চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসে খুন

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

চাকরির পরীক্ষা দিতে নড়াইল থেকে ঢাকায় এসেছিলেন তুর্কী মুন্না ওরফে সংগ্রাম (২০)। তবে পরীক্ষা দেওয়ার আগেই মিরপুর-১ নম্বরে তাকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করেছে, তা এখনও রহস্যে ঘেরা।
শাহআলী থানার ওসি এবিএম আসাদুজ্জামান বলেন, নিহত তরুণের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। আশা করছি, শিগগিরই সব কিছু বেরিয়ে আসবে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, সংগ্রামের গ্রামের বাড়ি নড়াইল সদরে। তিনি সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে চলতি বছরে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। দুটি চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি গতকাল ভোরে গাবতলীতে এসে নামেন। মিরপুরে রহমত উল্লাহ নামে এক বন্ধুর বাসায় যাওয়ার কথা ছিল তার। রিকশায় সেখানে যাওয়ার পথে ভোর ৫টার দিকে শাহআলী থানার অদূরে মিরপুর-১ নম্বর ঈদগাহ মাঠের কাছে তার গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা। তারা সংগ্রামকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা পরে রাস্তার পাশে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
মুন্নার বন্ধু রহমত উল্লাহ জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সংগ্রামের সঙ্গে শেষবার কথা হয় তার। তখন সংগ্রাম জানিয়েছিলেন, ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। এর পর ভোর ৫টার দিকে শাহআলী থানা পুলিশ তাকে ফোন করে থানায় যেতে বলে। এতে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে তিনি তার বড় ভাই ও এক বন্ধুকে নিয়ে থানায় যান। তখন জানতে পারেন সংগ্রামের মৃত্যুর খবর। তবে তিনিও খুনের কারণ সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি।
এদিকে সংগ্রামের ঢাকায় আসার কারণ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। স্বজনদের কেউ বলছেন, শপিংমলে চাকরির জন্য তিনি ঢাকায় আসেন। আবার কেউ বলছেন, আইইএলটিএস পড়ার জন্য তিনি এসেছিলেন।
তবে পড়ালেখা বা চাকরি- যে কারণেই তিনি এসে থাকুন, তার সে ইচ্ছা অপূর্ণই রয়ে গেল।
মুন্নার স্বজনরা জানান, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন সংগ্রাম। এ জন্য সবাই তাকে খুব পছন্দ করত। লেখাপড়ায় আগ্রহী ছিলেন। উচ্চতর পড়ালেখা করার ইচ্ছা ছিল তার।
স্বজনরা খুনের কারণ সম্পর্কে বলতে না পারলেও একটি সন্দেহের কথা জানিয়েছেন। তা হলো- হত্যাকাণ্ডের আগে গ্রামের এক আত্মীয় তার মোবাইল ফোনে কল দেন। এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে।
শাহআলী থানার এসআই মতিউর রহমান জানান, মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের নিউ সি-ব্লকে ডেসকো অফিসের পাশে সংগ্রামের বন্ধু রহমত থাকেন। তিনি তার ঢাকায় আসার বিষয়ে জানেন। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।