শিক্ষাঙ্গন

জগন্নাথের নতুন যাত্রা

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

লতিফুল ইসলাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল-সমকাল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল-সমকাল

পাঠশালা থেকে স্কুল, স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের ফলে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ পরিণত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠতে এখনও কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এবার প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পূর্তিকালে অনাবাসিক থেকে আবাসিকে উত্তরণ ঘটছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের। আজ মঙ্গলবার পুরান ঢাকায় অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা দিতে উদ্বোধন করা হবে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম হল 'বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের'।

এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২৭(৪) ধারা বাতিল, হল উদ্ধার ও হলের দাবিতে আন্দোলন এবং ক্যাম্পাস সম্প্রসারণসহ নানা পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নে ২০০ একর জমিতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে প্রথম হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সকাল সাড়ে ৯টায় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের উদ্বোধন করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। পরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আলোচনা সভা হবে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

১৯৯৫ সালের ২ নভেম্বর জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার ৯ বছর পর ২০০৪ সালের ৬ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প পাস হয়। জাতীয় সংসদে এ-সংক্রান্ত আইন পাসের পর ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।

এরপর এটি কয়েক বছর কলেজের ধাঁচে কার্যক্রম চালালেও ২০১১ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করে। ২০১৪ সালে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি কেরানীগঞ্জে ২২ বিঘা জমি কেনে। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদে ৩৬টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৮০০ শিক্ষক রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা খাতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমফিল প্রোগ্রামে ১৯৭ জন এবং পিএইচডিতে ৮০ জন শিক্ষার্থী গবেষণা করছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান সমকালকে বলেন, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়া এ প্রতিষ্ঠান এতদিন একটি সংকটের মধ্যে ছিল। তবে মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিক্ষক নিয়োগের মধ্য দিয়ে এটি একাডেমিকভাবে অনেক এগিয়ে গেছে। কেরানীগঞ্জে এর পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাসের কাজ চলছে। শিক্ষাঙ্গনে এ বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি নিয়েছে।