ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক আহসান হাবিবকে ইউরোপের মাল্টায় পাঠনোর প্রলোভন দেখায় মানব পাচার চক্রের সদস্য মামুনুর রশিদ মামুন। বিনিময়ে দাবি করে ১২ লাখ টাকা। উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় আহসান রাজি হন এবং গত বছরের মে মাসে মামুন ও তার চক্রের অন্য সদস্যদের হাতে আট লাখ টাকা তুলে দেন। 

তাকে বলা হয়, ভারতের হায়দরাবাদ থেকে মাল্টার ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। এর পরই তাকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতের হায়দরাবাদে পাঠানো হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে আরও চার লাখ টাকা দাবি করে চক্রের সদস্যরা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় নির্যাতন। আহসানের বাবা চার লাখ টাকা দেন মামুনের ভাই সুমনকে। পরে আহসানসহ ১৯ জনকে হায়দরাবাদ থেকে ট্রলারে করে শ্রীলঙ্কার একটি জঙ্গলে নিয়ে যায় মানব পাচারকারীরা। জঙ্গলে যাওয়ার পর আহসান বুঝতে পারেন, সেখানে তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করা হবে। কৌশলে তিনি দেশে পালিয়ে আসেন।

ইউরোপে পাঠানোর নামে এই মানব পাচারকারী চক্র নিরীহ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো হাবিবুর রহমান, মামুনুর রশিদ মামুন, জামাল হোসেন ও নাহিদুল ইসলাম পলাশ। বুধবার রাজধানীর উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২৮টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন দূতাবাস, ব্যাংক ও এজেন্সির ১৯টি সিল এবং কম্বোডিয়ার ১০টি জাল ভিসা জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার হাবিবুরের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের নুরজাহানপুর, মামুনের বাড়ি একই জেলার ওয়ারু গ্রামে, জামালের বাড়ি ঢাকার উত্তরায় এবং নাহিদুলের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের জাফরনগরে।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের বাংলাদেশি সদস্যরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে লোক সংগ্রহ করে। তারা অনুমোদনহীন এজেন্সির মাধ্যমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অনুমোদন ছাড়া প্রথমে ট্যুরিস্ট ভিসায় লোকজনকে ভারতে পাঠায়। ভারতে নিয়ে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় টাকার জন্য। দেশে স্বজনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের পর ভুয়া ভিসায় শ্রীলঙ্কায় নিয়ে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয় বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এই সংঘবদ্ধ চক্রে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার দালালরা জড়িত।