পানি ঢুকছে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের ঘরবাড়িতে

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২০     আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

টানা বর্ষণে রাজধানীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। শুক্রবার কদমতলীর শামীমবাগ এলাকা থেকে তোলা ছবি	-ফোকাস বাংলা

টানা বর্ষণে রাজধানীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। শুক্রবার কদমতলীর শামীমবাগ এলাকা থেকে তোলা ছবি -ফোকাস বাংলা

রাজধানীর নাসিরাবাদ এলাকা কাগজ-কলমে ঢাকা শহরের মধ্যে হলেও সেখানে উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগেনি। এলাকাটা একেবারেই নিচু। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এই এলাকার অনেকাংশই এখন পানির নিচে। টানা কয়েক দিন ধরেই পানি বেড়েছে। মানুষের ঘরবাড়িতেও ঢুকে গেছে বন্যার পানি। এ অবস্থায় অনেকের যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে নৌকা।

শুধু নাসিরাবাদ নয়, রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি এলাকার চিত্রই এখন এ রকম। তুলনামূলক নিচু ওই এলাকায় একসময় কেবলই জলাশয় ছিল। সেগুলো দিন দিন ভরাট করে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি, আবাসন প্রকল্প, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা প্রভৃতি। ফলে বন্যার পানি ধারণের কোনো উপায় নেই। ভারি বৃষ্টিতে অনেক সময় ওই সব এলাকা তলিয়ে যায়। আর বন্যা হলে তো কথাই নেই।

সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের অনেক জায়গায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা বন্যার পানির কারণে রাজধানীর চারপাশের নদনদীতে পানি বেড়েছে। সেই পানি নিচু এলাকায় ঢুকছে। আর কয়েক দিন এভাবে পানি বাড়তে থাকলে এলাকায় বসবাস করা দুরূহ হয়ে পড়বে।

জানা গেছে, রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের ইদারকান্দি, ফকিরখালী, বালুর পাড়, বাবুর জায়গা, দাসেরকান্দি, জোড়ভিটা, ত্রিমোহনী উত্তরপাড়া, নাসিরাবাদ উত্তরপাড়া, নাসিরাবাদ টেকপাড়া, ইমামবাগ, উত্তরগাঁও, শেখের জায়গা ও নাগদারপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

ডিএসসিসির ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকবর হোসেন জানান, তার এলাকার অনেক বাড়িঘর ডুবে গেছে। রাস্তাঘাটে পানি উঠেছে। এলাকার মানুষ খুব কষ্টে আছেন। তিনি জানান, তিস্তার পানির একটা অংশ ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকা হয়ে ভৈরব-শীতলক্ষ্যা দিয়ে তুরাগ ও বালু নদীর অববাহিকায় চলে আসে। বর্তমানে বালু নদীতে পানি বেড়েছে। তাই এর আশপাশের এলাকাগুলো তলিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, বর্তমানে বালু নদীতে পানির স্তর হচ্ছে ৭ দশমিক ১৩ মিটার। এই নদীর পানির সমতল ৫ দশমিক ৩৩ মিটার। ৫ দশমিক ৭৫ মিটারের ওপরে গেলে বিপদসীমা ধরা হয়ে থাকে। ফলে এই নদীতে সতর্ক অবস্থা জারি রয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলে বেড়িবাঁধ থাকলেও পূর্বাঞ্চলে বন্যা ঠেকানোর মতো বাঁধ বা অন্য কোনো অবকাঠামো নেই। পূর্বাঞ্চলে বেশিরভাগ নিচু এলাকা ও জলাভূমি ভরাট করে আবাসিক এলাকা করা হয়েছে। সেই আবাসিক এলাকাতেও পানি ঢুকে পড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঢাকা ওয়াসা পানি নিস্কাশনের জন্য পাঁচটি স্থানে পাম্প স্থাপন করলেও তা পূর্বাঞ্চলকে বন্যামুক্ত করতে পারবে না। গোরান, বনশ্রী, বাসাবো, আফতাবনগর, সাঁতারকুলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কমপক্ষে ৫০ লাখ মানুষের বসবাস। এ ছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের মধ্যবর্তী ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও ডিএনডি বাঁধ এলাকাতেও বন্যার পানির দেখা মিলেছে। অবশ্য ইতোমধ্যে ডিএনডি এলাকার বন্যার পানি দূর করতে সেনাবাহিনীর একটি টিম কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম।

ঢাকা ওয়াসা জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের পানির উচ্চতা ৩ দশমিক ৬৫ মিটার উঠলেই স্লুইসগেটগুলো বন্ধ করে দিয়ে পাম্পগুলো চালু করে ওয়াসা। ইতোমধ্যে সেই উচ্চতায় পৌঁছে গেছে পানি। সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসের (সিইজিআইএস) নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আবদুল্লাহ জানান, রাজধানীসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকার প্রধান সমস্যা হচ্ছে, নদীগুলোর প্রবাহপথে বাঁধ ও সড়কসহ নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকার পানি নামানোর জন্য আপাতত করণীয় হলো, চারপাশের নদীগুলোর সঙ্গে সংযোগ খালগুলো দ্রুত যুক্ত করা এবং ভ্রাম্যমাণ পাম্প বসিয়ে দ্রুত নিম্নাঞ্চলের পানি সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া।