ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

ক্ষুদে গবেষকদের ‘বড়’ উদ্ভাবন

ক্ষুদে গবেষকদের ‘বড়’ উদ্ভাবন

৮ম চিন্তার চাষ খুদে গবেষক সম্মেলনে আগত শিক্ষার্থীরা। ছবি-সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:৫১ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:৫১

মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের কারণে গাছের ফলনের ওপর প্রভাব পড়ে। এর কারণে প্রধানত আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপে, নারিকেল, সুপারি ইত্যাদির ফলন কমেছে এবং আকারে ছোট হয়ে গেছে। পঞ্চগড়ের ডা. মেজর (অব) তানবিরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজু ইসলাম ও লিমন ইসলামের গবেষণায় এমন ফলাফল উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে '৮ম চিন্তার চাষ খুদে গবেষক সম্মেলন ২০২৩’ আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্কুলের সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির নির্বাচিত তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তারা গবেষণা পত্র, ধারণা পত্র ও পোস্টার উপস্থাপন করে।

তারা সবাই স্কুলের শিক্ষার্থী। তবে তারা চিন্তা করে চারপাশের প্রতিবেশ নিয়ে। বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, কৃষি অর্থনীতি, সামাজিক সমস্যা, শিক্ষা, জীবন ও সংস্কৃতি- প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই গবেষণার শিরোনাম বাছাই করে এবং সে বিষয়ে গবেষণা করে, সমাধান প্রস্তাব করে। তারা এ যুগের খুদে গবেষক। স্কুল পর্যায়েই তারা শুরু করেছে গবেষণা। তাদের চিন্তার জগৎকে বিকশিত করতে সহায়তা করছে স্বেচ্ছাসেবী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘চিন্তার চাষ’। শিক্ষার্থীদের এ সব গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ সব তথ্য।

চট্টগ্রামের ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু ওসমান, শাহ মো. তাইবুর রহমান, তাসফিক করিম ও মীর শাহিক আযান দেশি ও ফার্মের ডিমের ওপর গবেষণা করেছেন। তারা দেখেন, দেশি মুরগীর ডিমে পিএইচ স্তর ও প্রোটিনের পরিমাণ ফার্মের মুরগির ডিম থেকে বেশি পাওয়া যায়। তবে কোনো ডিমেই ব্যাকটেরিয়ার বড় লক্ষণ দেখা যায়নি।

শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী আরেকটি গবেষণায় তিনটি টবে যথাক্রমে বিশুদ্ধ মাটি, ইউরিয়া/টিএসপি সার ও জৈব সার তথা গোবর ব্যবহার করে পুঁইশাক রোপণ করেন। তারা দেখেন, জৈব ও বিশুদ্ধ মাটির পুঁইশাক দ্রুত গতিতে বেড়ে ওঠেছে এবং জৈব সারের পুঁইশাক সবচেয়ে বড় হয়েছে। শিক্ষার্থীরা হলেন, আদিত্য গোসাই, ফারহান জামান, সাহিত্য দেব ও বিশাল দে।

রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সালওয়া মুবাশশিরা সামিহা, রাকেয়া রায়হান ও সারিতা ফারসাতের পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শিক্ষাখাতে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রভাব পড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।

রাজশাহীর শেখ রাসেল মডেল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্নিগ্ধা মনি, আফিয়া জাহিন, রুবাইয়া ইসলাম বলেন, তারা মোবাইল আসক্তির বিষয়ে ১১-১৫ বছর বয়সী ৮৫ শিশুর ওপর গবেষণা করেন। তারা সিদ্ধান্তে আসেন, শিশুদের মোবাইল আসক্তির মূল কারণ মিডিয়া।

শিক্ষার্থীদের ঘুম ব্যাধি বা স্লিপ ডিসঅর্ডার অনুসন্ধান করেন সিলেটের সরকারি অগ্রগ্রামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সংহিতা দেব, অনন্যা শিকদার ও নওশিন তাবাসসুম। তারা বলেন, তারা ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণির ১৪৬৯ শিক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহ করেন এবং দেখেন ৪৩.৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ঘুমজনিত সমস্যায় ভোগেন। তাদের এ সমস্যার কারণ চারপাশের শব্দ, বিছানায় শোয়ার পর ফোন ব্যবহার, শারীরিক, মানসিক ও পারিবারিক সমস্যার কারণে।

এ দিনে সকালে টিএসসি মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ সময় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান এবং ফার্মেসী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

উপাচার্য বলেন, এরকম আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল পর্যায় থেকেই গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। স্কুল জীবন থেকে শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করলে জ্ঞান নির্ভর অর্থনীতি, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিকেলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩০ টি পুরস্কার দেওয়া হয়। এ সময় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক হাসিনা খান, বাংলাদেশ পাট শিল্প কর্পোরেশনের উপদেষ্টা ড. মোবারক আহমেদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জেবা আই সেরাজ, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান প্রমুখ শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। চিন্তার চাষের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক এস এম মেসবাহ ও পরিচালক জাহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×