সাজার হার বাড়াতে তদন্তে আরও মনোযোগী হোন: আইজিপি

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী- ফাইল ছবি

ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী- ফাইল ছবি

পুলিশের দুর্বল তদন্তের কারণে কিছু মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামির বড় অংশই পরে খালাস পেয়ে যায়। এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিচারে সাজার হার বাড়াতে মাঠপর্যায়ের পুলিশকে তদন্তে আরও মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

পুলিশ সপ্তাহের পঞ্চম দিনে  বৃহস্পতিবার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ তাগিদ দেন।

রাজধানীর রাজারবাগের পুলিশ অডিটোরিয়ামে ওই বৈঠকে অংশ নেন সারাদেশের পুলিশ সুপার থেকে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা। তাদের অনেকেই বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদার কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে এক পুলিশ কর্মকর্তা ডাবল কেবিন পিকআপ ও পুলিশ হাসপাতালের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদার কথা জানান। তাকে সমর্থন দেন আরও কয়েকজন। পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনার জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রসঙ্গও উঠে আসে বক্তব্যে।

এ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় মূল শহরে জমি পাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে শহরের বাইরে স্থান নির্বাচন করতে হবে। সেখানে গড়ে তোলা হবে থানা, ব্যারাকসহ পুলিশের অন্যান্য স্থাপনা।

পুলিশ প্রধান বলেন, এবারের পুলিশ সপ্তাহ অত্যন্ত সুন্দর ও কার্যকরভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারই প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা গেছে। সব মিলিয়ে পুলিশের অর্জন অনেক। তবে কোনো সদস্যের কারণে যেন সেই অর্জন ম্লান না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

'মুজিববর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার' এই স্লোগান মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে মানবিক পুলিশ হতে হবে, জনবান্ধব পুলিশ হতে হবে।

বৈঠকে থানায় থানায় নারী হেল্পডেস্ক চালুর ক্ষেত্রে সৃষ্ট সংকট নিয়ে কথা বলেন কর্মকর্তারা। তারা জানান, এ জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক নারী এসআই দরকার। দেশের ৬৯২টি থানায় তিন শিফটে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ২ হাজার ৭৬ জন এসআই। এত নারী এসআই না পাওয়ায় হেল্পডেস্ক ঠিকভাবে সেবা দিতে পারছে না।

পুলিশের উদ্ধার করা চোরাই গাড়ি প্রকৃত মালিকের কাছে সহজে হস্তান্তরের সুবিধার্থে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। 'লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড' বা এ জাতীয় কোনো নামে দ্রুত অ্যাপটি তৈরির কাজ শেষ করার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন আইজিপি। এতে চুরি হওয়া গাড়ি বা মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়েছে কিনা, সহজেই জানতে পারবেন ভুক্তভোগী।

পুলিশের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলো এসপির অধীনে না রেখে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা এবং উপকূলবর্তী এলাকায় অস্ত্রাগার ভবন দোতলা করার প্রস্তাবও দেন কর্মকর্তারা।