আ'লীগের সম্মেলনে সম্রাটের মুক্তি চেয়ে পোস্টার

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের মুক্তি দাবিতে পোস্টার লাগানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থলের চারপাশে এই পোস্টার লাগানো হয় বৃহস্পতিবার রাতে। এতে সম্রাটের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ, মৎস্য ভবন এবং ঢাকা ক্লাব এলাকায় এই পোস্টার দেখা গেছে। পোস্টারগুলো এমনভাবে সাঁটানো হয়েছে, যাতে সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া যে কারোরই সহজে চোখে পড়ে। এসব পোস্টারে নিচে লেখা রয়েছে- প্রচারে :'ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট মুক্তি পরিষদ' এবং 'ঢাকা তৃণমূলের সর্বস্তরের যুব সমাজ'। যদিও এ ধরনের কোনো সংগঠনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পরিচিত নন।

মোট তিন ধরনের পোস্টার দেখা গেছে। এসব পোস্টারের মধ্যে একটিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি দেওয়ার পাশাপাশি সম্রাটের ভাষণ দেওয়ার একটি ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আরেকটি পোস্টারে লেখা হয়েছে- 'রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দুঃসময়ের কর্মী ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি চাই'। একই সঙ্গে এই ছবিতে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছবিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আরেকটি পোস্টারে লেখা রয়েছে 'দুর্দিনের সম্রাট ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই'।

গত ৬ অক্টোবর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে। তখন তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। র‌্যাবের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল- কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাবেক সভাপতি সম্রাটের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ক্যাসিনো পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের প্রথম দিন থেকেই সম্রাট কয়েকশ' নেতাকর্মী নিয়ে কাকরাইলে তার নিজ কার্যালয়ে অবস্থান নেন। পরে তার অবস্থান ও আটক নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। এরই মধ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তার ব্যাংক হিসাব স্থগিত ও তলব করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর তার বিদেশ গমনে জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা।