ডা. সারওয়ার আলীকে হত্যাচেষ্টায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২০      

সমকাল প্রতিবেদক

ডা. সারওয়ার আলী

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী হত্যাচেষ্টা মামলায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সোমবার ভোরে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে মো. ফরহাদ (১৮) নামে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সারওয়ার আলীর সাবেক গাড়িচালক নাজমুল ৫০০ টাকা দিয়ে দলে ভেড়ায় তাকে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ বলেছে, আবদুল্লাহপুর এলাকায় সে দিনমজুরের কাজ করে। নাজমুল নামের এক ব্যক্তি তাকে কাজ দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে তার মালপত্র নামানোর কথা ছিল।

বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার আলীর সন্দেহ– উগ্রবাদী কোনো গোষ্ঠী তাকে হত্যার জন্যই বাসায় ঢুকেছিল। যদিও এর আগে ওই ঘটনায় উত্তরা-পশ্চিম থানা পুলিশ বাড়ির দারোয়ান হাসান ও গাড়িচালক হাফিজকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়। তারাও স্বীকারোক্তিতে দাবি করে, তাদের মালিকের বাসায় লুটপাটের জন্য সাবেক গাড়িচালক নাজমুল তাদের সঙ্গে দুই লাখ টাকায় চুক্তি করেছিল।

থানা পুলিশের হাতে দুই আসামি এবং পিবিআইয়ের হাতে একজন গ্রেপ্তার হলেও বাসায় লুটপাট, নাকি সারওয়ার আলীকে হত্যার জন্যই দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকেছিল, সে বিষয়ে এ দুটি সংস্থা এখনই নিশ্চিত নয়।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো-উত্তর কার্যালয়ে ফরহাদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। সেখানে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ বলেন, 'গ্রেপ্তার আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও ছায়াতদন্তে পাওয়া তথ্যানুযায়ী এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, ডা. সারওয়ার আলীর বাসায় লুট করতেই ঢুকেছিল দুর্বৃত্তরা। পুরো পরিকল্পনায় ছিল তার সাবেক গাড়িচালক পলাতক নাজমুল। তার নেতৃত্বে পুরো ঘটনায় ৯ জন ছিল।'

পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, দুর্বৃত্তরা বাসায় লুটপাট চালাতে নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ঢুকেছিল, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নাজমুলকে গ্রেপ্তারের পর সব রহস্য বেরিয়ে আসবে। ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করা গেছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার আসামির জবানবন্দি বা ঘটনায় উগ্রবাদী সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ মেলেনি। অবশ্য তদন্তে সব বিষয়ই রয়েছে।

৫ জানুয়ারি রাতে উত্তরা-৭ নম্বর সেক্টরের বাড়িতে ঢুকে দুবৃর্ত্তরা ডা. সারওয়ার আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। তবে বাসার লোকজন ও প্রতিবেশীদের তৎপরতায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান। ওই ঘটনায় তিনি উত্তরা-পশ্চিম থানায় মামলা করলে পুলিশ তার বাড়ির দারোয়ান ও গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে মামলাটি উত্তরা-পশ্চিম থানা পুলিশ তদন্ত করলেও এর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে পিবিআই। এরই মধ্যে সংস্থাটির পক্ষ থেকে মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, তাদের হাতে গ্রেপ্তার ফরহাদ দিনমজুর। ঘটনার আগের দিন পলাতক আসামি নাজমুল তাকে কাজে নিয়োগের কথা বলে ৫০০ টাকায় ভাড়া করে। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আশকোনা হাজি ক্যাম্পের কাছে একটি হোটেলে। সেখানে নাজমুল ও ফরহাদ ছাড়া আরও পাঁচজন নাশতা করে। এরপর ফরহাদ জানতে পারে, কোনো বাসা থেকে মালপত্র নামাতে হবে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে একই এলাকার হোটেল রোজভ্যালির ৩০৩ নম্বর কক্ষে যায়। সেখানে নাজমুল চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে এবং অন্য সদস্যদের কাছে ডা. সারওয়ার আলীর বাসার পরিবেশ, কক্ষ ও পার্কিং প্লেসের বিস্তারিত বিবরণ দেয়। হামলার সময়ে কার কী ভূমিকা হবে তাও জানিয়ে দেয় সে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাজমুল ছাড়া বাকি ৬ জন ঘটনাস্থলে যায়। পরে নাজমুল একটি ব্যাগে ৭টি চাপাতি ও ৭টি সুইচ গিয়ার ছুরি নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। ছুরিগুলো প্রত্যেককে ভাগ করে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুই দুর্বৃত্ত বাসায় ঢুকলেও নাজমুলসহ অন্য ৫ জন বাইরে অবস্থান করে। ফরহাদও বাইরে ছিল। তবে সারওয়ার আলীর পরিবার ও প্রতিবেশীদের তৎপরতার কারণে তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে।

পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানান, হোটেলে পরিকল্পনা বৈঠকের বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। ওই ফুটেজ দেখে এরই মধ্যে নাজমুলসহ ৭ জনকে শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে ফরহাদকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এর বাইরে পুরো ঘটনা বাড়ির দারোয়ান ও গাড়িচালক জানত।