কাঁঠালবাগানে শ্বশুরবাড়িতে সাবেক এমপির ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু

হত্যার অভিযোগ বাবার

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদ (৩৩) নামে সুপ্রীম কোর্টের এক আইনজীবীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছেন, দাম্পত্য কলহের জের ধরে তিনি ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তবে তার বাবা সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম খানের অভিযোগ, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র সমকালকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায় পুলিশ। মৃতের স্ত্রীসহ সংশ্নিষ্ট অন্যদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিছু আলামতও জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না। এ বিষয়ে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, কাঁঠালবাগানের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ১৬৩ নম্বর ভবনের নবম তলায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন ব্যারিস্টার আসিফ। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ওই ভবনের নিচে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গ্রিনলাইফ ও পরে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আসিফের বাবা শহিদুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি ছিলেন। তিনি সমকালকে বলেন, 'ছেলের শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। তাকে মারধর করে হত্যার পর ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। অথবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয় বলে আমরা সন্দেহ করছি। তারা (শ্বশুরবাড়ির লোকজন) বলছে, আসিফ লাফ দিয়েছে। কী ঘটেছে তা পুলিশের তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।'

স্বজনরা জানান, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ফেনীর অ্যাডভোকেট এস এম শহীদুল্লাহর মেয়ে সাবরিনা শহীদ নিশাতের সঙ্গে আসিফের বিয়ে হয়। সাবরিনাও এলএলবি পাস। বিয়ের পর থেকেই তাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। প্রায়ই তাদের মধ্যে কলহ হতো। বৃহস্পতিবার রাতেও তাদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়।

সাবরিনার ভাই সাইমন শাহিদ সাংবাদিকদের জানান, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে চার বছর আগে তার বড় বোন সাবরিনার সঙ্গে আসিফের বিয়ে হয়। আসিফের পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। তাই তিনি কাঁঠালবাগানে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তাদের কোনো সন্তান নেই। আসিফ মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে প্রায় চারমাস চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি নবম তলার বারান্দা থেকে লাফ দেন।

মৃতের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গভীর রাত পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া চলেছে। একপর্যায়ে সাবরিনার বাবা মেয়েকে ডেকে অন্য ঘরে নিয়ে যান। এরপর ভোরে শয়নকক্ষ সংলগ্ন বারান্দা থেকে আসিফ লাফ দেন। বারান্দায় কোমর অবধি উচ্চতা পর্যন্ত গ্রিল দেওয়া আছে, বাকিটা উন্মুক্ত। ঘটনার সময় আসিফ বিয়ার পান করছিলেন। ঘটনাস্থলে বিয়ারের ক্যান ও ঝগড়ার সময় ভেঙে ফেলা প্লেটের টুকরো পাওয়া গেছে।

আসিফের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বাগবাড়ি এলাকায়। তার বাবা শহিদুল ইসলাম ১৯৮৬-৯০ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের বেলকুচি-কামারখন্দ আসনের এমপি ছিলেন। মাঝে তিনি সস্ত্রীক কানাডায় বসবাস শুরু করেন। তবে আট-নয় মাস আগে তারা দেশে আসেন। ঢাকার মিরপুরের বাড়িতে তারা রয়েছেন।

আফিসের চাচা আলাউদ্দিন খান জানান, আসিফ মতিঝিলের দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশনের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবেও কাজ করতেন। ভোরে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফোন করে জানান, আসিফের অবস্থা ভাল নয়। তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পান।

এদিকে আসিফ-সাবরিনার বিয়েতে প্রথমে আপত্তি করলেও পরে তারা মেনে নেন এবং তারাই দু'জনের বিয়ে দেন বলে জানান আলাউদ্দিন খান।