পুলিশের ভূমিকায় ভয় পরিবহন শ্রমিকদের

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৯   

সমকাল প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের পর গত বুধবার দেশব্যাপী আন্দোলনে নামে পণ্যবাহী ট্রাক, কভার্ডভ্যানের মালিক শ্রমিকরা         -ফাইল ছবি

সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের পর গত বুধবার দেশব্যাপী আন্দোলনে নামে পণ্যবাহী ট্রাক, কভার্ডভ্যানের মালিক শ্রমিকরা -ফাইল ছবি

সড়কে দুর্ঘটনা তদন্তে পুলিশের সঙ্গে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) প্রতিনিধি চান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান। ফেডারেশনের দুই দিনব্যাপী বর্ধিত সভা শেষে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ দাবি জানান।

রাজধানীর সেগুনবাগিচার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে শাজাহন খান জানান, ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইনের যেসব ধারা 'শ্রমিকবান্ধব নয়', সেগুলো সংশোধনের দাবি নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের সঙ্গে বসবেন তারা।

তবে কোন কোন ধারা শ্রমিক বান্ধব নয়, তা খোলাসা করেননি শাজাহান খান। তিনি বলেছেন, সেগুলো চিহ্নিত করে বৈঠকে তুলে ধরা হবে। ইতোমধ্যে ৯৮ এবং ১০৫ ধারা শিথিল করে জরিমানা কমানোর দাবি সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে জানিয়েছে ফেডারেশন।

এই দুই ধারায় দুর্ঘটনায় আহতের ক্ষেত্রে চালককে তিন লাখ টাকা এবং প্রাণহানীর ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইনে সড়কে নিয়ম ভঙ্গে ১০ থেকে হাজার গুণ পর্যন্ত জরিমানা বেড়েছে। বেড়েছে জেলও। আইন প্রয়োগ শুরুর পর পুলিশের ভূমিকা 'লজ্জাজনক' বলে দাবি করেছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান। সরকার দলীয় এই এমপি বলেছেন, 'আইন প্রয়োগের পর পুলিশের যে ভূমিকা, অনেক জায়গা থেকেই লজ্জাজনক খবর আসছে।'

বর্ধিত সভায় সারাদেশ থেকে আসা শ্রমিক নেতারা অনেকে তাদের বক্তৃতায় অভিযোগ করেন, নতুন আইন কার্যকরের পর পুলিশের চাঁদাবাজিতে তারা অতিষ্ঠ। ঢাকার যাত্রবাড়ীর এক নেতা অভিযোগ করেন, সংকেত বাতি ভাঙা থাকায় পুলিশ ৮ হাজার টাকা জরিমানার হুমকি দিয়ে দেড় হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। আরো কয়েকজন নেতা বলেন, আগের আইনে যে অপরাধে সর্বোচ্চা ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান ছিল। নতুন আইনে তা ৫০ হাজার টাকা হয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ জরিমানা করার হুমকি দিয়ে ঘুষ দাবি করছে। তারা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চান।

আইন প্রয়োগের পর সচেতনতা সৃষ্টির নামে পুলিশ ও বিআরটিএ'র ভূমিকায় শ্রমিকরা ভয় এবং বিভ্রান্ত হয়ে আন্দোলনে নামে বলে দাবি করেছেন শাজাহান খান। তিনি বলেছেন, বিজ্ঞপ্তিতে যে ১৩টি ধারা লঙ্ঘনে সাজার কথা বলা হয়েছে, সবগুলো শ্রমিকদের বিপক্ষে। শুধু কি শ্রমিকদের সচেতন করা দরকার? বাকিদের সচেতনতা দরকার নেই? পুলিশ, বিআরটিএ'র এসব বিজ্ঞপ্তিতে শ্রমিকরা ভয় পেয়ে যায়।

শাজাহান খান বলেছেন, 'বিচার বিশ্নেষণ করে অভিযোগপত্র দিতে হবে, কার দোষে দুর্ঘটনা ঘটল। দোষ পথচারীর, যাত্রীর, না চালকের। নাকি রাস্তার। তাই ফেডারেশন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাবে, পুলিশ ও এআরআই'র যৌথ উদ্যোগে দুর্ঘটনার তদন্ত করতে হবে।' এ দাবি পুলিশের ওপর আস্থাহীনতা থেকে কিনা- এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

আইন কার্যকরের পর গত বুধবার দেশব্যাপী আন্দোলনে নামে পণ্যবাহী ট্রাক, কভার্ডভ্যানের মালিক শ্রমিকরা। তাদের কর্মবিরতিতে দেশের অধিকাংশ জেলায় বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। সারাদিন দুর্ভোগের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আইনের তিনটি ধারা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর না করার শর্তে মধ্যরাতে কর্মসূচি প্রত্যাহার হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আইন সংশোধনের দাবি বিবেচনা করবে সরকার।

দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শাজাহান খান। তিনি বলেন, ওই কর্মসূচির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল না। মধ্যস্বত্ত্বভোগী ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি তাদের স্বার্থে শ্রমিকদের দিয়ে ধর্মঘট করিয়েছে। এতে শ্রমিকদের স্বার্থ যুক্ত নয়। তারা নিয়মের বাইরে গাড়ি তৈরি করেছে, তা রক্ষা করতে হবে, এটাই ছিল তাদের ৯ দফার প্রধান দাবি।

ফেডারেশনের সমর্থন ছাড়া পরিবহন খাতের অন্যান্য সংগঠন কি করে কর্মবিরতি ডাকল- এ প্রশ্নে শাজাহান বলেছেন, তিনি ধর্মঘট প্রত্যাহারে কাজ করছেন। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়েছে। সব শ্রমিক নতুন আইন চায়। তবে শ্রমিকের স্বার্থ পরিপন্থী ধারাগুলো স্থগিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদু, সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান হিরু, সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোতাহার হোসেন প্রমুখ।