প্রেসক্রিপশন লিখতেন এসএসসি পাশ জামাই, সই করতেন ৩য় শ্রেণি পাশ শ্বশুর

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত -সমকাল

অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত -সমকাল

শ্বশুর নুর হোসেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পার করেননি। তৃতীয় শ্রেণি পাশ করার পরই স্কুল জীবনের ইতি টানেন তিনি। সেই শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়েই ডেন্টাল চিকিৎসক বনে গেছেন। তার এসএসসি পাশ জামাই জাহিদুল ইসলামও ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ। শ্বশুর-জামাই মিলে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ায় গড়ে তুলেছেন ডেন্টাল ক্লিনিক। জামাই রোগীর প্রেশক্রিপশন লেখেন আর শ্বশুর তাতে স্বাক্ষর করেন। 

চিকিৎসক সেজে রোগীর দাঁতের চিকিৎসা করিয়ে আসলেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে এবার আর রক্ষা হয়নি। সোমবার র‌্যাবের অভিযানে ধরা পড়েছেন ওই দুই ভুয়া চিকিৎসক। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত শ্বশুরকে দুই বছর এবং জামাইকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

র‌্যাব-৩ জানিয়েছে, দুপুরে তিলপাপাড়ায় জামাই-শ্বশুরের ডেন্টাল ক্লিনিকে অভিযান চালানো হয়। রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। 

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক সেজে তিলপাপাড়ার সাত নম্বরে সড়কে একটি বাসার নিচতলায় ডেন্টাল ক্লিনিক গড়ে তুলেছিলেন তারা। ডা. জিহান নামের একজন দাঁতের চিকিৎসক সেখানে ছিলেন। করোনায় তিনি চেম্বার ছেড়ে দেন। এর পরই নুর হোসেন ও জাহিদুল চেম্বার খোলেন।

তিনি আরও বলেন, ড. জিহানের পঞ্চগড় ডেন্টাল ক্লিনিক লেখা প্যাড ব্যবহার করতেন তারা। তবে বাইরের সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে 'হাসাঈনী ডেন্টাল' নামকরণ করেন তারা। চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কোনো প্রকার যোগ্যতা অর্জন না করেই তারা চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন মানুষের। নুর হোসেন আগে একটি ক্লিনিকে করতেন। জিহাদুল পাথর ব্যবসায় চাকরি করতেন। ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।