চুড়িহাট্টার অদূরে সেই গলিতে এখনও বাস করেন মো. সাহেব উল্লাহ; বয়স ৮০-ঊর্ধ্ব। জীবনসায়াহ্নে দাঁড়ানো এই প্রবীণ শোনালেন নিদারুণ হতাশা ও কষ্টের কথা। এরই মধ্যে নানা রোগ-শোক বাসা বেঁধেছে শরীরে। অভাব-অনটনও জেঁকে বসেছে তার সংসারে। এ বয়সে সংসারের হাল ধরে থাকা কঠিন। তবুও কোনো রকমে হালটা ধরেই আছেন। ছোট্ট দুই নাতির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই আরও বহুদিন বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন সাহেব উল্লাহ। বুকের ভেতর আগুন নিয়ে 'জিন্দা লাশ' হয়েও বাঁচতে চান তিনি।
পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডিতে সাহেব উল্লাহর সাজানো সোনার সংসার ভেঙে খান খান হয়ে যায়। পরিবারের উপার্জনক্ষম দুই ছেলে মাসুদ রানা ও মাহবুবুর রহমান রাজুকে হারিয়েছেন তিনি। বৌভাতের ২৮ দিনের মাথায় ওই ট্র্যাজেডিতে প্রাণ গিয়েছিল সাহেব উল্লাহর ছোট ছেলে রাজুর। তখন তার স্ত্রী আফরোজা সুলতানা ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। স্বামীকে হারানোর সময়ও হাতে বিয়ের মেহেদি রং শুকায়নি ওই নববধূর। গত বছরের ৯ নভেম্বর আফরোজার কোলজুড়ে আসে ফুলের মতো ফুটফুটে এক শিশু। বাবার মুখ দেখার সৌভাগ্য হয়নি হতভাগা এই শিশুটির। মা-বাবার নামের সঙ্গে মিলিয়ে রাজুর সন্তানের নাম রাখা হয় হাবিবুর রহমান আফরাজ। বৃদ্ধ সাহেব উল্লাহর আরেক ছেলে রানার ৫ বছরের সন্তান শামছুল আরেফিন। আফরাজ আর আরেফিন দু'জনই তাদের বাবাকে হারিয়ে এতিম।
চুড়িহাট্টার গলির অদূরেই ১৮/২০, কেবি রুদ্র রোডের অন্ধকার চোরাগলির শেষ প্রান্তে পাঁচতলা একটি ভবনের ছোট্ট একটি বাসায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসবাস করেন সাহেব উল্লাহ। সোমবার দুপুরে ওই বাসায় যাওয়ার পর তার সঙ্গে কথা হয়। বাসায় বৃদ্ধের দুই ছেলে রানা-রাজুর ছবি টানানো। সংবাদকর্মীর পরিচয় পাওয়ার পর সামান্য কুশল বিনিময় করে ভেতরে গিয়ে দুই নাতিকে নিয়ে এলেন। এর পর সাহেব উল্লাহ বললেন, এই দু'জনকে নিয়েই বেঁচে আছি। আমি ছাড়া এই এতিমগুলোরে কে পালবে! কে ওদের দেখবে! দুর্ঘটনার পর সহায়তার জন্য সরকার থেকে শুরু করে কতজন কত আশা দিল! কিন্তু সবই হতাশায় পরিণত হয়েছে। কিছুদিন যাওয়ার পর কেউ আর মনে রাখেনি। হতভাগা এই বৃদ্ধ বাবা জানান, রানা-রাজু চুড়িহাট্টাবাসীর গর্ব ছিল। সবার বিপদে-আপদে দৌড়ে যেত। দুই ভাইয়ের মধ্যে অসাধারণ মিল ছিল। একে অপরকে ছাড়া কোথাও যেত না। নিজেদের ফোনের দোকানেই একসঙ্গে প্রাণ গেছে ওদের। দুর্ঘটনার এক মিনিট আগে সাহেব উল্লাহও ছেলেদের দোকান থেকে বাসার দিকে রওনা হন। একটু দেরি হলে সন্তানদের সঙ্গে হয়তো তাকেও না ফেরার দেশে চলে যেতে হতো! তবে এটাকে বেঁচে থাকা বলে না। তার করুণ আর্তি- সান্ত্বনা একটাই; রানা-রাজুর দুই এতিম বাচ্চাকে লালনপালন করে যাচ্ছি। আমি বেঁচে না থাকলে ওদের কে দেখত! সাহেব উল্লাহর এমন মর্মস্পর্শী কথা শুনে তার ৫ বছরের নাতির চোখের কোনায় অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। আর তিন মাসের ছোট্ট নাতি সংবাদকর্মীর ক্যামেরা দেখে অবাক বিস্ময়ে হাসছিল।
সাহেব উল্লাহ আরও জানালেন, স্বাধীনতার পর থেকে পরিবার নিয়ে পুরান ঢাকায় বসবাস করছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ফেনীতে। তিন ছেলে, এক মেয়ে, স্ত্রী আর নাতিদের নিয়ে তার সংসার। উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম দোকান পুড়ে অঙ্গার হওয়ার পর সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার। এখনও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর আতঙ্ক নিয়ে পুরান ঢাকায় বসবাস করে আসছেন।
সাহেব উল্লাহর ভাই এমএ রহিম জানান, রানা-রাজুর নাম তিনি রেখেছিলেন। চুড়িহাট্টায় তারও দোকান পুড়ে গেছে। আগুন লাগার ৮ মিনিট আগে ওই দিন দোকান থেকে বের হয়ে পড়েছিলেন বলে তিনি রক্ষা পেয়েছেন।
পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার সরু গলির মোড়েই চার তলাবিশিষ্ট ওয়াহেদ ম্যানশন ভবন। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে সেই ভবনটি দাউ দাউ করে জ্বলছিল। বিভিন্ন ফ্লোর থেকে ছিটকে পড়ছিল গ্যাস লাইটার, সুগন্ধিসহ বিভিন্ন কেমিক্যালের টিউব। মুহূর্তেই সেই আগুন ছড়িয়ে গেল আশপাশের ভবনে। সরু গলির বাতাসে উড়তে থাকল আগুনের লেলিহান শিখা। মানুষের দেহ পুড়ে অঙ্গার হলো; আগুনের তোড়ে গলির মোড়ে আটকে যাওয়া গাড়ি পুড়ে কঙ্কাল হলো। চুড়িহাট্টার সেই ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারান ৭১ জন মানুষ। চুড়িহাট্টা পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। এরও আগে ২০১০ সালের ৩ জুন একইভাবে পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ট্রাজেডিতে প্রাণ হারান ১২৪ জন।
বারবার ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও তেমন বদলায়নি পুরান ঢাকার দৃশ্যপট। ঘনবসতিপূর্ণ আর ঘিঞ্জি এলাকার অনেক বাসাবাড়ির নিচে এখনও ঝুঁকিপূর্ণভাবে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের কেমিক্যাল সামগ্রী। অনেক বাসার নিচে গুদামও রয়েছে। অনেকেই বলছেন, দ্রুত দৃশ্যপট না বদলালে হয়তো সাহেব উল্লাহরা বারবার এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন।
যে ওয়াহেদ ম্যানশন থেকে আগুনের সূত্রপাত, সেই ভবন লাগোয়া রাজমহল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সিসিটিভির ফুটেজে সেদিনের ঘটনার ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়ে। ঘটনার সময় হোটেলেই ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম মালিক আলমগীর শিকদার। তিনি বললেন, তখন সবাই খাওয়া-দাওয়া করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে আশপাশ কেঁপে ওঠে। এরপরই জুতা-স্যান্ডেল রেখে সবাই যার যার মতো দৌড়ে স্থান ত্যাগ করে। রাজমহল হোটেলের আরেক মালিক হামিদুর রহমান মিন্টু বলেন, আগুনে তাদের ৮-৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তবে হোটেলে অবস্থানরত কেউ মারা যাননি। অনেকের ধারণা ছিল, হোটেল থেকেই আগুনের সূত্রপাত। সিসিটিভিতে দেখা যায়, আগুনের সূত্রপাত হোটেলে নয়; পাশের ওয়াহেদ ম্যানশনে।
সেই চুড়িহাট্টার মোড়েই প্লাস্টিকের গুঁড়ার ব্যবসা করছেন মোরশেদ আলম। তিনি সমকালকে বলেন, নিমতলীতে পরিবার নিয়ে বসবাস করি, আর চুড়িহাট্টায় করি ব্যবসা। দুটি জায়গায়ই অভিশপ্ত। তবু আমরা জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে পুরান ঢাকায় রয়েছি। ৩-৪ দিন আগেও চুড়িহাট্টায় ট্রান্সফরমারে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এলাকার লোকজন দ্রুত এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। এ যেন প্রতিদিনের আতঙ্ক। প্রতিদিনের সংগ্রাম। এক শতকের কম জায়গার মধ্যেই বহুতল ভবন বানানো হচ্ছে। বাপ-দাদার জায়গা ভাই-বোনদের মধ্যে ভাগ হওয়ার পর সবাই আলাদা বাড়ি বানাচ্ছে। এত অল্প জায়গায় এমন উঁচু ভবন তৈরি করলেও দেখার কেউ নেই। পুরান ঢাকাকে কীভাবে নতুন করে বসবাসযোগ্য করা যায়, তা নিয়ে গবেষণা দরকার বলে অনেকে মনে করেন।
চুড়িহাট্টায় আগুন লাগার রাতে খাবার কিনতে গিয়েছিলেন স্থানীয় তরুণ ওয়াছিউদ্দিন মাহিদ। মাহিদকে হারিয়ে এক বছর ধরেই চোখের পানি ফেলছেন বাবা নাসির উদ্দিন। তিনি বলছিলেন, চুড়িহাট্টার আগুন তো নিভে গেছে। কিন্তু তার মনের আগুন নেভেনি। চুড়িহাট্টার সেই গলিতে গেলেই তিনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না। পোড়া ভবনগুলোর দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন।
নাসির উদ্দিন বলেন, কেমিক্যাল না থাকলে আগুন তো রাস্তায় আসত না। তার ছেলেরও প্রাণ যেত না। কিন্তু এলাকা থেকে এখনও সেই কেমিক্যাল সরেনি। তিনি চান না তার ছেলের মতো আর কারও প্রাণ যাক। কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে এতদিন কেমিক্যালের গুদাম পুরান ঢাকা থেকে সরে যেত বলে তিনি মনে করেন।
নাসির উদ্দিন বললেন, পুরান ঢাকার অধিকাংশ বাড়িওয়ালা হাউস বিল্ডিং থেকে গৃহনির্মাণের লোন পান না। তখন বাড়ির মালিকরা কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের কাছে ধর্ণা দেন। তারা ২০-২৫ লাখ টাকা দিলে তা দিয়ে বাড়ি বানান তারা। এর বিনিময়ে বাসার নিচে কেমিক্যালের গুদাম বসাতে দেন বাড়ির মালিকরা। তবে আমরা এর পরিবর্তন চাই। এটা বদলাতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
চকবাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন শাহিন মোল্লা। শিশু মেয়ের বায়না মেটাতে ওই রাতে খাবার কিনতে গিয়েছিলেন চুড়িহাট্টা মোড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নেয় তার প্রাণও। সেই ঘটনার প্রায় এক বছর পর গত রোববার কথা হয় শাহিন মোল্লার স্ত্রী ময়না বেগমের সঙ্গে। সেই রাতের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন এই নারী। বলছিলেন, স্বামীর রোজগারে চলত সংসার। সেই স্বামীকে হারিয়ে তিনি দিশেহারা। ১৪ বছরের ছেলে সাফওয়ান, ১১ বছরের মেয়ে হাফসা ও ৭ বছরের মেয়ে হুমায়রা; তিন সন্তানের পড়ালেখা আর মুখে খাবার তুলে দিতে গিয়ে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন।
ময়না বেগম বলেন, তার সংসার সচ্ছলই ছিল। কিন্তু চুড়িহাট্টার আগুন স্বামীকে কেড়ে নেওয়ার পর এখন সংসার চালাতে স্বজনদের কাছে হাত পাততে হয়।
সেই চুড়িহাট্টা এখন যেমন আছে :পুড়ে যাওয়া ভবনগুলোর মধ্যে ওয়াহেদ ম্যানশনের নিচতলায় থাকা মার্কেট সংস্কার করা হয়েছে। এর একটি দোকানে এখন বিক্রি হয় প্লাস্টিকের দাহ্য বস্তু। ওপরের তলাগুলো এখনও সাক্ষ্য দিচ্ছে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতের ভয়াবহতার। দেয়ালের ইট পুড়ে কালো হয়ে রয়েছে। তবে ভবনটির নিচতলার গুদামের মূল ফটক তালাবদ্ধ।
ওই ভবনের মালিককে পাওয়া না গেলেও স্থানীয়রা বলছিলেন, ভবনটিতে এখন আর কেউ থাকে না; কিছু রাখাও হয় না। ভবন মালিকদের ঘটনার পর দেখা যায়নি। আগুন নেভানোর পর ওয়াহেদ ম্যানশন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও নিচতলার মার্কেটের দোকানগুলোতে গত কয়েক মাস আগে সংস্কার করা হয়েছে। পোড়া ইট সরিয়ে নতুন ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে।
আগুনে ওয়াহেদ ম্যানশনসহ ৭টি ভবন পুড়লেও চারটি পুরো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। ওয়াহেদ ম্যানশনের পশ্চিম পাশে দোতলা ভবন ও চুড়িহাট্টা মসজিদের পূর্ব পাশের চারতলা একটি বাড়ি এবং পূর্ব পাশের একটি বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয় ওই সময়ে। সম্প্রতি ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ওয়াহেদ ম্যানশন ও এর সামনের ভবনটি ছাড়া সব ভবনই সংস্কার করা হয়েছে। এখন বোঝা যাচ্ছে না, আগুন এসব ভবনে এত মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল!
চুড়িহাট্টার একাধিক বাসিন্দা জানালেন, পুড়ে যাওয়া সেই ওয়াহেদ ম্যানশনে আবার বসতি গড়তে নানা চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছেন ওয়াহেদ মিয়ার দুই ছেলে ভবনের মালিক হাসান ও সোহেল।
আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস আর বিভিন্ন তদন্ত কমিটির তথ্যে উঠে আসে, অবৈধ গুদামে থাকা কেমিক্যাল আর গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন লেগেছিল। সিটি করপোরেশন ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়াহেদ ম্যানশনের ভূগর্ভস্থ পার্কিং জোনে রাসায়নিকের বিশাল গুদামের সন্ধান পায়। এর পর গোটা এলাকা থেকে এসব রাসায়নিক আর দাহ্য পদার্থের গুদাম-কারখানা অপসারণে তোড়জোড় শুরু হয়।
চুড়িহাট্টাবাসীর জন্য ভয়াবহ সেই রাতের এক বছর পার হতে চলেছে। আবার আসছে সেই ২০ ফেব্রুয়ারি রাত। এক বছরে বদলায়নি কিছুই। সরু গলিতে এখনও সেই যানজট। আবাসিক বাসার নিচে দাহ্য বস্তু, রাসায়নিকের গুদাম। পুড়ে যাওয়া পাঁচটি ভবনের মধ্যে চারটিরই সংস্কার করা হয়েছে। কিছুটা সংস্কার হয়েছে সেই ওয়াহেদ ম্যানশনের নিচের অংশও। চুড়িহাট্টার বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও এখনও হতাহত মানুষের স্বজনদের বুকের ভেতর জ্বলছে সেই আগুন। স্বজন হারানো বাসিন্দারা এখনও ডুকরে কাঁদেন।
গুদাম মালিকদের খোঁজ জানে না পুলিশ :চুড়িহাট্টার ঘটনার এক বছর পার হলেও ওয়াহেদ ম্যানশনে কারা গুদাম ভাড়া নিয়েছিল, তার ঠিকানাই বের করতে পারেনি পুলিশ। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন সমকালকে বলেন, ওয়াহেদ ম্যানশনে গুদাম ভাড়া নিয়েছিল জনৈক ইমতিয়াজ আহমেদ ও তার দুই ব্যবসায়িক পার্টনার। তারা যে ঠিকানা ও তথ্য ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছিল, তা যাচাই করতে সিটি করপোরেশনে যাই। ইমতিয়াজ নামে কারও নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরিচয় নিশ্চিত হতে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মেলানোর পরও কিছু পাওয়া যায়নি। তাই কারা ওয়াহেদ ম্যানশন ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছিল, তা বের করা যায়নি।
এত বড় ঘটনার মামলার তদন্তে এক বছরে কী অগ্রগতি; জানতে চাইলে কবির হোসেন বলেন, মামলা শুধু পুলিশের কাছে বড়। অন্য সংস্থার কাছে বড় নয়। ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিকের দুই ছেলে জামিনে রয়েছে। যারা ভাড়া নিয়ে পারফিউম ও কেমিক্যাল করেছিল, তাদের ব্যাপারে খুব বেশি তথ্য মালিকপক্ষ দিতে পারেনি। তাদের দাবি, ভাড়াটিয়ার সঙ্গে চুক্তিপত্রের অনেক কাগজপত্র পুড়ে গেছে। তবে চুড়িহাট্টাবাসী বলছেন, দীর্ঘ দিন পার হলেও ওয়াহেদ ম্যানশনের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে না পারা পুলিশের ব্যর্থতা। নাসির উদ্দিন নামে চুড়িহাট্টার এক বাসিন্দা বলেন, ওয়াহেদ ম্যানশনে কারা কেমিক্যালের গোডাউন ভাড়া নিল; এত দিনে তারা শনাক্ত হলো না কেন? সবাই বলছে, ওই ব্যক্তি এক বিদেশি নাগরিক। কেন তার বিচার হলো না? কেন তাকে ধরা গেল না? এই প্রশ্নের জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে।