তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনীসহ তার ৭ মার্চের ভাষণ এবং 'মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ' বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের নেপথ্য মদদদাতাদের খুজে বের করতে জাতীয় কমিশন গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে।

তারা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ-একটি আরেকটির পরিপূরক। পৃথক করে দেখার সুযোগ নেই। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন মুক্তিযুদ্ধের চর্চা করে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের কথা, বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে হবে। তার আদর্শকে ধারণ করতে হবে। এ জন্য পাঠ্যপুস্তকে বাধ্যতামূলকভাবে বঙ্গবন্ধু ও বাংলদেশ নামে একটি কোর্স চালু করা উচিত।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ' শীর্ষক সেমিনারে বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। তিনি বলেন,'বঙ্গবন্ধু যেভাবে মানুষকে বিশ্বাস করে পচাত্তরের ১৫ আগষ্ট সেই বিশ্বাসঘাতকদের কারণেই নিহত হয়েছেন সেরকম বিশ্বাসঘাতক তো এখনও আমাদের চারপাশে আছে, সরকারে আছে। বঙ্গবন্ধু কন্যার ধারে-কাছে নাই সেটাও আমরা হলফ করে বলতে পারবো না।'

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ক্ষণজন্মা মহান নেতা। তার জন্ম না হলে বাংলাদেশ কোনোদিনও হয়ত স্বাধীন হতো না।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেজর জেনারেল (অব) মোহাম্মদ আলী শিকদার। সংগঠনের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ'র সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন- অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, পুলিশের সাবেক আইজিপি মো.নূরুল আলম,সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত আনোয়ার উল আলম,সাবেক রাষ্ট্রদূত কামাল উদ্দিন,নাট্যব্যক্তিত্ব লায়লা হাসান, শাহজাহান মৃধা বেনু, বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব হারুন হাবীব।

অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, আমরা এখনও চুড়ান্তভাবে বিজয়ী হয়েছি তা ভাবার কারণ নাই, কারণ এখনও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি তৎপর রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার জন্য সিঁড়ি তৈরি করেছেন। একাত্তরের ৭ মার্চ তিনি কৌশলগতভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যাতে তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে ঘোষণা না দেওয়া হয়। কিন্ত বাঙালি জাতিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যা বোঝার বুঝে গিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল।

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, '১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সালের সময়ের দিকে তাকালে দেখা যায় অন্যান্য সিনিয়র নেতারা পাকিস্তানের সঙ্গে অনেক সময় আপস করলেও শেখ মুজিবই একমাত্র নেতা যিনি বাঙ্গালির স্বার্থের প্রশ্নে একটি বারের জন্যেও আপোস করেননি।'

তিনি আরও বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে একাত্তর এবং স্বল্প সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সফল সমাপ্তি, সব ঘটনার বিচার বিশ্নেষণ করলে দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর সীমাহীন ত্যাগ ও সাহস এবং একক সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।

সংগঠনের মহাসচিব হারুন হাবীব সেমিনারে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনীসহ তার ৭ মার্চের ভাষণ এবং 'মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ' বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের মদদদাতাদের খুজতে জাতীয় কমিশন গঠনসহ তিনদফা দাবি তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তৃতায় মেজর জেনারেল (অব) কে এম সফিউলল্লাহ বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমাদেরকে এতই আন্দোলিত করেছিল যে কারণে আমরা চুপ থাকতে পারিনি। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের কারণে আমি পাকিস্তানী সেনাবহিনীতে থেকেই বিদ্রোহ করেছিলাম।'