সিটিটিসি'র সম্মেলন

উগ্রবাদ প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রমে গুরুত্বারোপ

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯   

সমকাল প্রতিবেদক

ছবি: সমকাল

ছবি: সমকাল

'সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সব দেশের জন্যই এটি ভয়ঙ্কর হুমকি। কোনো দেশের একার পক্ষে আদর্শিক এই সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। জঙ্গি ও উগ্রবাদ নির্মূলে বিশ্বকে এক কাতারে এসে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি এটা প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে সম্মিলিত প্রয়াস ও সব পক্ষের সমন্বিত কার্যক্রম প্রয়োজন।'

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট আয়োজিত 'উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলন-২০১৯' এ বক্তারা এসব কথা বলেন। সোমবার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

ঢাকায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, জাতিসংঘের আবাসিক কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো ও ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্টদূত আর্ল রবার্ট মিলার। স্বাগত বক্তব্য দেন সিটিটিসি প্রধান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। এতে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও দেশে উগ্রবাদ দমনে কাজ করে আসা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সারাবিশ্বে ঐকমত্য রয়েছে- এই উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা সভ্যতার শত্রু, মানবতার শত্রু। উগ্রবাদ সারাবিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি। উগ্রবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। এই নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড কোনো সন্ত্রাসবাদের জন্য ব্যবহার হতে দেওয়া হবে না। কেউ অপরাধ করেও পার পাবে না। কারণ দেশ থেকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নীতির আলোকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এবং সমন্বিতভাবে কার্যক্রম চালাতে হবে।

উগ্রবাদ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্পিকার বলেন, উগ্রবাদ দূর করতে দারিদ্র্য ও সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে হবে। পাশাপাশি টেররিস্ট ফাইন্যান্সিং বন্ধ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সন্ত্রাসবিরোধী প্রচারণা চালাতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেন, আড়াই বছর আগে বাংলাদেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়েছিল। পরে সবার সম্মিলিত চেষ্টায় সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী এই উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন। এখন সবাই মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারছে। তবে উগ্রবাদবিরোধী এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া উগ্রবাদ দমন সম্ভব না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসংঘের আবাসিক কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো বলেন, উগ্রবাদ নির্মূলে নারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক অংশীজনকে উগ্রবাদবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, মার্কিন সরকার উগ্রবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে। উগ্রবাদ দমনে ইতোমধ্যে ৩৫ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

স্বাগত বক্তব্যে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমগুলো তুলে ধরেন। তিনি গ্লোবাল টেররিজম ইনডেপের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০১৭ সাল থেকে পরের দুই বছর দেশে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি কমেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম ঝুঁকিতে রয়েছে। এটা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নীতি এবং অংশীজনের কার্যক্রমের ফলে সম্ভব হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, দেশে সমন্বয়ের মাধ্যমে উগ্রবাদবিরোধী কাজ করার প্ল্যাটফর্ম এখনও সেভাবে তৈরি হয়নি। এই সম্মেলনের মাধ্যমে তা শুরু হলো। সম্মেলনের প্রথম দিনে উগ্রবাদ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক প্রবৃদ্ধি বিষয়ক সংস্থা (ইউএসআইডি), স্টপ ভায়োলেন্স কোয়ালিশন (এসভিসি), সিটিটিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক প্রবন্ধ, গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়।