হতাশা প্রকাশ ছাত্রলীগের

ধর্ষণের আসামিদের গ্রেপ্তারে আশ্বাসও পাননি ঢাবি ছাত্রী, অনশন চলছে

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২০   

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশনরত সেই ঢাবি ছাত্রীসহ অন্য শিক্ষার্থীরা      -সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশনরত সেই ঢাবি ছাত্রীসহ অন্য শিক্ষার্থীরা -সংগৃহীত ছবি

ধর্ষণে অভিযুক্ত এবং তার পৃষ্ঠপোষকদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে অনশনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষার্থীর দাবি এখনও পূরণ হয়নি। সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের আশ্বাসও পাননি তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন করেন ওই ছাত্রী। রাতে ওই শিক্ষার্থী বলেন, তার সঙ্গে অনেক সংগঠনই একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এ সময় তিনি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ধর্ষণ ও তাতে সহযোগিতার অভিযোগ এনে লালবাগ থানায় মামলা করেন ওই ছাত্রী। এতে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে প্রধান আসামি করা হয়। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। পরদিন বাদী কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। এখন পর্যন্ত এসব মামলায় কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাতে অনশনে বসেন তিনি।

তার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের ২২ নেত্রীও সেখানে অবস্থান নেন। শুক্রবার ছাত্রলীগসহ কয়েকটি নারী সংগঠনের নেতারাও তার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করেছেন। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ওই ছাত্রীর জন্য রাজু ভাস্কর্যে প্যান্ডেল তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত হাসান আল মামুনসহ এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে ছাত্রলীগ। শুক্রবার বিকেলে তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ ও সারাদেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশে এ হতাশার কথা ব্যক্ত করেন সংগঠনটির নেতারা।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, দক্ষিণের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেন প্রমুখ।

সমাবেশে লেখক ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের বোন একটি মামলা করেছে। যেখানে একটি সংগঠনের শীর্ষ নেতাকে আমরা জড়িত থাকতে দেখেছি। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছি, ধর্ষক যে-ই হোক, আপনারা তাকে গ্রেপ্তার করুন। প্রশাসন সবাইকেই গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ধর্ষণ মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

নাহিয়ান খান জয় বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ১৮ দিন আগে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। কিন্তু সেই ধর্ষককে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। তথাকথিত ছাত্র অধিকার পরিষদ শিবিরের বি-টিম হিসেবে কাজ করছে। ছাত্র অধিকার পরিষদ আজকে ধর্ষণ অধিকার পরিষদ হিসেবে কাজ করছে।