ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঢুকতেই দেখা গেল বিশাল প্যান্ডেল। সেখানে মাথায় লাল-সবুজের টুপি পরে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মিলিত হয়েছে মুক্তির উৎসবে। কিছুক্ষণ পরপর 'জয় বাংলা' স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করছে তারা। এই উৎসবেই শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের (বীরউত্তম) কাছ থেকে শপথ নেয় উদার-অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার। একই সঙ্গে তারা সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ নির্মূলেরও শপথ নেয়।

শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত 'মুক্তির উৎসব' শীর্ষক কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা এই শপথ নেয়। জাদুঘরের শিক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবার এই উৎসবের ১৯তম আসরের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই উৎসবে শিক্ষার্থীরা নাচ-গান আর আনন্দে মেতে থাকে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। মঞ্চে উঠেই তিনি শিশুদের সঙ্গে শুরু করলেন আড্ডা। শিক্ষার্থীরাও তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেল। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এই দেশ ও দেশের স্বাধীনতা নিয়ে একে একে প্রশ্ন ছুড়ে দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীরাও দিতে থাকল তার সঠিক জবাব। এ সময় তিনি প্রশ্ন করেন, 'এখন যদি আমি তোমাদের বলি যে একটা মানুষের নাম বলো, যার জন্ম না হলে এ দেশ স্বাধীন হতো না।' শিক্ষার্থীরা উত্তর দিল, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।' এ সময় তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর যদি জন্ম না হতো, তাহলে আমাদের বাংলাদেশ হতো না। মনে রেখ, তিনি সবাইকে একত্র করেছিলেন, সবাইকে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।' এরপর তিনি জানতে চান কোন দেশের বিরুদ্ধে এ দেশের বীর সন্তানরা যুদ্ধ করেছিলেন? শিক্ষার্থীরা উত্তর দিল, 'পাকিস্তান'। এটি শোনার পর জাফর ইকবাল বলেন, 'আমি এই দেশটার নামও মুখে নিতে চাই না। তোমরা সবাই বাসায় গিয়ে টুথপেস্ট দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে নেবে, যেহেতু এই দেশের নামটা মুখে নিয়েছ।'

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব আমিনুল ইসলাম খান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি সারা যাকের, প্রথম বাংলাদেশি নারী এভারেস্টজয়ী নিশাত মজুমদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।