করোনায় ডিএমপির পরিস্থিতি

পুলিশে আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার আড়াইগুণ

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২০     আপডেট: ০২ জুন ২০২০   

সাহাদাত হোসেন পরশ

করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসাধীন ও সুস্থ রোগীর তুলনামূলক চিত্র

করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসাধীন ও সুস্থ রোগীর তুলনামূলক চিত্র

পুলিশের সবচেয়ে বড় ইউনিট ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এই ইউনিটের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ডিএমপির সদস্য বেশি। সব মিলিয়ে পুলিশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ১২৯ জন। তার মধ্যে ডিএমপির সদস্য এক হাজার ৭০৬ জন। তবে আশার তথ্য হলো- শুরুতে ডিএমপিতে যে হারে করোনা সংক্রমণ হয়েছিল এখন তা অনেক কমে এসেছে। এখন প্রতি দিন আক্রান্তের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি সদস্য সুস্থ হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ডিএমপির এক হাজার ৫ জন সদস্য সুস্থ হয়েছেন। আর সব মিলিয়ে পুলিশে ২ হাজার ৯৩ সদস্য এরই মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

ডিএমপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ২৩ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর এই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৫৭ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ডিএমপির ৬৯২ জন সদস্য।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৫ পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনই ডিএমপির বিভিন্ন পদ মর্যাদার।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, শুরুতে যখন ডিএমপির অনেক সদস্য একে একে আক্রান্ত হচ্ছিলেন, তখন অনেকে স্বাভাবিক কারণে ঘাবড়ে যাচ্ছিলেন। কারণ আমরা তো এ ধরনের পরিস্থিতি অতীতে কখনো মোকাবেলা করিনি। ধীরে ধীরে আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে সামলে নিয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি ফোর্সদের ওয়েলফেয়ার দেখা হচ্ছে। যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের পরিবারের নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার কিনে পাঠানো হচ্ছে। তারা যাতে মনে না করেন, আমরা তাদের পাশে নেই। তাই সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। একাধিক টিম রয়েছে যারা হাসপাতালে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের খোঁজ নিচ্ছেন। পুলিশ মহাপরিদর্শক নিয়মিত চিকিৎসাসহ ফোর্সদের খাওয়া এবং সার্বিক ওয়েলফেয়ারের বিষয়গুলো তদারক করে থাকেন। করোনা চিকিৎসায় আমরা একটা ব্যবস্থাপনা দাঁড় করিয়েছে। যতদূর মনে হয় এটা সেরা ব্যবস্থাপনা। এর সুফল এখন আমরা পাচ্ছি। শতশত সদস্য সুস্থ হচ্ছেন। যারা সুস্থ হচ্ছেন তাদের কোয়ারেন্টাইন শেষে ছুটি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। যাতে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবে তারা চাঙ্গা হয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। হয়ত তারা এক সময় মনে করত করোনায় আক্রান্ত হলেই তার ছেলে বা মেয়ে ফিরে আসবে না। এখন তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে আক্রান্ত হলেও ভালো হয়ে যাবে। আমরা এরই মধ্যে যাদের হারিয়েছি তাদের পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি। আমরা কোনো সহকর্মীকে হারাতে চাই না। চিকিৎসাসহ ফোর্সের সার্বিক ওয়েলফেয়ার দেখভাল করতে আমরা সম্ভাব্য সেরাটুকু দিচ্ছি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কৃষ্ণপদ রায় সমকালকে বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরুর থেকেই ডিএমপিকে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে। শুরুতে আক্রান্তের হার অনেক বেশি ছিল। এখন আক্রান্তের তুলনায় সুস্থ হওয়ার হার কয়েক গুণ বেশি। করোনা জয় করেই পুলিশ তার মৌলিক দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করে যাবে।