করোনাকালে কাঁদাল বুড়িগঙ্গা

সংঘর্ষের পর লঞ্চডুবি : ৩২ লাশ উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

ঢাকার শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গায় সোমবার সকালে সংঘর্ষের পর লঞ্চডুবির ঘটনায় নিহতদের উদ্ধার করে ট্রলারে সারি করে রাখেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা- মাহবুব হোসেন নবীন

ঢাকার শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গায় সোমবার সকালে সংঘর্ষের পর লঞ্চডুবির ঘটনায় নিহতদের উদ্ধার করে ট্রলারে সারি করে রাখেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা- মাহবুব হোসেন নবীন

আবদুর রহমান পেশায় মুহুরি। স্ত্রী হাসিনা রহমান ও ৯ বছরের সন্তান সিফাতকে নিয়ে থাকতেন পুরান ঢাকার কসাইটুলিতে। করোনাকালের আগে মোটামুটি ভালোই চলছিল তাদের সংসার। করোনায় সব ওলট-পালট হয়ে যায়। সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ঢাকার বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

কসাইটুলির বাসার মালপত্র নিতে আবদুর রহমান স্ত্রী-সন্তানসহ গতকাল সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জের গ্রামের বাড়ি থেকে মর্নিংবার্ড নামের লঞ্চে ঢাকায় আসছিলেন। লঞ্চ নোঙর করার আগেই বুড়িগঙ্গার সদরঘাটের বিপরীত দিকে ফরাশগঞ্জ ঘাটে এমভি ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ডুবে যায় তার লঞ্চটি। এতে বাসার মায়া ছাড়ার আগেই দুনিয়ার মায়া ছাড়তে হলো পরিবারটিকে।

মর্মান্তিক এ লঞ্চডুবিতে গতকাল রাত পর্যন্ত ২০ জন পুরুষ, ৯ জন নারী, তিন শিশুসহ ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৩১ জনের পরিচয় মিলেছে। তাদের অন্তত ৩০ জনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি। আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কিনা, তাও নিশ্চিত নয়।

করোনার মহামারিতে নিকটজনকে হারিয়ে প্রতিদিনই চোখের জল ফেলতে হচ্ছে দেশের বহু মানুষকে। এই শোকের মধ্যে বুড়িগঙ্গায় এই ট্র্যাজেডিতে কাঁদছে সারাদেশ। জানা গেছে, ময়ূর লঞ্চটিতে বৈধ চালক ছিল না। এ ঘটনায় লঞ্চটির ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নৌ পুলিশ।

লঞ্চডুবির পর স্বজনের শোক আর আহাজারিতে বুড়িগঙ্গার বাতাস ভারি হয়ে উঠছিল। মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গেও ছিল আর্তনাদ। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেও ছিল স্বজন আর উৎসুক মানুষের ছোটাছুটি। ঝুঁকি নিয়ে সাহসের সঙ্গে কাজ করেছে বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধারকারী দল।

লঞ্চডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার পৃথক শোক বার্তায় তারা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে সার্বক্ষণিক উদ্ধারকাজের খোঁজখবর রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা বলেছেন, লঞ্চটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল। যাত্রীবোঝাই মর্নিংবার্ডকে ঘাটে নোঙর করা ময়ূর লঞ্চটি যেভাবে আকস্মিকভাবে ধাক্কা দিয়েছে, তাকে নিছক দুর্ঘটনা বলতে নারাজ তারা। এটাকে 'হত্যাকাণ্ডই' বলছেন তারা। ওই লঞ্চের চালকের চরম গাফিলতি আর অবহেলার কারণে এতগুলো মানুষের প্রাণ গেছে বলে মত তাদের। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

যেভাবে দুর্ঘটনা : বেঁচে যাওয়া একাধিক যাত্রীর ভাষ্য ও সিসিটিভির ফুটেজে লঞ্চডুবির স্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চাঁদপুর রুটের

ময়ূর-২ লঞ্চটি হঠাৎ পেছনের দিকে ঘুরছিল। ঠিক একই সময়ে মুন্সীগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা মর্নিংবার্ড ফরাশগঞ্জ ঘাটে ভেড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মর্নিংবার্ড লঞ্চটি ময়ূর-২ লঞ্চকে অতিক্রম করার সময় ময়ূর-২ পেছন থেকে সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মর্নিংবার্ড লঞ্চটি অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ডুবে যায়। তীরে দাঁড়িয়ে অনেক লোক এই দৃশ্য দেখছিলেন। বাঁচাও বাঁচাও বলে কয়েকজনের চিৎকার শুনেছেন তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ভেতরে যাত্রীদের অনেকেই বের হতে পারেননি। বাইরে কিছু যাত্রী সাঁতরে তীরে ওঠেন। নারী, শিশু এবং বৃদ্ধরা বের হতে পারেননি।

মুন্সীগঞ্জের সত্যরঞ্জন বণিক আর আবদুর রউফ দীর্ঘদিনের বন্ধু। দুই দশক ধরে তারা প্রতিদিন লঞ্চে সকালে মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসেন। কাজ শেষে আবার বাড়ি ফিরে যান। আবদুর রউফ জানান, ৯টার দিকে লঞ্চটি টার্মিনাল থেকে অল্প দূরে ছিল। যাত্রীরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি লঞ্চ ধাক্কা দিলে মর্নিংবার্ড ডুবে যায়। অনেকে চিৎকার করতে থাকেন। লঞ্চের নিচতলায় ছিলেন তারা। পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকেন। একপর্যায়ে রউফ উঠতে পারলেও ডুবে মারা যান তার বন্ধু সত্যরঞ্জন।

মো. মাসুদ নামে আরেক যাত্রী বলেন, ঘাটে ভেড়ার জন্য মর্নিংবার্ড সোজা আসছিল। এ সময় ময়ূর লঞ্চটি একটু পেছনের দিকে এসে তাদের লঞ্চটিকে ধাক্কা মারে। এতে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের লঞ্চটি ডুবে যায়। তিনি কেবিনে ছিলেন। কোনোমতে গ্লাস ভেঙে বের হতে পেরেছেন। রিফাত নামে আরেক তরুণ দুর্ঘটনায় তার মা ও ছোট বোনকে হারিয়েছেন। তিনিও তাদের সঙ্গে ছিলেন। কাতর কণ্ঠে তিনি বলেন, 'চোখের সামনে থেকে ওরা চলে গেল। কীভাবে ডুবে গেল বুঝতেই পারলাম না। ওদের বাঁচাতেও পারলাম না। এই কষ্ট নিয়ে কীভাবে বাঁচব।'

সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে মরদেহ শনাক্ত করতে আসেন নিহত হাসিনা রহমানের বোন হামিদা বেগম। তিনি বলেন, আজকেই তাদের ঢাকার বাসা ছেড়ে মালপত্র নিয়ে মুন্সীগঞ্জের বাসায় চলে যাওয়ার কথা ছিল। ছোট্ট ছেলেকে বাড়িতে রেখে আসার ইচ্ছা ছিল তাদের। তবে মা-বাবার সঙ্গে ও ঢাকায় আসতে কান্নাকাটি করছিল। শেষ পর্যন্ত তিনজন বাড়ি ফেরার বদলে ওপরওয়ালার কাছে চলে গেল। পুরো পরিবারটিই শেষ হয়ে গেল।

বেঁচে যাওয়া একাধিক ব্যক্তি ও তাদের স্বজনরা বলছেন, ঝড়, ঢেউ বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণে দুর্ঘটনার শিকার হলেও মনকে এক ধরনের প্রবোধ দেওয়া যায়। মর্নিংবার্ড যেভাবে ডুবেছে এটা চালকের গাফিলতি। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে।

মৃতদের পরিচয় : মিটফোর্ড হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্য ২০ জন পুরুষ, ৯ জন নারী ও ৩টি শিশু রয়েছে। তাদের অধিকাংশের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। মৃতদের মধ্যে ৩১ জনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন- সত্য রঞ্জন বণিক (৬৫), মিজানুর রহমান (৩২), শহিদুল (৬১), সুফিয়া বেগম (৫০), মনিরুজ্জামান (৪২), সুবর্ণা আক্তার (২৮), মুক্তা (১২), আফজাল শেখ (৩৮), বিউটি (৩৮), ময়না (৩৫), আমির হোসেন (৫৫), মহিম (১৭), শাহাদৎ (৪৪), শামীম বেপারী (৪৭), মিল্লাত (৩৫), আবু তাহের (৫৮), দিদার হোসেন (৪৫), হাফেজা খাতুন (৩৮), সুমন তালুকদার ((৩৫), আয়েশা বেগম (৩৫), হাসিনা রহমান (৪০), শামীম বেপারী (২৮), মোসামৎ মারুফা (৪০), শাহিদুর হোসেন (৪০), তালহা (২), ইসমাইল (৩৫), তামিম, সুমনা আক্তার, মাইদুল ইসলাম ও পাপ্পু। পরিচয় শনাক্তের পর মরদেহগুলো গতকালই স্বজনের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দেড় লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ : মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। লঞ্চডুবির ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এ ঘোষণা দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। লাশ দাফন-কাফনের জন্য তাৎক্ষণিক ১০ হাজার করে টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, দুঃখজনক ঘটনা। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিকল্পিত প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।'

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, 'ইতোমধ্যে চালককে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ। আমরা সঠিক ঘটনা অনুসন্ধান করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। লঞ্চটি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যাত্রী নিয়েছিল। স্বাস্থ্যবিধি মানার পরও তাদের সলিল সমাধি হলো। লঞ্চে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল কিনা তা আমরা তদন্ত করে দেখব। সেখানে কেউ দায়ী হলে ব্যবস্থা হবে।' লাশ দাফন ও পরিবহনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে উদ্ধার অভিযান : ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জিয়াউর রহমান জানান, লঞ্চডুবির খবর পাওয়ার পর ৯টা ৩৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের চারটি দল অভিযান শুরু করে। অভিযানে ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ, নৌপুলিশসহ আরও অনেক সংস্থা কাজ করে। ডুবুরিরা একে একে লাশ উদ্ধার করে আনেন। ডুবে যাওয়া লঞ্চটি নদীর তলদেশে উপুড় হয়ে আছে। লঞ্চটির আশপাশে বেশ কিছু মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পান ডুবুরিরা।

বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি জাহাঙ্গীর আলম শিকদার জানান, একাই তিনি ৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। লঞ্চটি ৬০-৭০ ফুট পানির নিচে কাত হয়ে রয়েছে। আরেক ডুবুরি মো. কালু জানান, দুটি লাশ লঞ্চের বাইরে পাওয়া গেছে। অনেকে হয়তো বাঁচার জন্য শেষ পর্যন্ত লঞ্চের বাইরে আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।

বিআইডব্লিউর উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে আটকে পড়ায় এখনও উদ্ধার কাজে অংশ নিতে পারেনি। এ ছাড়া ঠিক কতজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্টভাবে বলতে পারেননি কেউ।

মামলা : লঞ্চডুবির ঘটনায় গতকাল মধ্যরাতে ময়ূর-২ লঞ্চে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। এতে আসামি করা হয়েছে লঞ্চের মালিক মোফাজ্জল হামিদ ছোয়াদ, মাস্টার আবুল বাশার, জাকির হোসেন, ড্রাইভার শিপন হাওলাদার, মাস্টার শাকিল ও সুকানি নাসির। এজাহারভুক্ত এই ছয়জন ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আর কয়েকজন আসামির তালিকা রয়েছে। বেপরোয়াভাবে লঞ্চ চালিয়ে মানুষ হত্যা ও ধাক্কা দিয়ে লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য দণ্ডবিধির ২৮০, ৩০৪ (ক), ৪৩৭ ও ৩৪ ধারায় মামলা হয়। জানা গেছে, লঞ্চের মালিকের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। তবে তিনি ঢাকায় থাকেন।

নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার খোন্দকার ফরিদুল ইসলাম সমকালকে জানান, লঞ্চের মালিক, চালকসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, বিআইডব্লিউটিএ বিশেষ পদ্ধতিতে লঞ্চটি তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় আসতে না পারায় আরেকটি ছোট জাহাজ এসে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। ডুবে যাওয়া লঞ্চে ভেতরে ট্রাকের খালি টায়ার ঢুকিয়ে তার মধ্যে হাওয়া দেওয়া হচ্ছে। অনেক টায়ারে হাওয়া দেওয়া গেলে লঞ্চটি ভেসে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডুবুরিরা বলছেন, লঞ্চের ভেতরে কোনো মৃতদেহ নেই।

তবে ড্রাইভার শিপন হাওলাদার জানান, ২১ জুন থেকে তার চাকরি নেই। বেতন পরিশোধ করে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের লঞ্চ চালানোর কথা নয়, তারা সেটি চালাচ্ছিল। ওই লঞ্চে কোনো চালক ছিলেন না। মাস্টার লঞ্চটি চালাচ্ছিলেন বলে দাবি তার।

সাত সদস্যের কমিটি : লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) রফিকুল ইসলাম খানকে আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (নৌনিরাপত্তা) রফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এই কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। গতকাল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

উৎসুক জনতা বাড়াল করোনার ঝুঁকি : বুড়িগঙ্গায় ডুবে যাওয়া লঞ্চের নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে ডুবুরিরা যখন নদীর তলদেশে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন, তখন অর্ধশত ছোট নৌকায় সেখানে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। সদরঘাটের পন্টুন থেকে শুরু করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গ পর্যন্ত ছিল শত শত মানুষের ভিড়। করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে এসব মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা দূরের কথা, বেশির ভাগের মুখে মাস্ক পর্যন্ত ছিল না। এসব মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশকেও হিমশিম খেতে দেখা যায়।

উদ্ধার অভিযানের সময় মাঝ নদীতে নৌপুলিশের স্পিডবোট থেকে মাইকে বারবারই উৎসুক জনতাকে সরে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছিল। ভিড় করা মানুষের উদ্দেশে বলা হচ্ছিল, 'আপনারা পাশে সরে যান, আমাদের কাজ করতে দিন। আপনাদের নৌকার নিচে আমাদের ডুবুরিরা কাজ করছে।'

আরও শোক : বুড়িগঙ্গায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে প্রাণহানির ঘটনায় আরও শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মহাসচিব (অব.) মেজর আবদুল মান্নান প্রমুখ। ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটনও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। হতাহতদের দ্রুত উদ্ধার, চিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।