'ভাস্কর্য আর মূর্তি এক নয়'

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২০     আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট নেতৃবৃন্দ - সংগৃহীত

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট নেতৃবৃন্দ - সংগৃহীত

ভাস্কর্য ও মূর্তি এক নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি বা ভাস্কর্য মানেই শিরক নয়। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ মতামত তুলে ধরেন সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান। তিনি বলেন, পাকিস্তানপন্থিরা হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে এসেছে। তারা ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে।

রাজধানীর ধোলাইপাড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করছে কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল। এর জবাব দিতে 'ভাস্কর্যকে মূর্তি পূজার সঙ্গে তুলনার পোস্টমর্টেম' শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী জোট।

পবিত্র বোখারি শরিফের বরাতে জিয়াউল হাসান বলেন, হজরত আয়েশার (রা.) ঘরে ঘোড়ার ছোট মূর্তি রাখা ছিল। স্বয়ং রসুল (সা.) তা রাখতে নিষেধ করেননি। ওই ছোট পুতুল পূজার জন্য নয়, খেলার জন্য ছিল। একইভাবে যেসব ভাস্কর্য সৌন্দর্যবর্ধন বা ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিফলক হিসেবে স্থাপিত তা ইসলামী শিক্ষানুযায়ী নিষিদ্ধ নয়।

জিয়াউল হাসান লিখিত বক্তব্যে পবিত্র কোরআনের সুরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ভাস্কর্য বা প্রতিমা এক নয়। আয়াতে বলা হয়েছে- 'তারা সুলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্যদৃশ বৃহদাকার পাত্র নির্মাণ করিত। আমি বলেছিলাম হে দাউদ-পরিবার, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তোমরা কাজ করতে থাক।'

জিয়াউল হাসান বলেন, পবিত্র কোরআনে ভাস্কর্যকে 'তামাসিলা' এবং মূর্তিকে 'আসনাম' বলা হয়েছে। যারা এই দুই শব্দের একই অর্থ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান তারা কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কোরআনের অপব্যাখ্যাকারীদের চিনতে জনগণ একাত্তরে ভুল করেনি, এখনও করবে না। ভাষাশহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে যখন বাংলাদেশের মুসলমানরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, তখন তারা কেউই সেখানে ইবাদতের নিয়তে যান না। ফুল দিয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শহীদদের ত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় মাত্র।

জিয়াউল হাসান বলেন, সৌদি আরবের জেদ্দায় মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য রয়েছে। আরব আমিরাতে আছে ঘোড়া ও মাছের ভাস্কর্য। ইরানজুড়ে ভাস্কর্য রয়েছে। জীবের ভাস্কর্য যদি শিরক বা পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত না হয়, তবে এতে দোষের কিছু নেই।

ভাস্কর্য নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি ধার্মিকতার লক্ষণ নয় মন্তব্য করে জিয়াউল হাসান বলেন, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। আল্লাহর রাসুল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, হাটহাজারীর কাছে খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশপথে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিশাল ভাস্কর্য রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের নেতারা যদি ভাস্কর্য-বিরোধী হন, তবে এই ভাস্কর্য দেখাক।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জোটের সহসভাপতি মুফতি জোবাইদ আলী, প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবুল হোসেন প্রমুখ।