বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ নেই

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে: চীনা রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং- সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং- সংগৃহীত

চীনে করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। তিনি বলেছেন, গত এক সপ্তাহে করোনা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। অনেক শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার শিল্প উৎপাদনে ফিরেছে চীনারা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ফলে আমদানি-রপ্তানি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

ঢাকায় বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)। সংগঠনের সভাপতি গাজী গোলাম মোর্তজা, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মৃধা ও চীনা দূতাবাসের বাণিজ্য কর্মকর্তা লিউ জিনহুয়া বক্তব্য দেন।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, করোনার মূল প্রভাব ছিল উহান প্রদেশে। এ প্রদেশটিতে শিল্প উৎপাদন খুব কমই হয়ে থাকে। চীনে নতুন বছরের ছুটির পর করোনার প্রভাব অনুযায়ী কোনো প্রদেশে এক সপ্তাহ, কোনো কোনোটিতে দুই সপ্তাহ সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এরই মধ্যে। অনেক প্রদেশে আবার কাজ শুরু হয়েছে। চীন আত্মবিশ্বাসী, দ্রুত করোনা সমস্যার সমাধান হবে। ফলে বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে কোনো সমস্যা হবে না। তার তথ্য অনুযায়ী বস্ত্র, মেডিকেল সামগ্রী ও অন্যান্য মিলে মোট আমদানির ৭৫ শতাংশ আসে চীন থেকে।

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ এবং অন্যান্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি এবং লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার, সেগুলো পরিপূরণ করা হবে। প্রয়োজনে বেশি বেশি কাজ করে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে কোনো সমস্যা হবে না। তবে বাংলাদেশ সরকার যদি চীনাদের বাংলাদেশে আসার বিষয়ে দীর্ঘস্থায়ী কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, সেটা হবে উদ্বেগের। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত সঠিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই নেওয়া সমীচীন হবে। কোনো রকম গুজবের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না। অবশ্য এ পর্যন্ত বাংলাদেশ চীনের প্রতি অনেক উদার মনোভাব দেখিয়েছে।

বাংলাদেশের ছাত্ররা চীনে খাদ্য-সংকটে আছে- মিডিয়ার এ ধরনের প্রচারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে রাষ্ট্রদূত বলেন, মিডিয়ায় তিনি নিজেই এসব খবর পড়েছেন। অথচ ঘটনা একেবারেই সত্য নয়। চীনা ছাত্রদের মতো বাংলাদেশি ছাত্ররাও পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের তালিকা ধরে ধরে তাদের অতিরিক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি নিজে অনেক ছাত্রের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, সুস্থ আছেন। তবে করোনা নিয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক এবং মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণেই এসব ছাত্রকে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে না। এ মুহূর্তে তাদের দেশে আনাটা হতো ঝুঁকিপূর্ণ। রাষ্ট্রদূতের তথ্য অনুযায়ী, করোনায় মৃত্যুর হার চীনে ২ শতাংশ। অন্য দেশে এ হার শূন্য।

বিসিসিসিআই সভাপতি বলেন, এক মাস বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি চীনের কিছু কিছু কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা যাবে। বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করেন তিনি। গত কয়েক দিনে আমদানি কিছুটা কমেছে, এ তথ্য সঠিক। তবে করোনোর কারণেই কমেছে, সে কথা সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না। হ্রাস-বৃদ্ধি স্বাভাবিক ঘটনা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা সমন্বয় করা সম্ভব হবে।