যাচাই না করেই রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯   

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাজাকারদের নিয়ে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সেই তালিকা যাচাই না করেই প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কৃষক লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। বিজয় দিবস উদযাপন এবং চলমান দুর্নীতি, মাদক ও মজুতদারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানে একাত্মতা প্রকাশ করে এ সভার আয়োজন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দালাল আইনে রাজাকারদের যে তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ছিল, তা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে অনেকের নামের পাশে নোট ছিল, কারো নামে মামলা ছিল, সে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই না করেই প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ হয়নি। এজন্যই রাজাকারের তালিকা প্রকাশে এমন অসঙ্গতি হয়েছে।

 এজন্য আরও নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করবে। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তারা চিঠি পাঠিয়েছিল, আমাদের কাছে যে সমস্ত তথ্য আছে সেগুলো যেন পাঠানো হয়। রাজাকারের তালিকা তৈরি করা দুরূহ ব্যাপার। প্রাথমিকভাবে দালাল আইনে যাদের নামে মামলা হয়েছিল, সেই দালাল আইনের তালিকা পাঠানো হয়েছে। সেই তালিকায় মন্তব্য করে দেওয়া হয়েছে, অনেকের নামের মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সেটা তালিকায় যথাযথভাবে আসেনি।

তিনি বলেন, দালাল আইনে ১৯৭২ সালে যাদের নামে মামলা হয়েছিল, তদন্ত শুরু হয়েছিল, পরে আবার কেউ কেউ মামলা থেকে প্রত্যাহার হয়েছিল। সেই নোটে যাদের নামের মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেটা উল্লেখ ছিল কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় পুরোপুরিভাবে সেটা উল্লেখ করেনি।

মন্ত্রী বলেন, ভুল করে হোক আর যেভাবে হোক এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে। এখন আরও যাচাই-বাছাই করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আবার তালিকা প্রকাশ করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলমান শুদ্ধি অভিযান থেমে নেই। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এই অভিযান চলবে। যতদিন সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না ততদিন শুদ্ধি অভিযান চলবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সে যেই হোক। এখন তথ্যভিত্তিক অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি পরিষ্কারভাবে ভারতকে বলেছি, আপনারা যাদের আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেবেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তাদের দেশে গিয়ে বলেছি, আপনাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। অমিত শাহকে আমি বলেছি, আপনি বার বার বলছেন, আপনারা কোনো হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টানকে তাড়িয়ে দেবেন না। এজন্য আপনাদের মতামতকে স্বাগত জানিয়েছি। কারণ ১৯৭১ সালের পরে কোনো মুসলমান বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায়নি। কিংবা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি, সেই সময়ে যাদের আপনারা (ভারত) আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেবেন। আমরা স্বাগত জানাব। সেজন্য এনআরসিতে তারা কোনো হিন্দু-মুসলমানকে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে, এটা মনে হয় হবে না। কারণ ১৯৭১ সালের পরে আমাদের দেশ থেকে কোনো লোক যায়নি।

কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি প্রমুখ।