এএসপি আনিসুল হত্যা

জিজ্ঞাসাবাদে ভুল স্বীকার মামুনের

কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা মনোরোগ চিকিৎসকদের

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কর্মচারীদের হাতে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিম শিপনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দু'দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. মামুন নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক হয়ে মাইন্ড এইডের অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে আনিসুলকে পাঠানো তার ঠিক হয়নি। তিনি আগে থেকেই জানতেন, ওই হাসপাতালে চিকিৎসার তেমন সরঞ্জাম নেই।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সমকালকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ডা. মামুন তার ভুল স্বীকার করেছেন। কমিশনের জন্য তিনিই সিনিয়র এএসপি আনিসুলকে মাইন্ড এইডে পাঠান। এমনকি আনিসুল মারা যাওয়ার পর মামুন নিজে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে মাইন্ড এইডে যান। সেখান থেকে দ্রুত মরদেহ সরিয়ে ফেলেন। ওই হাসপাতালের ম্যানেজারের সঙ্গে তার সাত-আটবার ফোনেও এ নিয়ে কথা হয়েছে। মাইন্ড এইড হাসপাতাল ঘিরে তার বড় স্বার্থ জড়িত ছিল।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের অভিযোগের বিষয়ে ডিসি হারুন অর রশীদ বলেন, ফৌজদারি অপরাধে কাউকে গ্রেপ্তার করতে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর প্রয়োজন হয় না। পুলিশ আইনের মধ্যে থেকেই ডা. মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ডা. মামুনকে গ্রেপ্তার করে দু'দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। এরই মধ্যে গ্রেপ্তার চার আসামির জবানবন্দি ও মোবাইল ফোনের রেকর্ডে মাইন্ড এইডের সঙ্গে তার সখ্যের বিষয়টি উঠে এসেছে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, মাইন্ড এইডে যারা পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুলকে চিকিৎসার নামে নির্যাতন করেছিল, তারা হলো- সেখানকার নার্স, ওয়ার্ডবয় ও ম্যানেজার।
এদিকে ডা. মামুনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত দু'দিন নিজেদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ রেখেছেন মনোরোগ চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, সহকর্মীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। গতকাল বিকেলে ঢাকার শ্যামলীতে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস (বিএপি)।
সংবাদ সম্মেলনে বিএপির সভাপতি অধ্যাপক ওয়াজিউল আলম চৌধুরীর পক্ষে লিখিত বক্তব্যে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ওই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রোগীর আত্মীয়ের মধ্যে পেশাদার চিকিৎসক থাকায় তারা নিজেরাই বেসরকারি মাইন্ড এইড হাসপাতালকে পছন্দ করেন। ইতোমধ্যে নিজেদের আগ্রহের জায়গা থেকে তারা ডা. মামুনের নম্বর সংগ্রহ করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দালালের মাধ্যমে ডা. মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলে যে কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
বিএপির লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আনিসুলকে যখন আনা হয়েছিল, তখন তিনি উত্তেজিত অবস্থায় ছিলেন। সেজন্য তিনজন পুলিশ সদস্যও ছিল তাকে শান্ত করার জন্য। ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পরীক্ষা করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু রোগীর স্বজনরাই তাকে সেখানে ভর্তি করতে অসম্মতি জানান, যা নথিতে লেখা আছে।
গতকাল মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ওই রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো পর্যায়েই ডা. মামুনের সংশ্নিষ্টতা ছিল না।