দোহারে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২০   

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি

নিহত ব্যবসায়ীর বাড়িতে পুলিশের কর্মকর্তারা

নিহত ব্যবসায়ীর বাড়িতে পুলিশের কর্মকর্তারা

ঢাকার দোহার উপজেলার পূর্ব লটাখোলা এলাকায় তপন কর্মকার (৪৫) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার হামলার ঘটনা ঘটে। রাতে ওই ব্যবসায়ীর বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী।

নিহত তপন উপজেলার পূর্ব লটাখোলা গ্রামের মৃত গোপাল কর্মকারের ছেলে। লটাখোলা এলাকায় তার একটি স্বর্ণের দোকান রয়েছে।

তপনের বড় ভাই কৃষ্ণ কর্মকার বলেন, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে আমি রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। আমার স্ত্রীও আমার সঙ্গে ছিল। অন্যরা যার যার ঘরে ঘুমাচ্ছিল। এসময় মুখোশ ও রেইনকোট পড়া কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাড়ির সামনের প্রধান ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের হাতে রামদা ছিল। আমাদের চিৎকারের শব্দ পেয়ে ঘরে থাকা আমার ছোট ভাই তপন বেরিয়ে এলে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে দুর্বৃত্তরা। পরে দুর্বৃত্তরা আমার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়।

দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর কান্নার শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। তারা গুরুতর আহত তপনকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় পাঠান। বুধবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পরপরই দোহার থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে, বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পূর্ব লটাখোলা এলাকারই ঝোপের একটি ডোবা থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ওই গৃহবধূকে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। 

বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দোহার সার্কেলের এএসপি জহিরুল ইসলাম, দোহার থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন, ওসি (তদন্ত) আরাফাত হোসেনসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।

দোহার সার্কেলের এএসপি জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন বিষয় আমলে নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। অচিরেই এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে আমরা আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারব।

এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।