অভিযোগের পাহাড় সাহেদের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২০     আপডেট: ২০ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রতারক মো. সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে সারাদেশ থেকে অসংখ্য অভিযোগ আসছে। র‌্যাব তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে যে হটলাইন চালু করেছে, সেখানকার সদস্যরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। বিচিত্র কৌশলে বহু মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন তিনি। এসব শুনে বিস্মিত র‌্যাব সদস্যরা। গত দু'দিনেই র‌্যাবের কাছে ১৪০ জন অভিযোগ জানিয়েছেন।

এদিকে রিমান্ডে থাকা রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদকে নিয়ে রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় সাহেদের ব্যবহূত একটি নম্বরবিহীন গাড়ি থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা  হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করেছে পুলিশ।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন কুমার সাহা জানান, শনিবার রাতে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ মোড়ে সাহেদকে নিয়ে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখানে তার ব্যবহূত একটি নম্বরবিহীন এক্স-ট্রেইল গাড়ি পাওয়া যায়। গাড়ির ভেতরে একটি পিস্তল, ম্যাগাজিনে এক রাউন্ড গুলি, ১০ বোতল ফেনসিডিল ও পাঁচ বোতল বিদেশি মদ পাওয়া গেছে। এরপর মধ্যরাতে সাহেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, র‌্যাবের হটলাইনে ১২০টি ও ইমেইলে ২০টি অভিযোগ এসেছে। জানা গেছে, অভিযোগের মধ্যে আছে সরকারি চাকরি ও বদলির কথা বলে টাকা আদায়, বালু ভরাট; রড, সিমেন্ট, বিটুমিন সরবরাহকারীকে টাকা না দেওয়া, ব্যাংকের ঋণ সংক্রান্ত অভিযোগ, রিকশাভ্যানের ভুয়া সনদ বিক্রি, হাসপাতালে অতিরিক্ত অর্থ আদায়। অভিযোগকারীদের অনেকেই প্রবাসী। রিজেন্টের কর্মীদেরও অনেকে বেতন না পাওয়ায় অভিযোগ করেছেন। র‌্যাবের হটলাইন আরও দুই থেকে তিন দিন চালু থাকবে। এসব অভিযোগ দেওয়া পরিবারকে র‌্যাব আইনি সহায়তা দেবে।

প্রতারণার শিকার ওবায়দুল মজিদ নামে এক ব্যক্তি জানান, সাহেদের পূর্বাচল প্রকল্পে বালু দিয়েছিলেন তিনি। এ জন্য তাকে এক টাকাও দেওয়া হয়নি। এখলাছ খান নামের আরেকজন বলেন, সাহেদের প্রজেক্টে এক কোটি ৪৯ লাখ টাকার পাথর ও বালু সরবরাহ করেন তিনি। তবে এক টাকাও তাকে দেওয়া হয়নি। মাঝে ৩০ লাখ টাকার চেক দিলেও সেটিও বাউন্স হয়। পরে বিদেশ থেকে তাকে একটি গাড়ি এনে দেওয়ার কথা ছিল, সেটিও দেননি।

গত ৬ জুলাই সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়। তখন থেকে সাহেদ পলাতক ছিলেন। ১৫ জুলাই ভোরে ভারতে পালানোর সময় সাতক্ষীরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

তথ্য চেয়ে আরও চার ব্যাংকে চিঠি দুদকের : সাহেদ করিমের নিজের ও তার মালিকানাধীন আট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে আরও চার ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে করা মামলার কপি চেয়ে ছয় থানায় চিঠি পাঠানো হয়। সূত্র জানায়, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রিমিয়ার, শাহজালাল ইসলামী ও উত্তরা ব্যাংকে রোববার চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগেও তথ্য চেয়ে একাধিক ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। একই দিন তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কপি চেয়ে ঢাকা মহানগরের ছয় থানায় চিঠি দেওয়া হয়।