খালেদার জামিনের বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপের প্রশ্নই ওঠে না: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করার কারণে প্রথমে বিচারিক আদালতে এবং পরে উচ্চ আদালতে দণ্ডিত হয়েছেন। আবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্রের টাকা আত্মসাত করায় তিনি দণ্ডিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, এখানে সরকারের প্রতিহিংসা বা হস্তক্ষেপের কোন প্রশ্নই ওঠে না। তার জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারে। কারণ, বিএনপির আমলে আদালতকে যেভাবে নিজেদের পকেটে রাখা হতো সেই অবস্থা এখন আর নেই। বিচার বিভাগ এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জিপি (সরকারি কৌশুলী) এবং পিপিদের (পাবলিক প্রসিকিউটর) জন্য আয়োজিত ২১তম বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইন সচিব গোলাম সারওয়ার প্রমুখ।

অনুষ্টানে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে এই আইন সংশোধনের জন্য উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে একজন যুগ্ম জেলা জজ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনটি সংশোধন হলে যুগ্ম জেলা জজের পাশাপাশি সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজরাও এই মামলা গুলোর বিচার করতে পারবেন। এতে করে মামলা নিস্পত্তির হার বাড়বে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সরকারি কৌশুলী এবং পাবলিক প্রসিকিউটরদের সার্ভিসকে একটি সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় এনে যুগোপযোগী করার কথা ভাবছে। খুব শিগগিরই সরকার এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার আলোকে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, একসেস টু জাস্টিসকে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে জিপি-পিপিদের সেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সর্ব অবস্থায় আদালতের নির্দেশনা পালন করে মামলা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রায়ই শোনা যায়- কোনো কোনো জিপি-পিপি বিভিন্ন অজুহাতে আদালতে সময়ের দরখাস্ত দাখিল করে থাকেন যা মোটেই ঠিক না। মামলা দ্রুত নিস্পত্তি করতে অবশ্যই আদালতের সময় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ স্টোক হোল্ডার হিসেবে দেওয়ানী ও ফৌজদারি সকল বিষয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জিপি-পিপিদের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ন্যায়বিচার শুধু করলেই হবে না, সেটি অবশ্যই দৃশ্যমান হতে হবে। সরকার এ বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়েই জিপি-পিপিদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।