাদের বাসা যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায়। কিন্তু সোমবার রুমা অফিস শেষ করে মিরপুরে মায়ের বাসায় গিয়েছিল। সেখান থেকেই অফিসে যাওয়ার পথে এমন ঘটনা ঘটল।

শফিক বলছিলেন, 'সকাল ৮টার দিকে বাসে উঠে রুমা তাকে ফোন দিয়েছিল। বলছিল, আমি অফিসে যাচ্ছি, ছুটির পর বাসায় ফিরব। রুমা আর বাসায় ফিরতে পারল না। এখন ওর নিথর দেহ নিয়ে যাচ্ছি ফরিদপুরের চন্দ্রপুরে।'

স্বজনেরা জানান, রুমার স্বামী শফিকুল দনিয়া এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন। পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হলেও কোনো সন্তান নেই তাদের। কুমিল্লার মুরাদনগরে তার বাড়ি হলেও পারিবারিক সিদ্ধান্তে রুমাকে তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের চন্দ্রপুরে দাফন করা হবে।

চিকিৎসকদের উদ্বৃত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানিয়েছেন, রুমার ডান পাসহ কোমর পর্যন্ত একেবারেই থেঁতলে গিয়েছিল। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন থেকে জানানো হয়েছে, কানিজ ফাতেমা রুমা ২০১৩ সাল থেকে কোয়ান্টাম ল্যাবের সংযোগায়ন (কমিউনিকেশন) টিমে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২৮৪ ব্যাচে কোয়ান্টাম গ্র্যাজুয়েশন কোর্স সম্পন্ন করেন। রিয়েলাইজেশন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন ১৬তম ব্যাচে।

এদিকে পল্টন থানার উপপরিদর্শক কাজী আশরাফুল হক জানিয়েছেন, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রুমার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত বাসটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়েছে। তাকে চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে।