করোনাজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রায় ৪৭ শতাংশ বাড়িতে অতিথিরা প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণার পর ছুটি প্রাপ্তদের মাত্র ৪১ শতাংশ ঘরে ছিলেন। বাকি ৫৯ শতাংশ যথাযথভাবে সতর্ক ছিলেন না। অনেকেই ভ্রমণে, আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে কিংবা বিভিন্ন জনসমাগমে গেছেন।

'বাংলাদেশে করোনা বিস্তার প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার ভূমিকা' শিরোনামে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং টিম এসবিসিসি পরিচালিত যৌথ জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। গত ১৯ ও ২০ মার্চ পরিচালিত এই জরিপে দেশের মোট পাঁচ হাজার ২৩৯ জন অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগেরই বয়স ২০-২৯ বছর।

জরিপে অংশ নেওয়া ১২ শতাংশ মানুষের দাবি, তারা তাদের আশপাশের বিদেশফেরতদের যথাযথভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন মানতে দেখেননি। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে জনসমাগমেও দেখতে পাওয়া গেছে বিদেশফেরত ব্যক্তিদের।

জরিপের ফলে আরও দেখা যায়, প্রায় ৮৭ শতাংশ মানুষের দাবি, তাদের এলাকায় করোনা সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রচার হয়নি। অন্যদের বেশিরভাগ জানিয়েছেন, সপ্তাহে মাত্র এক-দু'দিন প্রচার চালানোর কথা। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে দেশের বেশিরভাগ মানুষই জেনেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে। ৩০ শতাংশ মানুষ জেনেছেন সংবাদমাধ্যম থেকে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করেছেন, যার বেশিরভাগই সাধারণ কাপড়ে তৈরি। ২০ শতাংশ মানুষ জানেন না আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর।

টিম এসবিসিসির গবেষণা ইউনিটের তত্ত্বাবধানে জরিপটির উপাত্ত সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সার্বিকভাবে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মো. সাকিব জুবায়ের। টিম এসবিসিসির পক্ষ থেকে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন যোবায়ের ইবনে আলী।

এ জরিপটি পরিচালনার সঙ্গে আরও সংশ্নিষ্ট ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আবু সাদাত ও ফারহানা আফরোজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাকিব শাহরিয়ার, খুলনা প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমেল আহমেদ।