কিলিং মিশনে অংশ নিতে ঘর ছেড়েছিল দুই ছাত্র

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের একটি স্কুল থেকে চলতি বছর এসএসসি পাস করে সাফফাত ইসলাম। একটি কলেজে পড়ে ইয়াসির আরাফাত। এই বয়সেই তারা অনলাইনের মাধ্যমে জড়িয়ে পড়েছে উগ্রবাদের অন্ধকার জগতে। জঙ্গি গ্রুপ নব্য জেএমবির সামরিক শাখার প্রশিক্ষণ নিয়ে যুক্ত হয়েছে 'এফজেড ফোর্স' নামে স্লিপার সেলে।

এক পর্যায়ে 'রাজনীতিবিদ আর নাস্তিকদের' হত্যার টার্গেট নিয়ে ঘর ছাড়ে এ দুই শিক্ষার্থী। কিন্তু নাশকতায় অংশ নেওয়ার আগেই কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যদের হাতে ধরা পড়ে তারা। সোমবার রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের জুলাইতে গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় নৃশংস হামলার পর নব্য জেএমবির নাম বেরিয়ে আসে। এ হামলার পর জানা যায়, অনেক শিক্ষার্থীই নব্য জেএমবিতে ভিড়ে কথিত হিজরতের নামে নাশকতা চালাতে ঘর ছেড়েছে। এর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সচেতনতা এবং নজরদারিতে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারে কমে আসে। তবে এ দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের পর নতুন ভাবনায় পড়েছেন সিটিটিসির কর্মকর্তারাও।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংগঠনে ১৮ বছর বয়সী সাফফাত ইসলামের নাম আবদুল্লাহ ওরফে উইলিয়াম ওরফে আল আরসালান ওরফে মেহেমেদ চাগরি বেগ। তার বাড়ি ঢাকায়। চলতি বছর সে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার বিসিএসআইআর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। গত ৪ জুলাই এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। ঘর ছাড়ার বিষয়টিকে জঙ্গি সংগঠনগুলো 'হিজরত' বলে থাকে। ২০ বছর বয়সী ইয়াসির আরাফাত ওরফে শান্তর বাড়ি কুমিল্লা। ২০১৭ সালে বরিশালের চাঁদপাশা ইউপি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর কলেজে ভর্তি হয় সে। গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আরাফাত ঢাকার কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর রামেরকান্দা এলাকায় পরিবারের সঙ্গেই থাকত। সাফফাতের সঙ্গে ৪ জুলাই সেও ঘর ছাড়ে।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার দু'জন নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। 'এফজেড ফোর্স' নামে স্লিপার সেলে এ দু'জনের সঙ্গে আরও ৬ থেকে ৭ জন সদস্য রয়েছে। সদরঘাটে তাদের সঙ্গে একত্রিত হতে এসে সাফফাত ও আরাফাত ধরা পড়ে। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশে তারা গত ৪ জুলাই 'হিজরত' করে। প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও তাদের ভাষায় নাস্তিক সম্পদশালীদের হত্যা করার নির্দেশ ছিল তাদের ওপর।

সিটিটিসির অপর এক কর্মকর্তা বলেন, টার্গেট বাস্তবায়নে তারা অস্ত্র সংগ্রহ এবং বোমা প্রস্তুত করার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টায় ছিল। এরই মধ্যে তারা পদ্মার কোনো একটি চরে গিয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, একটি চাকু, হাতে লেখা কিছু নির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনা সংবলিত ডকুমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব নথিতে তারা নিজেদের 'জুনুদউল্লাহ' বা আল্লাহর সৈনিক হিসেবে আখ্যায়িত করে। নথিতে বিশেষ বাহিনী, গুপ্তচর শাখা, সাইবার ইউনিট, স্নাইপার ইউনিট, ম্যানুফ্যাকচারিং শাখা তৈরি করার নির্দেশনা এবং কাজের পদ্ধতিরও উল্লেখ রয়েছে। পাঁচ দিনের রিমান্ডে তাদের এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।