লকডাউনের প্রস্তুতি চলছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে। ওয়ারী এলাকায় অবস্থিত ওয়ার্ডটিতে গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে মাইকিং। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলোর তত্ত্বাবধানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাইকিং করে এলাকাবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে লকডাউনের খবর। এ সময় এলাকাবাসীর করণীয় সম্পর্কেও অবহিত করা হচ্ছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো সমকালকে বলেন, মাইকিং তো চলছেই। এ ছাড়া করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য একটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। লকডাউনের সময় স্বেচ্ছাসেবীরা কীভাবে কাজ
করবেন, তা পর্যালোচনা ও স্বেচ্ছাসেবীদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তিনটি শিফটে স্বেচ্ছাসেবীদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে। অন্যান্য প্রস্তুতিও চলছে। আগামী শনিবার ভোর ৬টা থেকে পুরো ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে লকডাউন শুরু হবে।
পুলিশের ওয়ারী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার হান্নানুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জোনভিত্তিক লকডাউন বাস্তবায়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জনগণের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে পুলিশ। জরুরি প্রয়োজনের জন্য প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ থাকবে। তবে কোন এলাকার পথ খোলা রাখা হবে সেটি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। ওইসব এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। লকডাউনের সময় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সরবরাহের জন্য সিটি করপোরেশনে স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত করেছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।
জানা গেছে, করোনা নিয়ন্ত্রণে গত মাসের শুরুর দিকে রাজধানীসহ সারাদেশে জোনভিত্তিক লকডাউনের পরামর্শ আসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। তখন রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার ও ওয়ারীকে পরীক্ষামূলকভাবে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু রাজধানীতে জোনভিত্তিক লকডাউনের ফল কী হয়, সেটি বিবেচনায় নিয়ে কেবল পূর্ব রাজাবাজার লকডাউন করা হয়। সেখানে লকডাউনের সফলতা পাওয়া গেলে ওয়ারী এলাকা লকডাউনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডিএসসিসির ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড (ওয়ারী এলাকা) লকডাউন করার কথা বলা হয়। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু ৪১ নম্বর ওয়ার্ড লকডাউন করার সিদ্ধান্ত হয়। এ ক্ষেত্রে পূর্ব রাজাবাজারের অভিজ্ঞতা ও রাজাবাজারের ভুল-ত্রুটি বিবেচনায় নিয়ে আরও কার্যকর লকডাউন বাস্তবায়ন করতে চায় ডিএসসিসি ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
পূর্ব রাজাবাজার লকডাউনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুনশি সমকালকে বলেন, লকডাউন বাস্তবায়ন করা পুলিশের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং। পরিশ্রমও অনেক। পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিরক্ত করে, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ফোন করে। অনাকাঙ্ক্ষিত চাহিদা জানিয়েও ফোন করে। এসব চাহিদা অনেক সময় পূরণ করা যায়নি। এতে তর্কবিতর্ক হয়েছে। মন খারাপ করেছে কেউ কেউ। ধৈর্য ধরে কাজ করতে হয়েছে। ওসি বলেন, নানা অজুহাতে মানুষ বের হওয়ার চেষ্টা করে। বাধা পেয়ে উঁচু মহল থেকে ফোনে তদবিরও করিয়েছে অনেকে বের হওয়ার জন্য। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বের হতে দেওয়া হয়নি। এ জন্যই লকডাউন সফল হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
গত ১৩ জুন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৪৫টি এলাকাকে 'রেড জোন' হিসেবে চিহ্নিত করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় কারিগরি কমিটি। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৮টি এলাকা। প্রতি লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৬০ জন করোনা রোগী থাকার ভিত্তিতে এই রেড জোন চিহ্নিত করা হয়। এর পর থেকেই এসব এলাকায় জোনভিত্তিক লকডাউন শুরু হতে যাচ্ছে এমন আলোচনা শুরু হয়। তবে চিহ্নিত করার টানা ২১ দিন পর আগামী শনিবার ওয়ারীর অংশবিশেষে জোনভিত্তিক লকডাউন হতে যাচ্ছে। ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের র‌্যাংকিন স্ট্রিট, লারমিনি স্ট্রিট, নবাব স্ট্রিট, ওয়্যার স্ট্রিট, হেয়ার স্ট্রিটসহ জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন পর্যন্ত মোট ১৬টি লেন লকডাউনের আওতায় পড়ছে।