ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দায়িত্ব পালনকালে হামলা, আহত ২১ সাংবাদিক

দায়িত্ব পালনকালে হামলা, আহত ২১ সাংবাদিক

ছবি: ফোকাস বাংলা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১১:২৭ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৫:৫৯

বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে শনিবার রাজধানীতে ২১ সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের ওপর পেশাগত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকা ক্যামেরা ভাঙচুর, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাদের বহন করা গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ায় আহত হন কয়েকজন সাংবাদিক। গতকাল দিনভর কাকরাইল, বিজয়নগর, পল্টন ও দৈনিক বাংলা মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। 

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ (ডিইউজে) বিভিন্ন সংগঠন। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়ার রিপোর্টার শেখ নাছের ও তানভীর আহাম্মেদ, ইনকিলাবের সাংবাদিক এস এম মাসুম এবং কালবেলার ক্রাইম রিপোর্টার রাফসান জানিকে গুরুতর জখম করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৈনিক বাংলা মোড়ে ফেসবুকে লাইভ চলাকালে তানভীরের ওপর হামলা হয়। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কাকরাইল মোড়ে শেখ নাছেরের ওপর হামলা হয়। তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাফসানের সঙ্গে থাকা কালবেলার সিনিয়র প্রতিবেদক রাজন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কাকরাইল মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীর সংঘর্ষ চলাকালে ভিডিও ফুটেজ নিচ্ছিলেন রাফসান। পুলিশের ওপর হামলার ফুটেজ সংগ্রহকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর হামলা চালান।

তিনি আরও বলেন, এ সময় রাফসানের গলায় কালবেলার আইডি কার্ড ঝুলানো থাকলেও তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। এ সময় রাফসানের মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। তাঁর অবস্থা গুরুতর।

ইত্তেফাকের তানভীরের সঙ্গে থাকা এবিসি নিউজের মুজাহিদ বলেন, ‘আমরা যখন একসঙ্গে লাইভ শুরু করি, তখন মুখ বাঁধা অবস্থায় কয়েকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তানভীরের হাতে-পায়ে ও পিঠে আঘাত করা হয়। হামলার আগে তারা লাইভ বন্ধ করতে বলেছিল।’

শেখ নাছেরের ওপর হামলার বর্ণনা দিয়ে সমকালের সাংবাদিক মামুন সোহাগ বলেন, ‘কাকরাইলে আমরা (সাংবাদিকরা) ফুটেজ সংগ্রহ করছিলাম। হঠাৎ করে একজন মধ্যবয়সী লোক জিজ্ঞাসা করেন, ছোট ভাই এখানে কী হচ্ছে। তিনি (শেখ নাছের) বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষ হচ্ছে। আমরা লাইভ কাভারেজ দিচ্ছি। এর পরই কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে আসেন ওই লোক। তারা বলতে থাকে, ইত্তেফাকে বিএনপির বিপক্ষে নিউজ করা হচ্ছে।’

রাজারবাগ এলাকায় একুশে টেলিভিশনের গাড়িতে হামলা হয়েছে। এতে আহত হন সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান ও ক্যামেরাপারসন আরিফুর রহমান। দুপুরে নটর ডেম কলেজের সামনে বিএনপির কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন ভোরের কাগজের ফটো সাংবাদিক মাসুদ পারভেজ আনিস। তিনি জানিয়েছেন, তাঁকে মারধর করে ক্যামেরা নিয়ে গেছে যুবদল ও জামায়াতের কর্মীরা। আওয়ামী লীগের পোস্টার-ফেস্টুনে রাস্তার মাঝে আগুন দেওয়ার ছবি তুলতে গেলে তারা হামলা চালায়।

নয়াপল্টন-সংলগ্ন নাইটিংগেল মোড়ে বিএনপি কর্মীদের হাতে আহত হয়েছেন সময় টিভির সাংবাদিক মারুফ, কালবেলার সাংবাদিক আবু সালেহ মুসা, রবিউল ইসলাম রুবেল এবং তৌহিদুল ইসলাম তারেক।

এ ছাড়াও আহত হন সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদক মুহাম্মদ আলী মাজেদ, গ্রিন টিভির বিশেষ প্রতিনিধি রুদ্র সাইফুল্লাহ ও ক্যামেরাপারসন আরজু, ঢাকা টাইমসের স্টাফ রিপোর্টার সালেকিন তারিন, শেয়ার বিজের সাংবাদিক হামিদুর রহমান (পুলিশের টিয়ার গ্যাসের শেলে), নিউএজের আহমেদ ফয়েজ, বাংলা ট্রিবিউনের সালমান তারেক শাকিল, ফটো সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন এবং জোবায়ের আহমেদ, ব্রেকিং নিউজের ক্রাইম রিপোর্টার কাজী ইহসান বিন দিদার, দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাংবাদিক আরিফুর রহমান রাব্বি।

সংঘর্ষ চলাকালে নাইটিংগেল মোড়ে যমুনা টেলিভিশনের একটি গাড়ি ভাঙচুর ও রাজারবাগে মানবকণ্ঠের মনির জারিফের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই মোটরসাইকেলে প্রেস লেখা ছিল।

এসব ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ, ডিইউজের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী ও আখতার হোসাইন এবং কূটনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ডিক্যাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস ও ইমরুল কায়েস প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×