বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির চার দিন পেরিয়ে গেলেও মর্মান্তিক ওই ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকেও টেনে তোলা যায়নি এ ক'দিনে। ওই ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটি এখনও তাদের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিয়েছে।

গত সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে মর্নিং বার্ড নামে ছোট আকারের একটি লঞ্চ অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকার সদরঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সকাল ৯টার কিছু সময় পর সদরঘাটের অদূরেই ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চ পেছন দিয়ে সেটিকে ধাক্কা দিলে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই লঞ্চটি তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের সবার বাড়িই মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করার আগেই সোমবার রাতে নৌপুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। এতে অভিযুক্ত ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোফাজ্জল হামিদ ছোয়াদ, মাস্টার আবুল বাশার, জাকির হোসেন, ড্রাইভার শিপন হাওলাদার, মাস্টার শাকিল ও সুকানি নাসিরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্তও করছে সদরঘাট নৌথানা পুলিশ। যদিও গতকাল পর্যন্ত কোনো আসামিই গ্রেপ্তার হয়নি।

লঞ্চডুবিতে নিহত ইসলাম শরীফ শিপলুর স্বজন মশিউর রহমান শুভ বলেন, লঞ্চের প্রায় সব যাত্রীই বিভিন্ন অফিসের কর্মী ও ব্যবসায়ী ছিলেন। এত বড় একটা ট্র্যাজেডির পর কর্তৃপক্ষ শুধু যেন লাশ হস্তান্তর করেই দায়িত্ব শেষ করেছে। দায়ীদের গ্রেপ্তারের কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। নিহত সুমন তালুকদারের ভাই সোহাগ তালুকদার বলেন, তাদের স্বজনদের আর ফেরত পাবেন না। কিন্তু দায়ীদের বিচার হলে তারা শান্তি পাবেন। সদরঘাট এলাকার বিভিন্ন নৌকার মাঝি ও ঘাট শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পরও উদ্ধারে কোনো ধরনের তৎপরতাও ছিল না বড় লঞ্চ ময়ূর-২-এর। সেটিকে স্বাভাবিকভাবেই লালকুঠি ঘাটে নোঙর করা হয়। দায়িত্বরত নৌপুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা বা দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তখন চাইলেই লঞ্চটির চালক ও স্টাফদের ধরতে পারতেন। কিন্তু তখন কেউই তৎপরতা দেখাননি।

সদরঘাট নৌ থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক তৎপরতা চলছে। পুলিশ কোনো অবহেলা করছে না।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম-পরিচালক ও ঢাকা নদীবন্দরের প্রধান এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, লঞ্চডুবির ঘটনার কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলছে। আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই বিআইডব্লিউটিএ গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। অভিযুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।