আলোকচিত্র প্রদর্শনী

তরুণদের চোখে প্রকৃতি ও জীবন

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০১৯   

সমকাল প্রতিবেদক

শুক্রবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ক্লাউড'স ডেন আয়োজিত তরুণদের আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফিসহ অতিথিরা	    -সমকাল

শুক্রবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ক্লাউড'স ডেন আয়োজিত তরুণদের আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফিসহ অতিথিরা -সমকাল

কেউ কেউ মাধ্যমিকের গণ্ডিই পেরোয়নি। অনেকে উচ্চ মাধ্যমিকে কিংবা দেশের কোনো খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। পুঁথিবদ্ধ পড়াশোনার পাশাপাশি একেকজন হয়ে উঠেছেন শখের আলোকচিত্রী। তাদের চোখ খুঁজে বেড়ায় প্রকৃতি আর পরিবেশ। হাতে থাকা মুঠোফোন কিংবা ক্যামেরার একেকটি ক্লিকে উঠে আসে জীবনের প্রতিচ্ছবি। এমন সৃষ্টিশীল শতাধিক তারুণ্যের আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়ে গেল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে।

ক্লাউড'স ডেন নামের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট তথা প্রোডাকশন হাউস আয়োজিত প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয় ১১০ জন নবীন আলোকচিত্রীর দেড়শ' ছবি। প্রকৃতি, পরিবেশ, মানুষ, পথশিশু, ফুল, পাখি, দৈনন্দিন জীবনের চিত্র এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সারি, কী ছিল না তাতে! সবই যেন আটষট্টি হাজার বর্গমাইলের পথ থেকে প্রান্তরের প্রতিচ্ছবি।

দু'দিনব্যাপী প্রদর্শনী শেষ হয় শুক্রবার সন্ধ্যায়। এ দিন সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তরুণ আলোকচিত্রীদের প্রতি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। তিনি বলেন, তরুণরাই এ দেশের ভবিষ্যৎ। সৃষ্টিশীল কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণরা দেশের অগ্রযাত্রায় শামিল হচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে তারা নানারকম ঝুঁকি থেকেও মুক্ত থাকছেন।

সবাইকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণরাই এ দেশ স্বাধীন করেছেন, তারাই এ দেশকে এগিয়ে নেবেন। তারা যেন বিজ্ঞানমনস্ক হন, অন্ধকারের অপশক্তিকে রুখে দাঁড়াতে পারেন, সেজন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। পরে তিনি ঘুরে ঘুরে প্রায় প্রতিটি ছবি মনোযোগ দিয়ে দেখেন। তরুণ আলোকচিত্রীদের ছবি তোলার ধরন, দক্ষতা এবং বিষয় নির্ধারণের প্রশংসা করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের দেয়ালে সারিবদ্ধভাবে টানিয়ে রাখা তরুণ আলোকচিত্রীদের ছবিগুলো যেন কথা বলছিল। রঙিন স্বপ্নকে ডেকে ফেরার আকুতি ভেসে উঠছিল রূপকথা তাসনিয়া রহমানের ছবিতে। পথশিশুদের জীবনের চিত্র তুলে ধরেছেন আবু ইশরাক ইশতি। চৌধুরী ইমনের ক্যামেরায় উঠে আসে লিঙ্গ বৈষম্যের চমৎকার চিত্র। দুরন্ত শৈশবের প্রতিচ্ছবি নিয়ে হাজির হন সাদিক তানজিম হোসেন। আফরিনা আশরাফ অহনা দিয়েছেন পড়ন্ত বিকেলের নান্দনিক চিত্রায়ণ। শুভ কর্মকার তুলে ধরেছেন জীবন সংগ্রামের চিত্র। একটি নোঙর- সেটি নৌকার নাকি জীবনের- এই প্রশ্ন তুলে ধরেছেন দারুণ ছবিতে।

আলোকচিত্র ছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয় ফটোস্টোরি, সিনেমাটোগ্রাফি, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং ফটোগ্রাফি কুইজ। নবীন আলোকচিত্রীদের জন্য ছবি তোলার কলাকৌশল ও মূল বিষয় উপস্থাপনা নিয়ে খুঁটিনাটি তুলে ধরেন জ্যেষ্ঠরা। অনুষ্ঠানের প্রথম দিন উপস্থিত ছিলেন কার্টুনিস্ট খলিল রহমান। তিনিও নানা বিষয়ে তরুণ আলোকচিত্রীদের পরামর্শ দেন। এ ছাড়া কার্টুন প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ক্লাউড'স ডেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাজওয়ান রহমান তালহা সমকালকে বলেন, নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একেবারে নতুন আলোকচিত্রী আছেন অনেকে, যারা শখের বসে মোবাইল ফোনে ফটোগ্রাফি করেন। ইতালি এবং ভারত থেকেও দু'জন বাঙালি তাদের তোলা ছবি পাঠিয়েছেন এখানে। ঢাকার বাইরে থেকে অংশ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম এবং ইভেন্ট ম্যানেজার সাদ হাসিব তালুকদার বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকতেই ছবি তোলার নেশা পেয়ে বসে, এমন অনেকেই অংশ নিয়েছেন এই আয়োজনে। তারা শিক্ষাজীবনের অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করলেও ছবি তোলার নেশা থেকে মুক্ত হতে পারেননি। এসব প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ-তরুণীর ছবি এখানে প্রদর্শিত হয়েছে। এতে তারা ভীষণ উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

যারা পুরস্কার পেয়েছেন : বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৪ জন আলোকচিত্রী ও গ্রুপকে পুরস্কৃত করা হয়। মোবাইল ফটোগ্রাফি সিনিয়র ক্যাটাগরিতে শাফকাত রিশাত, রাইয়ান খান ও ইমতিয়াজ পাঠান এবং জুনিয়র ক্যাটাগরিতে তাসফিয়া ইসলাম আঁখি ও তানভীর আহমেদ। ক্যামেরা ফটোগ্রাফির সিনিয়র ক্যাটাগরিতে ইহসানুল হক, ইব্রাহিম বিন ফারুক ও আকন্দ আবির এবং জুনিয়র ক্যাটাগরিতে তৌহিদ উর রশিদ, আবিদ হাসান শাওন ও আফরিন আশরাফ। সিনেমাটোগ্রাফিতে সম্রাট নীরো, টিম বের্থো এবং ঘুড়ি স্টুডিও। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র এবং সম্মাননা স্মারক।