ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর একজনকে জীবিত উদ্ধার

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২০     আপডেট: ৩০ জুন ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনার প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। সোমবার রাত ১০টার দিকে ওই ব্যক্তিকে 'জীবিত' অবস্থায় উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা কামরুল হাসান সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, লঞ্চ দুর্ঘটনার ১৩ ঘণ্টা পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘১০টা ১০ মিনিটের দিকে কুশন পদ্ধতি ব্যবহার করে জাহাজ ভাসানোর চেষ্টা করা হলে সম্ভবত ইঞ্জিনরুম খুলে যায়। সে সময় তিনি বের হয়ে আসেন এবং উদ্ধারকর্মীরা তাকে উদ্ধার করেন।’ 

উদ্ধার ব্যক্তির নাম সুমন ব্যাপারী। তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল্লাহপুর। 

এদিকে, উদ্ধার সুমন ব্যাপারী সম্পর্কে মিটফাের্ড হাসপাতালের সহকারী রেজিস্টার ডা. আমজাদ হােসেন সমকালকে বলেন, সাধারণত বন্ধ ঘরে কেউ ১৩ ঘণ্টা আটকা থাকলে তার শরীরে দাগ পড়ার কথা। কিন্তু উদ্ধার ব্যক্তির শরীরে তা নেই। তার ফুসফুসেও পানি জমার লক্ষণ নেই।

সোমবার সকালে মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা 'এমভি মর্নিং বার্ড' নামের একটি ছোট লঞ্চ ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গায় ডুবে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তাদের মধ্যে ৩০ জনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন- সত্যরঞ্জন বনিক (৬৫), মিজানুর রহমান (৩২), শহিদুল (৬১), সুফিয়া বেগম (৫০), মনিরুজ্জামান (৪২), সুবর্ণা আক্তার (২৮), মুক্তা (১২), গোলাম হোসেন ভুইয়া (৫০), আফজাল শেখ (৪৮), বিউটি (৩৮),  ছানা (৩৫), আমির হোসেন (৫৫), মো. মহিম (১৭), শাহাদাৎ (৪৪), শামীম ব্যাপারী (৪৭), মিল্লাত (৩৫), আবু তাহের (৫৮), দিদার হোসেন (৪৫), হাফেজ খাতুন (৩৮), সুমন তালুকদার (৩৫), আয়শা বেগম (৩৫), হাসিনা রহমান (৪০), আলম বেপারী (৩৮),  মোসা. মারুফা (২৮), শহিদুল হোসেন (৪০), তালহা (২), ইসমাইল শরীফ (৩৫), সাইফুল ইলাম (৪২), তামিম ও সুমনা আক্তার।