শক্তিশালী বোমার নেপথ্যে কী

পল্লবী থানায় বিস্ফোরণে ৪ পুলিশসহ আহত ৫

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২০     আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

বুধবার রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানায় বিস্ফোরণে ভেঙে যাওয়া জানালার কাচ সড়ক থেকে পরিষ্কার করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী - সমকাল

বুধবার রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানায় বিস্ফোরণে ভেঙে যাওয়া জানালার কাচ সড়ক থেকে পরিষ্কার করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী - সমকাল

রাজধানীর পল্লবী থানার ভেতর প্রচণ্ড বিস্ফোরণে পুলিশের চার সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রিয়াজুল ইসলাম নামে এক বেসামরিক ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর। তার বাম হাতের কবজি ও ডান হাতের একটি আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে প্রাথমিকভাবে জঙ্গি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

পুলিশ বলছে, স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছে ওজন মাপার যন্ত্রের মতো একটি মেশিন পাওয়া যায়। থানায় আনার পর সেটিই বিস্ফোরিত হয়। তিনটি স্টিলের পাইপের মধ্যে বিস্ফোরক ভরে ওজন মাপার মেশিনে বোমা সেট করা হয়। এর মধ্যে একটি পাইপে থাকা বিস্ফোরক থানার দোতলায় বিস্ফোরিত হয়। বাকি দুটি পাইপের বিস্ফোরক গতকাল দুপুরে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। এগুলো ইডি বা এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বলে ধারণা পুলিশের।

এদিকে পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের কথিত দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। অনলাইনে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ গতকাল রাতে তাদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে সাইট ইন্টেলিজেন্সের দায় স্বীকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ ব্যাপারে গতকাল রাতে জানতে চাইলে ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন সমকালকে বলেন, পল্লবীর ঘটনায় আসামি ধরে এনেছে পুলিশ, আর কথিত দায় স্বীকারের কথা জানিয়ে বিবৃতি দিচ্ছে সাইট ইন্টেলিজেন্স। এর কোনো ভিত্তি নেই। পল্লবীর ঘটনার সঙ্গে জঙ্গিদের কোনো সংশ্লিষ্টতার তথ্য মেলেনি। এ ব্যাপারে সিটিটিসির ডিসি আব্দুল মান্নান বলেন, এই দায় স্বীকার পুরোপুরি ভিত্তিহীন। অতীতেও এই ধরনের কথিত দায় স্বীকারের ঘটনা ঘটেছে।

সন্ত্রাসীরা কী উদ্দেশ্যে ইডি বানিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, পল্লবী এলাকায় একজন কাউন্সিলরকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই বোমা তৈরি করা হয়েছিল। ওই কাউন্সিলরের সভায় বোমাভর্তি ওজন মাপার মেশিনসদৃশ ওই বস্তুটি রাখার কথা ছিল। বিস্ফোরিত বোমাটি বেশ শক্তিশালী ছিল বলে জানান পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি দেশজুড়ে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব ইউনিটে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশকে টার্গেট করে বা পুলিশ স্থাপনায় হামলা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। আরও বলা হয়, দেশে হত্যাকাণ্ড, নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছে আইএসের আদলে গঠিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি। জঙ্গি হামলার এমন আশঙ্কার মধ্যেই পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিককের বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা আছে বলে মনে হয় না। আটককৃতরা ডাকাত দলের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের কাছে থাকা কিছু একটা বিস্ফোরিত হয়। তবে ঘটনাটি তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

পল্লবীতে বিস্ফোরণে আহতরা হলেন- ওই থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইমরানুল ইসলাম, এসআই সজিব খান, শিক্ষানবিশ এসআই রুমি তাব্রেজ হায়দার ও অঙ্কুশ কুমার দাশ এবং থানায় কাজ করা রিয়াজুল ইসলাম। তাদের মধ্যে রুমি ও রিয়াজুল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইমরানুল ও সজিব একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। অঙ্কুশের চোখে আঘাত থাকায় তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের শরীরে স্প্লিন্টার পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

গ্রেপ্তার তিনজন হলো- রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেন। তাদের পল্লবী থানা থেকে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটে (সিটিটিসিসি) যাচ্ছে।

যেভাবে বিস্ফোরণ: ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, এ এলাকায় মাঝেমধ্যে নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হয়। একটি অপরাধী চক্র কিছু ঘটাতে পারে এমন তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবী থানা পুলিশ ও ডিবির দল কয়েকদিন ধরে কাজ করছিল। পরে সংঘবদ্ধ চক্রের অবস্থানের খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কালশী কবরস্থানের দিকে যায় পুলিশ। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কয়েক সহযোগী পালিয়ে যায়। উদ্ধার করা হয় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ওজন মাপার যন্ত্রের মতো একটি ডিভাইস।
এমন জিনিস কেন তাদের কাছে থাকবে- এটা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় রাতেই বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ইউনিটের সদস্যরা থানায় গিয়ে ডিভাইসটি পর্যবেক্ষণ করেন। তবে আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখার জন্য কিছু যন্ত্রপাতির দরকার ছিল। সেজন্য তারা ইউনিটের অন্য সহকর্মীদের খবর পাঠান। যন্ত্রপাতি আসার আগেই থানার ভেতর একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চার পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, বোমা বিশেষজ্ঞ দল পৌঁছানোর পর ধারণা দেয় যে, কিছু বিস্ফোরক তখনও অবিস্ফোরিত থাকতে পারে। এরপর তারা দুটি এক্সপ্লোসিভ নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে থানা ভবন নিরাপদ করে। এ ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে। সিটিটিসি ইউনিট কাজ করছে। সেখানে পাওয়া বোমসদৃশ বস্তু, যা আসলেই বিস্ফোরক, কেন ও কোথা থেকে এলো তার তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার তিনজনের পেছনে আর কারা ছিল, তাদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে পুলিশ।

সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার হুমকির সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, গ্রেপ্তারকৃতরা কোনো জঙ্গি দলের সদস্য নয়। তারা কোনো অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা একটি অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছিল। সেটা কাউকে খুন করা, সম্পত্তি দখল বা ডাকাতি হতে পারে। নিজেদের নিরাপদ রাখতে বা পুলিশ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা বিস্ফোরকগুলো সঙ্গে রাখতে পারে। তদন্ত সন্তোষজনক পর্যায়ে এলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।

এর আগে সকালে পল্লবী থানার এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিন সন্ত্রাসীই বলেছে, ওজন মাপার মেশিনে বোমা রয়েছে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলকে ডাকা হয়। তাদের প্রথম দল পর্যবেক্ষণের পর দ্বিতীয় দল আসার আগেই বিস্ফোরণ ঘটে।

আরেকটি সূত্রের ভাষ্য মতে, পুলিশের ভুলে অসাবধানতার সঙ্গে ওজন মাপার মেশিনটি নাড়াচাড়া করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পল্লবী থানার দোতলার একটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জানালার গ্লাস ভেঙে যায়।

একজনকে দু'দিন আগেই ধরে নেওয়া হয়: যে তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তারের কথা বলছে তাদের মধ্যে শহিদুলকে কে বা কারা দু'দিন আগেই ধরে নিয়েছে বলে অভিযোগ করছে তার পরিবার। তার ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার তার ভাইকে তুলে নেওয়ার পর পল্লবী থানায় জিডিও করা হয়েছিল। বাসার কাছে আক্কাস আলীর দোকানে চা-বিস্কুট খাওয়ার সময় কালো মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর শহিদুলের খোঁজে ডিবি অফিস ও র‌্যাবেও যোগাযোগ করেন তারা।

পল্লবীর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সমকালকে জানান, শহিদুল অনেক সময়ই রাজনৈতিক মিছিল-সমাবেশে আসত। মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বাউনিয়াবাদ এলাকায় তার বাসা। শহিদুলের বাবার নাম আব্দুল কাদের। শহিদুল পেশায় বাসচালক।

টার্গেট রাজনৈতিক নেতা?: বিস্ফোরণের পর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল সন্ত্রাসীদের। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তৎপর ছিল পুলিশ। গ্রেপ্তার তিনজন পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের সহযোগী বলেও একটি সূত্র জানায়। তবে এ ব্যাপারে পরে আর বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ। এত শক্তিশালী বোমা সন্ত্রাসীরা কোন উৎস থেকে পেয়েছেন তা নিয়ে পুলিশ এখনও স্পষ্ট কিছু বলতে পারেনি।

সাধারণত সন্ত্রাসীরা কাউকে হত্যার টার্গেট করলে শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করতে দেখা যায়। অধিকাংশ ঘটনায় ক্ষুদ্র অস্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন জঙ্গিদের ব্যবহার করেছিল পরিকল্পনাকারীরা। তবে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে টার্গেট করে বড় ধরনের বোমা হামলার ঘটনা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঘটেনি।  পল্লবীতে যে ধরনের বোমা বিস্ফোরিত হয় তা যদি কোনো রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে তা নতুন উদ্বেগের বিষয়। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন জানান, গ্রেপ্তার তিনজন ভাড়াটে সন্ত্রাসী বলে তথ্য মিলেছে।

বিস্ফোরণে আতঙ্ক: সরেজমিন জানা যায়, পল্লবী থানা ভবনের দোতলায় পরিদর্শক (অপারেশন) ইমরানুল ইসলামের কক্ষে ওজন মাপার মেশিনটি রাখা ছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছিল। এর মধ্যেই প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে জানালার কাচ ভেঙে যায়। থানা ও বাইরে থাকা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পিবিআই ও র‌্যাবসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ভিড় জমান স্থানীয় অনেক মানুষ। বিস্ফোরণের পর কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকে পল্লবী থানার কার্যক্রম। পরে সব বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার পর আবারও কার্যক্রম শুরু হয়।

কেটে ফেলা হলো রিয়াজুলের কবজি-আঙুল: বিস্ফোরণে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাওয়ায় রিয়াজুলের বাম হাতের কবজি ও ডান হাতের একটি আঙুল কেটে ফেলেছেন চিকিৎসকরা। সিভিল সদস্য হিসেবে থানার পুলিশের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতেন রিয়াজুল।

ঢামেক হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, রিয়াজুলের পেটেও মারাত্মক জখম রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এসআই রুমির হাতে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। এদিকে পরিদর্শক ইমরানুল ইসলামের বাম পায়ের মাংস থেঁতলে গেছে। বাম চোখে জখম হয়েছে এসআই অঙ্কুশের। আর বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে এসআই সজীব খানের কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি কিছু শুনতে পারছেন না। তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

দুটি ইডি নিষ্ক্রিয়: ওজন মাপার মেশিনসদৃশ ডিভাইসের ভেতর মোট তিনটি ইডি ছিল বলে ধারণা করছেন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়েছে। দুটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।  সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের উপকমিশনার আব্দুল মান্নান জানান, বোমাগুলো ইডির আদলে তৈরি। সন্ত্রাসীরা কেন, কী উদ্দেশ্যে এসব তৈরি করেছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। সেখানে দুটি ইডি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের প্রধান এডিসি রহমত উল্লাহ চৌধুরী সমকালকে  বলেন, বিস্ফোরিত বোমা বেশ শক্তিশালী। তবে এর সঙ্গে উগ্রপন্থিদের সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য মিলেনি।

পল্টনের পর পল্লবী: সম্প্রতি জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সতর্কবার্তা জারির পর গত শুক্রবার পল্টনে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। রহস্যজনক সেই বিস্ফোরণের রেশ না কাটতেই পরদিন একই এলাকা থেকে একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। এর চার দিনের মাথায় পল্লবী থানায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।